একজন প্রিন্সেস পরীর গল্প

সারিয়া জেরিন নূর হিয়া

অনেক অনেক আগের কথা। এক ছিল পরী। তার নাম ছিল প্রিন্সেস পরী। কিন্তু সবাই তাকে মিনি পরী বলে ডাকত। প্রিন্সেস এই নাম পছন্দ করত না। শুধু বলত, আমাকে সবাই কেন মিনি বলে ডাকে? এই কথা সে অন্য পরীদের বলল। শুনে অন্য পরীরা বলল, তোমাকে সবাই মিনি বলে ডাকে, কারণ তুমি শুধু মিয়াও মিয়াও বলে ডাকো ও শুধু সবার বাসায় উড়ে উড়ে গিয়ে চুরি করে দুধ খাও। তাই তোমাকে সবাই মিনি পরী বলে ডাকে। তারপর প্রিন্সেস পরী সিদ্ধান্ত নিলো যে, সে আর কারো বাসা থেকে চুরি করে দুধ খাবে না এবং মিয়াও মিয়াও বলবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সে মানতে পারল না। কারণ, সে লোভ সামলাতে পারে না। যখনই কারো বাসায় দুধ দেখে তখনই সে দুধ খেতে যায়। তাই সে এসব সিদ্ধান্ত পালন করতে পারল না।
একদিন হঠাৎ একজন লোক প্রিন্সেস পরীর কাছে এলো। প্রিন্সেস পরী বলল, কী হয়েছে আপনার? লোকটি বলল, আমার ছেলে শুধু মানুষের বাসায় গিয়ে চুরি করে দুধ খায়। আর মিয়াও মিয়াও বলে ডাকে। আমি এখন কী করব, প্রিন্সেস পরী? প্রিন্সেস পরী মনে মনে বলল, এখন আমি কী করব? আমিও তো এই কাজ করি। তাই সে উত্তরে বলল, আচ্ছা আপনি কয়েক দিন পরে আসেন। এই প্রশ্নের উত্তর আমি কয়েক দিন পরে দেব। এরপর প্রিন্সেস পরী সত্যি সত্যি দুধ চুরি করে খাওয়া বন্ধ করল। মিয়াও মিয়াও বলাও বন্ধ করে দিলো। তার কয়েক দিন পর লোকটি আবারো প্রিন্সেস পরীর কাছে এলো। তখন প্রিন্সেস পরী তাকে বলল, আপনি ওকে বলবেন যে এভাবে দুধ চুরি করে খেলে কেউ তোমাকে ভালো বলবে না। সবাই খারাপ বলবে। আর বলবেন যে আমি তোমাকে দুধ কিনে এনে খাওয়াব। তাহলে তুমি আর মানুষের বাসায় চুরি করে দুধ খাবে না, ঠিক আছে? আর কখনো মিয়াও মিয়াও বলবে না। তারপর প্রিন্সেস পরীও ভালো হয়ে গেল। সেদিন থেকে সবাই তাকে প্রিন্সেস পরী বলে ডাকতে লাগল। প্রিন্সেস পরি খুব খুশি হলো।
লেখিকা তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.