কলেজছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন
কলেজছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন
কলেজছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন

ডান হাত নেই বুঝতে পেরে ভেঙে পড়েছেন রাজীব

আমিনুল ইসলাম

রাজধানীর কাওরানবাজারে বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া রাজীব হোসেন বুঝতে পেরেছেন তার ডান হাত আর নেই। এত দিন শুধু অবচেতন অবস্থায় বলেছিলেন ‘আমার ডান হাতটা একটু সোজা করে দেও’। কিন্তু সে সময় কেউ তার হাত সোজা করে দেয়নি। এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন তার ডান হাতটাই নেই। এটা বুঝতে পেরে প্রচণ্ডভাবে ভেঙে পড়েছেন রাজিব। কারো সাথে কথা বলছেন না তিনি। খেতেও চাইছেন না কিছুই। শুধু বলছেন, ‘খাবার খেয়ে আর কী হবে। এই অবস্থায় বেঁচে থেকে কী লাভ।’
রাজীবের স্বজনেরা বলছেন, ঘটনার পর থেকেই অচেতন ছিলেন রাজীব। মাঝে মধ্যে চেতন অবস্থায় থাকলেও তিনি বুঝতে পারেননি তার হাতটি ঘাতক বাস ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। গত শনিবার থেকেই বুঝতে পেরেছেন তার হাত শরীরের সাথে নেই। চিকিৎসকেরা বলছেন, রাজীবের শারীরিক অবস্থার আগের চেয়ে একটু ভালো। তবে আজ আরো একবার সিটিস্ক্যান করা হতে পারে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাবে।
রাজীবের খালা জাহানারা বেগম বলেন, ঘটনার পর থেকে রাজিব অচেতন ছিলেন। তিনি চোখই খুলতে পারতেন না। দু-এক দিন পর সামান্য চোখ খুলতে শুরু করেন তিনি। এরপর অর্ধচেতন অবস্থায় শুধু বলতে থাকেন ‘আমার ডান হাত সোজা করে দেও। কিন্তু আমরা হাত সোজা করতে পারিনি। কি করে করব, তার তো হাতই নেই। বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি আরো জানান, গত শনিবার থেকে কিছুটা সুস্থবোধ করতে থাকেন তিনি। এরপর নিজেই বুঝতে পারেন তার হাত নেই। সে থেকেই চুপচাপ হয়ে গেছেন রাজীব। কারো সাথে কথা বলতে চাইছেন না। খাবার নিয়ে গেলে রেগে যাচ্ছেন তিনি। অথচ চিকিৎসকেরা তাকে তরল খাবার দিতে বলেছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান ডা: শামসুজ্জামান শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, রাজীবের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তবে আরো এক দফা সিটি স্ক্যান করতে হবে। ওই রিপোর্ট পাওয়া গেলে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু হাতে আঘাত নয়, তার মাথায় আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। ব্রেইনের সামনের অংশে চির দেখা দিয়েছিল। দ্বিতীয়বারের সিটিস্ক্যানে মাথার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল দুপুরে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটির গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জোড়া লাগাতে পারেননি। পরে গত বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাজীব হোসেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন। পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন স্বজনদের সহযোগিতায়। রাজীবের মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। রাজীব টিউশনি করতেন এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.