শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

মালেক আদনান টাঙ্গাইল

আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিনুল মুন্সিকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল টাঙ্গাইলের স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া এলাকার শমসের কারিগরের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় দেয়া হলো। ওই সময় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অন্যতম নেতা আমিনুল মুন্সির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে হইচই পড়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি মুস্তাফিজুর পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, আমিনুল মুন্সি ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল মুস্তাফিজুর রহমান আশুলিয়ার অফিস থেকে আমিনুলকে ডেকে নিয়ে যান। পরদিন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ব্রাহ্মণশাসন এলাকা থেকে আমিনুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে লাশটি পড়েছিল। প্রথমে লাশের পরিচয় না পাওয়ায় ঘাটাইল থানায় জিডির পর ময়নাতদন্ত শেষে ৬ এপ্রিল বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয় এবং লাশের পরিচয় জানার জন্য পুলিশ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। ৭ এপ্রিল নিহতের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম পত্রিকায় ছবি দেখে আমিনুল ইসলামকে শনাক্ত করেন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই দিনই আমিনুলের লাশ কবর থেকে তুলে তাদের নিজগ্রাম গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হিজলহাটিতে নিয়ে আবার দাফন করা হয়। পরে এ ঘটনায় ঘাটাইল থানা পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ডিবি পুলিশ এ মামলার তদন্ত শেষে মুস্তাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মুলতান উদ্দিন বলেন, আমিনুল ইসলাম শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই আসামি মুস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন। মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী ছিলেন গোলাম মোস্তাফা মিয়া।
অন্য দিকে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার নয়া দিগন্তকে বলেন, এ মামলায় সঠিকভাবে তদন্ত না করেই পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। কেননা একজনের পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। অথচ পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত করতে পারেনি। এ ছাড়া পুলিশ অভিযুক্ত আসামিকেও গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.