ads

অশোক

ইমরুল হাসান

তোমরা বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে জানো। হয়তো অশোক গাছ সম্পর্কেও তোমাদের ধারণা আছে।
বলতে পারো, গাছ আমাদের কী দিয়ে সহায়তা করে? গাছ আমাদের অক্সিজেন এবং ফুল-ফল দিয়ে সহায়তা করে। রোদে ছায়া দেয় ক্লান্ত পথিককে। গাছপালা বাঁচার জন্য অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন দেয়। আবার আমরা যে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করি তা গ্রহণ করে বাতাস নির্মল রাখে এই গাছ। আর আমরা সেই গাছকে নির্দয়ভাবে কেটে ফেলি। অক্সিজেন দেয়ার পাশাপাশি নানা গুণে ভরা একটি গাছের কথা শোনো।
ফুল বেশ সুন্দর ও গাছ ঔষধি গুণে ভরা এমন একটি গাছ অশোক। অশোক মাঝারি আকারের বৃক্ষ। গাছ ছয় থেকে সাত মিটার উঁচু হয় এবং সারা বছর ঘন সবুজ পাতায় ছেয়ে থাকে। পাতা দেখতে অনেকটা জাম পাতার মতো লম্বাটে। কচি পাতা তামাটে বর্ণের। গাছের আগায় একগুচ্ছ কচি পাতা মরা পাতার মতো ঝুলে থাকে। তামাটে সেই পাতায় আস্তে আস্তে সবুজ রঙ ধরে এবং শক্ত হয়ে সাধারণ পাতায় পরিণত হয়। বসন্তে প্রতিটি ডালের আগায় ফুল ফোটে। অনেক গাছে ফুল ফোটে গাছের গোড়া পর্যন্ত। ছোট ছোট তারার মতো ফুল ফোটে একসাথে গুচ্ছাকারে। ফুল প্রথমে ফোটে হলদে রঙের। এক দিন পর সেই ফুল কী রঙ ধারণ করে? লাল রঙ। এক গুচ্ছে কিছু ফুল হলুদ আর কিছু ফুল লাল বলে আগুনের মতো বর্ণ মনে হয়। দূর থেকে দেখে মনে হয় গাছে আগুন লেগেছে। অশোকের গাছে ফুল থাকে বর্ষা পর্যন্ত। এ গাছের ফল লম্বা ও চ্যাপটা বড় শিমের মতো। বীজ বড় আকারের। বীজ থেকেই সাধারণত চারা জন্মে। গাছে ফুল আসতে চার-পাঁচ বছর সময় লাগে। অশোকের বাকলে ভেষজ গুণ আছে। এ গাছ দুষ্প্রাপ্য নয়। ঢাকার বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে অশোক আছে। অশোকের বৈজ্ঞানিক নাম ঝধৎধপধ রহফরপধ. সুন্দর ফুল অশোকের আরো দু’টি প্রজাতির দেখা মেলেÑ স্বর্ণ অশোক ও রাজ অশোক। সুন্দর ফুল, সুন্দর গাছ।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.