মডেল : সাদিয়া ইসলাম মৌ, পোশাক : বিশ্বরঙ; ছবি : সালেক বিন তাহের
মডেল : সাদিয়া ইসলাম মৌ, পোশাক : বিশ্বরঙ; ছবি : সালেক বিন তাহের

সাজে বোশেখ বরণ বৈশাখী আয়োজন

নুজহাত খান

নববর্ষের উৎসবে সাজে, পোশাকে কিভাবে হয়ে উঠবেন অনন্য সে বিষয়ে জানাচ্ছেন পারসোনা বিউটি স্যালুনের পরিচালক নুজহাত খান

উৎসবপ্রিয় বাঙালির কাছে বৈশাখের প্রথম দিন বরাবরই জনপ্রিয়। উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর প্রস্তুতির পাশাপাশি থাকে ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠার চেষ্টা থাকে সাজে, পোশাকে। কেউ বেছে নেন একদম ক্ল্যাসিক মেকআপ লুক, তো কারো পছন্দ হালের মেকআপ ট্রেন্ড মেনে চলা। ঐতিহ্যের সাথে সমকালীন আভিজাত্যের মেলবন্ধনেও অনেকে সেজে ওঠেন বছরের প্রথম দিন। তবে ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রথম বিষয় হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা।
পয়লা বৈশাখে সাজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ থাকে বটে। কিন্তু বিপত্তি বাধায় গরম। সকাল থেকে রাত অবধিÑ পুরোটা সময় সাজ ঠিকঠাক রাখাটাই কঠিন কাজ হয়ে ওঠে। তবে সহজ কিছু নিয়মে সাজের কাজটা আয়ত্তে নিয়ে আসা সম্ভব। থাকা সম্ভব উৎসবের মতোই রঙিন। উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত।
মেয়েদের ক্ষেত্রে বৈশাখী সাজের আগে প্রস্তুতি পর্বটা ভীষণ প্রয়োজন। ফেসিয়াল, মেনিকিউর-পেডিকিউর সেরে নেয়া চাই আগেই। সাথে চুলের যতেœও বাড়তি পরিচর্যা যোগ হতে পারে। আর প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোদে শরীর খুব দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। ফলে ত্বক নির্জীব আর ক্লান্ত দেখায়। এই শুষ্কতা কাটাতে পানির কোনো বিকল্প নেই।
বৈশাখের সকালের সাজে স্নিগ্ধতাকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত। গরম বলে সাজটা যত হালকা রাখা যায়, ততই ভালো। বৈশাখী রঙের সাথে মিলিয়ে পোশাক আর তার সাথে মানানসই হালকা সাজÑ এতেই উদ্যাপিত হোক সকাল। প্যানকেক বা ফাউন্ডেশন এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো। মুখে ভারী মেকআপ না থাকলে রোদে, ঘামে, গরমে তা ঘেঁটে যাওয়ার আশঙ্কা এড়ানো যায় অনেকখানি। সারা দিনের জন্য বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগিয়ে নেবেন। তার ওপর পাউডার পাফ করে নিলেই তৈরি মেকআপ বেজ। আর যদি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতেই হয়, সে ক্ষেত্রে লাইটওয়েট, হুইপড ক্রিম বেসড ফাউন্ডেশনগুলো বেছে নিলেই ভালো। দিনের বেলায় চোখের সাজ খুব বেশি রঙের ব্যবহার না হলেই ভালো। লাইট গোল্ডেন, পিঙ্ক, পিচ, ব্লু, টিল কিংবা সবুজাভ ঘেঁষা শেডগুলো সকালের সাজের সাথে মানানসই। কাজল দেয়া যেতে পারে। তবে সরু লাইনের ওয়াটারপ্রুফ লাইনার টেনে নিলেই বেশি ভালো দেখাবে। ব্লাশঅন দিতে হবে, সাথে হালের ট্রেন্ডি গোল্ডেন হাইলাইটার চেহারায় যোগ করবে উজ্জ্বল শিশিরসিক্ত ভাব। লিপস্টিকের বেলায় সকালে অনেকেরই ম্যাট পছন্দ। তবে গ্লসি লিপস্টিকও কিন্তু ফিরেছে ট্রেন্ডে। নিউট্রাল ঘেঁষা রঙগুলোই সকালের সাজের সাথে বেশি মানিয়ে যায়। চুলটা সকালে খোঁপায় বেঁধে নিলে সারা দিনের স্বস্তি জোগাবে সাজে। ডোনাট, ফ্লাপি টপ নট, রোপ টুইস্ট বান, রিভার্স ব্রেইডেড বানগুলো বেঁধে নিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী।
