ads

অষ্টপ্রহরের ঘোষক

আব্দুস সালাম

এক গ্রামে মজনু মিয়া নামে দরিদ্র একজন দিনমজুর বাস করত। সে শহরে গিয়ে কাজ করত। প্রতিদিন ভোরবেলায় সে ঘুম থেকে ওঠে হালকা নাশতা-পানি খেয়ে শহরের উদ্দেশে রওনা দিত। শহরে পৌঁছে চৌরাস্তার মোড়ে অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে যোগ দিত। যেসব মালিক কাজের জন্য শ্রমিকের দরকার হতো তারা খুব সকালেই ওই চৌরাস্তার মোড়ে এসে উপস্থিত হতো। মালিকরা শ্রমিকদের সাথে কথাবার্তা বলে তাদের কাজে নিয়ে যেত। কোনো শ্রমিক যদি ওই সময় চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত হতে না পারত, তাহলে সে আর ওই দিন কোনো কাজ পেত না। কোনো রোজগার ছাড়াই তাকে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হতো।
মজনু মিয়ার বৌ গ্রামে মোরগ-মুরগি পুষত। মুরগির ডিম বিক্রি করে তাদের কিছু রোজগার হতো। তাদের এই সামান্য রোজগার দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে যেত। মজনুদের একটা মোরগ ছিল। মোরগটি মজনু মিয়ার খুব উপকার করত। ভোরবেলায় মোরগটি যখন বাক দিত, তখন তার ঘুম ভেঙে যেত। কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্নের কারণে সূর্য ওঠার সময় বোঝা না গেলেও মোরগটি ঠিকই সময় বুঝতে পারত। মোরগ হলো অষ্টপ্রহরের ঘোষক। সে প্রতিটি প্রহরের সূচনাতেই বাক দেয়। এসব নানা কারণে মোরগটিকে মজনু মিয়া খুব আদরযতœ করত। মজনু মিয়ার স্ত্রী যুক্তি দিয়ে অনেকবার বলেছে, মোরগটি ডিম পাড়ে না। শুধু বসে বসে খায়। ওটা জবাই করে খেয়ে ফেলাই ভালো। সে যতবার মোরগটিকে জবাই করতে উদ্যত হয়েছে, ততবারই মজনু মিয়া বাধা দিয়েছে। তাই সে জবাই করতে পারেনি। সে তার স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়ে বলেছে, মোরগ দু’টি বেঁচে থাকলে তার কী কী উপকার হয়। তবুও তার স্ত্রী স্বামীর কথায় গুরুত্ব দেয়নি।
একদিন মজনু মিয়ার বাড়িতে কিছু মেহমান বেড়াতে এসেছিল। তখন সে শহরে কাজে ছিল। মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য বাড়িতে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। তার স্ত্রী মনে মনে ভাবলÑ একটা মোরগ জবাই করলেই ভালোভাবে মেহমানদারি করা যাবে। জবাই করার জন্য সে মোরগটিকে বেছে নিলো। সে মনে মনে ভাবল মোরগটিকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। সে শুধু বসে বসে খায়। ওকে জবাই করাটাই শ্রেয় হবে। স্বামীর নিষেধের কথা ভুলে সে মোরগটিকে জবাই করল। তারপর মোরগের গোশত দিয়ে মেহমানদের খানাপিনার ব্যবস্থা করল। রাতে মজনু কাজ থেকে বাড়িতে ফিরে এলে তার স্ত্রী তাকে সব ঘটনা খুলে বলল। এতে মজনুর মনটা ভীষণ রাখাপ হলো। সে স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হলো। সেদিন রাতে মোরগের চিন্তায় তার ঠিকমতো ঘুম হলো না।
কয়েকদিন যেতে না যেতেই মজনু মিয়া সমস্যায় পড়ে গেল। সারা দিন কাজ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে মজনু যখন ঘুমাতে যায়, তখন সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ভোরে তার ঘুম ভাঙে না। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হতো বলে তার শহরে যেতেও দেরি হয়ে যেত। এর ফলে সে কোনো কাজ পেত না। অর্থ রোজগার ছাড়াই তাকে শূন্য হাতে ফিরতে হতো। ঠিকমতো আয় রোজগার না হওয়ার কারণে সংসারে আরো বেশি অভাব-অনটন দেখা দিলো। মোরগটি বেঁচে থাকলে তাদের হয়তো এই সমস্যা হতো না। মজনুর স্ত্রী এখন বুঝতে পারছে যে, স্বামীর আদেশ অমান্য করা তার মোটেও ঠিক হয়নি। মোরগটি জবাই করার কারণে সে অনুতপ্ত হলো।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.