ads

প্রিয়তি চারাগল্প

মোনোয়ার হোসেন

বৃষ্টি পড়ছে। ঝুম বৃষ্টি। আমি করিডোরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছি। হঠাৎ মনে পড়ে প্রিয়তির কথা। মেয়েটা ভীষণ বৃষ্টি পাগল। শুধু বৃষ্টি এলেই হলো। ছোট শিশুর মতো বৃষ্টির পানিতে ভিজবে, হাসবে, বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলা করবে। এক বর্ষায় ঝুম বৃষ্টি পড়ছিল। সে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমার হাত ধরে বলল, ইশ, আজকের মতো যদি বছরের ছয়টি ঋতুই বর্ষাকাল হতো তাহলে আমি প্রতিদিনই বৃষ্টির পানিতে ভিজতাম। প্রিয়তির ছেলেমানুষি কথা শুনে আমি হেসে বলি, এক বর্ষায় ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটের যা অবস্থা হয়, আর যদি ছয়ঋতুই বর্ষাকাল হতো তা হলে ঢাকা শহরকে আর খুঁজে পাওয়া যেত না। প্রিয়তি তির্যক চোখে তাকায় আমার দিকে। খোঁচা দিয়ে বলে, তুমি সারাজীবনই রসকষহীন মানুষ থেকে গেলে, একটুও বদলাতে পারলে না। তুমি আসলেই একটা আঁতেল। চোখের সামনে থেকে দূর হও, যাও ...।
আমি প্রিয়তির চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি, ওর চোখ জলে ছলছল করছে। মেয়েটা বড্ড ছেলেমানুষি, বড্ড বেশি অভিমানি।
আজ কেন যেন প্রিয়তির সাথে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু আজ আর সেই সাধ্য নেই। আজ আমি অনেক দূরে।
প্রিয়তি কপালে টিপ পরে। তার টিপ কপাল দেখলে মনে হয় যেন প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে ছোট একটি দ্বীপ। ভালোবাসার অথৈ সমুদ্রে পড়া নাবিক যেখানে শেষ আশ্রয় নিতে পারে। আজ খুব খুব মনে পড়ছে প্রিয়তিকে। ইশ! পাগলিটা যদি পাশে থাকত, গালে গাল ঠেকিয়ে বৃষ্টি দেখতাম!
পরের দিন অফিসে গিয়েই ছুটি নিলাম। বাড়িতে বললাম না। প্রিয়তিকে সারপ্রাইজ দেবো বলে। বাড়ি পৌঁছে দেখি প্রিয়তি ঘুমোচ্ছে। কপালে সুন্দর একটি লাল টিপ। টিপে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে। কাছে গিয়ে দেখি, আমার দেয়া লাল টিপটাই পড়েছে সে।
গত বছর তার জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলাম।
টিপটা কপালের ডান দিকে কিছুটা বাঁকিয়ে গেছে। ঠিক করে দিতে গিয়ে হাত গুটিয়ে নিলাম। মনে হলো কপাল ছুঁতে গেলে এক্ষনি ঘুম ভেঙে যাবে তার। ঘুমোচ্ছে, এখন ঘুমাক। হাত গুটিয়ে চুপিচুপি ওর কাছ থেকে চলে আসতেই ও খপ করে আমার ডানহাতটা ধরে ফেলল।
আমি চমকে উঠে পেছন ফিরে ওর দিকে তাকালাম।
দেখি প্রিয়তির ঠোঁটে দুষ্টুমি হাসি। ও হেসে বলল, কী বাঁকানো টিপটা ঠিক করে দেবে না?
সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.