মুক্ত সালমানকে নিয়ে ভক্তদের উল্লাস
মুক্ত সালমানকে নিয়ে ভক্তদের উল্লাস

মুক্ত সালমানকে নিয়ে ভক্তদের উল্লাস

নয়া দিগন্ত অনলাইন

অনেক গুলো ‘কিন্তু’ সামনে এসে দাড়িয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সালমান খানের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন যোধপুর সেশন কোর্টের বিচারক রবীন্দ্র কুমার যোশি। ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ডে তিনি এই বলিউড তারকাকে জামিন দিয়েছেন। রাজস্থানের যোধপুর জেলা আদালত ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত জামিন বন্ডে সালমান খানকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ জারি করে।

তবে তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না। আদালতের নির্দেশ জেলে পৌছানোর পরই জেল থেকে ছাড়া পান সালমান খান।

২০ বছর আগে দুটি বিপন্ন প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করার কারণে সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত। ওই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ছয় বছরের জেল।

রাজস্থানের যে বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে চিরাচরিতভাবে রক্ষা করে এবং ওই দুটি হরিণকে শিকার করার দায়ে যারা সালমান খানকে অভিযুক্ত করে কুড়ি বছর ধরে মামলা চালিয়েছে, তারা এই জামিনের বিরোধিতা করতে চলেছে হাইকোর্টে।

শুক্রবার সালমান খানের জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তার আইনজীবিরা, তবে শুনানি অসমাপ্ত ছিল।
আর যে আদালতে জামিন-আবেদনের শুনানি চলছিল, সেই বিচারক রবীন্দ্র কুমার যোশীসহ মোট ৮৭ জন বিচারপতির বদলির নির্দেশ আসে গত রাতে।

তারপরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এই কারণে যে জামিন মামলার আবেদন যোশী আর শুনতে পারবেন কী না বা তার ওপরে আদেশ দিতে পারবেন কী না, তা নিয়ে। শনিবার সকালে এজলাসে বসার পরে সব পক্ষের সওয়াল জবাব শুনতে শুরু করার পরে মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে যোশীই রায় দেবেন।

ওদিকে, সালমান খানের জামিন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই যোধপুর, মুম্বাই সহ ভারতের নানা জায়গায় তার ভক্তরা আনন্দ উৎসবে মেতেছে। কোথাও বাজি ফাটানো হচ্ছে, কোথাও স্লোগান দিচ্ছেন ভক্তরা।

এদিকে সালমান খানের মুক্তির জন্য মন্দিরে পূজা দিয়েছেন তার ধাঁই মা রুক্মাণী বাই। তার হাতেই ইন্দোর নার্সিং হোমে ১৯৬৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর জন্ম হয়েছিল সালমান খানের।

এরই মধ্যে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পরপর দুই রাত থেকেছেন সালমান খান। সেখানে কুলার খাট ও চারটি কম্বল দেওয়া হয় তাকে। সালমান খান উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন। শুক্রবার রাতে তার রক্তচাপ বেড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর রক্তচাপ কমানোর জন্য আদালতে সালমানকে ওষুধ খেতে দেখা যায়। কারাগারে ঢোকার পর থেকেই তার শরীর খারাপ হতে শুরু করে। রাতে রুটি, ছোলার ডাল কিংবা বাঁধাকপির তরকারি দেওয়া হলেও কিছুই খাননি সালমান। গতকাল সকালেও চা, ডালিয়া কিংবা খিচুড়ি খাননি। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় শুধু চা আর গ্লুকোজ বিস্কুট খান তিনি। এরপর দুধের জন্য আবেদন করেন।

আগেই জানানো হয়েছে, সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভারতের রাজস্থান রাজ্যের যোধপুরের একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে। তাঁকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০ বছর আগের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার রায় হয় গত বৃহস্পতিবার সকালে। এই মামলায় অন্য তিন অভিযুক্ত সাইফ আলী খান, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রেকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

বলিউডে সালমান খানকে বলা হয় ‘হিট মেশিন’। বৃহস্পতিবার সকালে রাজস্থানের যোধপুর আদালতে সেই সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়ায় থমকে যায় বলিউড। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন অনেক চিত্র প্রযোজক। কারণ, এরই মধ্যে এক হাজার কোটি রুপির বেশি লগ্নি করা হয়েছে এই নায়ককে ঘিরে।

এদিকে রায় হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে সালমান খানের আইনজীবী এইচ এম সারস্বত দাবি করেন, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন। এমনকি বন্দুকের গুলিতেই যে কৃষ্ণসার দুটির মৃত্যু হয়েছিল, তা-ও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি। গত ২৮ মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের দাবি, ১৯৯৮ সালের ১ ও ২ অক্টোবর যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের মাঝে আলাদা আলাদা জায়গায় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন সালমান খান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান, নীলম, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রে।

রাজস্থানের যোধপুরের কঙ্কানি এলাকায় গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিষ্ণোইর অধিবাসীদের অভিযোগ, গুলির শব্দ শুনে তাঁরা সালমানের জিপসি গাড়িটি ধাওয়া করেন।  কিন্তু তাদের ধরা যায়নি। ওই সময় চালকের আসনে ছিলেন সালমান খান। গ্রামবাসীর দাবি, প্রবল গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে সালমান খান আর তাঁর সঙ্গীরা পালিয়ে যান।

বেআইনিভাবে জঙ্গলে ঢোকার অভিযোগে সালমান খান আর অন্য তিন তারকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯ নম্বর ধারায় মামলা এখনো চলছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.