সকালের চেয়ে জমজমাট বৈশাখী দুপুর। ভিড় বাড়ে, রোদটাও তেতিয়ে ওঠে সমান তালে। তাই সাজে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার সাথে সাথে মাথায় থাকা চাই আরামপ্রদ দেখানোর ব্যাপারটা। সকালের সাজটাকেই সামান্য হেরফের করে নিয়ে তৈরি হয়ে যাওয়া যায় দুপুরে। সে ক্ষেত্রে প্রথমেই মুখের তেল সরিয়ে নিতে হবে। এক ফাঁকে ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে নিতে পারলে তো খুবই ভালো হয়, নইলে ব্লটিং শিটই ভরসা। ব্লটিং শিট দিয়ে চেপে চেপে ঘাম আর তেল শুষে নিয়ে রি-অ্যাপলাই করে নেয়া যেতে পারে মেকআপ। চোখের সাজে আইব্রাওটাকে শেপ করে নিয়ে, হাইলাইট করে নেয়া যেতে পারে। আইলাইনারটাকে আরেকটু মোটা করে টেনে নিতে হবে। তারপর মাশকারা বুলিয়ে নেয়া যেতে পারে আইল্যাশে। এতে সকালের ক্লান্তি ভাবটা কেটে যাবে চোখ থেকে। ব্লাশঅনটাও বুলিয়ে নিন আরেকবার। লিপস্টিকটা পাল্টে একটু গাঢ় কোনো শেড বেছে নিতে পারেন দুপুরের জন্য। বৈশাখের সাজের সাথে রেড হট লিপস কিন্তু মন্দ দেখাবে না।
উৎসবের রাতের সাজ সব সময়ই জমকালো। বৈশাখও তার ব্যতিক্রম নয়। বৈশাখে রাতে সাজার আগে গোসল করে নেয়া গেলে ভালো হয়। এতে সারা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীরটাও ঝরঝরে হয়। ত্বকটাও একদম সতেজ দেখায়। গোসলের সময় না হলে মুখটা অন্তত ভালো করে ধুয়ে নেয়া জরুরি। তারপর চেহারায় গোলাপজল মেখে নেয়া যেতে পারে বাড়তি উজ্জ্বল ভাবের জন্য। তারপর ফাউন্ডেশন দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এটা সেট করার জন্য ফেসপাউডারও বেছে নেয়া চাই ত্বকরঙের সাথে মিলিয়ে। চোখের সাজে পোশাকের সাথে মানানসই কিংবা পছন্দসই আইশ্যাডো তো থাকবেই, চাইলে গ্লিটারও মেখে নেয়া যেতে পারে। বাড়তি স্টেটমেন্ট যোগ হবে এতে। বাড়তি আইল্যাশ সাজে অনন্য মাত্রা আনবে। চোখের ভেতরের কোণটা হাইলাইট করা যেতে পারে। এতে চোখ অনেক বড় দেখায়। আইলাইনার বা কাজলের রঙ নিয়ে খেলা যেতে পারে রাতে। লাইন টানার মধ্যেও থাকুক ভিন্নতা। গ্রাফিক কিংবা থাম্ব প্রিন্ট ক্যাট আইলাইন থেকে বেছে নেয়া যেতে পারে যে কোনোটা। কালোর বদলে সাদা, সবুজ আর নীল ঘেঁষা রঙগুলো আই মেকআপে এখন ভীষণ ইন। কালারফুল স্মোকি সাজেও সাজাতে পারেন চোখ। এরপর মাশকারা। চোখের পাতায় কমপক্ষে দুই থেকে তিন পরত মাশকারা মাখতে হবে। গাঢ় করে ব্লাশঅন রাতেই ভালো দেখায়। সাথে হাইলাইটার ব্যবহার করতে ভুলে গেলে চলবে না। সবশেষে প্লাম, চেরির মতো গাঢ় শেডের লিপস্টিক ব্যবহার করা যায় বৈশাখের রাতের সাজে। তবে উল্টোটাও হতে পারে। চোখের সাজ গর্জাস হলে ঠোঁটটা ন্যাচারালও রাখতে পারেন। সফট পিঙ্ক থেকে বেইজ রঙ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো।
রাতে চাইলে চুলটা ছাড়া রাখা যেতে পারে। ভালো দেখাবে। সামনের চুল হালকা একটু ফাঁপিয়ে সেট করা যেতে পারে। সকাল কিংবা সাঁঝ-বৈশাখের সাজে টিপ পরতে ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না। সবশেষে শরীরে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ হোক বৈশাখের সাজ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.