ads

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাজনীতি
আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাজনীতি

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাজনীতি

এ কে এম এনামুল হক

গ্রিক বিজয়ী আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট যখন বিজয়ী বেশে ভারত বর্ষের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে পদার্পণ করলেন, এ দেশের মানুষের কর্মকাণ্ড অবলোকন করে হতবাক হয়ে উচ্চারণ করলেন- কী বিচিত্র এ দেশ! তবে তৎকালীন বঙ্গভূমির মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হতে তিনি পারেননি। হতে পারলে কী বাক্য উচ্চারণ করতেন তা কল্পনাতীত। যা হোক, আমরা এখন বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে বলতে পারি- কী অপূর্ব এ দেশ! এ দেশে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে পানি খায়। ন্যায় অন্যায় এক সাথে চলে আর নীতিবান-নীতিহীনদের বিচরণ একই মাঠে। যারা মৌলিক নীতিতে বিশ্বাসী এবং আবহমানকালের প্রচলিত মূলনীতির প্রতি আনুগত্যকারী তাদের দুর্বল অবস্থানের জন্য তাচ্ছিল্য এবং সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ এ দেশের সাধারণ মানুষ সহজ সরল ধর্মভীরু এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তাই দেখা যায়, ’৭১ সালের মহা বিপর্যয়ের সময় এ দেশের মানুষ কিভাবে বিপন্ন শহরত্যাগীদের আশ্রয় দিয়েছিল। এসব ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ তাদের মূল্যবান সম্পদ ও অর্থ নির্বিঘ্নে সাথে নিয়ে দিনের পর দিন বাংলাদেশে গ্রামের মানুষের সাহায্যে নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। আর বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে কথিত প্রগতিশীল ও শিক্ষিত মানুষদের তাণ্ডবে কেউ দু’কদম ঘরের বাইরে যেতে সাহসী নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একবার এ সভায় বক্তৃতায় বলেছিলেন, এ দেশের শিক্ষিত বা যারা গরিবের টাকার ভর্তুকি নিয়ে লেখাপড়া করে এখন নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবি করছেন, তারাই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, ঘুষখোর, চোরাচালানি, মাদক ব্যবসায়ী, বাটপার ও হত্যা-গুমকারী। গ্রামের অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত মানুষেরা এসব দুরাচার থেকে বহু দূরে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হলো এমন একটি দল, যার নেতৃত্বে এ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সংঘটিত হয়। সত্তরের নির্বাচনের বেশ আগে থেকে এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ’৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমি রচনায় দলটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের আয়োজনে হাল ধরেন এবং প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ২৫ মার্চ কালরাত্রি-পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে চার দিকে আশ্রয়স্থল তালাশ করছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন মেজর জিয়ার কমান্ডে রাত ১২টায় চট্টগ্রাম আগ্রাবাদে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ‘উই রিভোল্ট’ বলে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানি কমান্ডার জানজুয়াকে ও অন্যান্য পাকিস্তানি অফিসারকে গ্রেফতার করেন।

এটি ছিল স্বাধীনতার সর্বপ্রথম জন্য অস্ত্রধারণ। (দক্ষিণ রণাঙ্গন মেজর রফিক)। মুক্তিযুদ্ধকালীন আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতারা নানা কোন্দলে লিপ্ত হন এবং প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের বিরোধিতায় আদাজল খেয়ে লেগেছিলেন। এর পরিণতিতে শেষাবধি স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীনকে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হলো। যুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন-বিরোধীরা ভারতের শাসকগোষ্ঠীর সাথে আঁতাত করে জেনারেল ওবানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অজান্তে সমান্তরাল একটি যোদ্ধা দল প্রস্তুত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে বারবার ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পায়নি। (মূলধারা ৭১)। যাদের নেতৃত্বে এমন ঘটনা ঘটল তাদের পরবর্তীকালে কোনো প্রকার জবাবদিহি করতে হয়নি।

যদিও মুক্তিযুদ্ধে দেশের সব মানুষ (শতকরা ৯০ ভাগের ওপর) অংশ নিয়েছিল কিন্তু ’৭১-পরবর্তী সরকারে আর কেউ স্থান পেল না একটি দল ছাড়া। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো প্রকার ফলপ্রসূ কাজে নিয়োগ দেয়া হলো না। এসব অস্ত্রধারীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী হলো। দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হলো। বাংলাদেশকে ১৯৭৪ সালে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে হলো, যাতে হাজার হাজার মানবসন্তান মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জন্য একটি সুন্দর মানবতাবাদী শাসনতন্ত্র বা সংবিধান রচনা করে। জননিরাপত্তার নামে প্রচলিত সব কালাকানুন বিলুপ্ত করে দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রায় সব ক্ষমতা কার্যত একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত করায় মানবাধিকারের ঘোষণা অর্থহীন হয়ে পড়ে। এমনকি বিচার বিভাগকে কৌশলে শাসন বিভাগের আয়ত্তে নিয়ে আসা হয়। তাই এত কিছুর ফলাফল শূন্যে পরিণত হয়। এমনকি অল্প দিনের ব্যবধানে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট প্রবর্তন করে দেশের মানুষকে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ঠেলে দেয়া হলো।

এরপর আসে চতুর্থ সংশোধনী ‘বাকশাল’ বিল। সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে ন্যস্ত করা হয়। দেশে আর কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতি রইল না। হঠাৎ একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলো। চারটি মাত্র সংবাদপত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে প্রকাশের অনুমতি দেয়া হলো। বিচার বিভাগ কুক্ষিগত হলো। তার ওপর শাসনতন্ত্রের ৭০ ধারা এবং একদলীয় এক নেতার শাসন। রাষ্ট্রপ্রধানকে দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো নির্বাচন ছাড়াই। এ দেশ প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হওয়ার স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেল। বরং অগণতন্ত্রী দেশ হিসেবে তার উত্তরণ ঘটানো হলো।

একটি ব্যাপার উল্লেখ্য, ’৭২ সালের শাসনতন্ত্রে আওয়ামী লীগ চারটি মূলনীতি সংযুক্ত করল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ মূলনীতি ছিল তাদের ঘোষিত অসাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে। এভাবে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উগ্র দর্শনকে দিয়ে তারা এ দেশের অন্য সম্প্রদায়গুলোকে মানসিকভাবে দূরে সরিয়ে দিলো। এর দরুন পরে পাহাড়ি জনপদের সাথে দীর্ঘকাল যুদ্ধে ব্যস্ত থাকতে হলো। আর এখনো মাঝে মাঝে অন্য সব ক্ষুদ্র ধর্মীয় সম্প্রদায় বিশেষ রাজনৈতিক গ্রুপের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, যারা ওই জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা।

এমন হয়েছে রামুতে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু এবং বগুড়ায় সাঁওতালদের ক্ষেত্রে। এমনকি শ্যামলকান্তি ভদ্র যিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পুরাতন নামকরা স্কুলের বহু দিনের হেডমাস্টার, জীবন রক্ষার জন্য দেশবাসীর কাছে আর্তনাদ করে সাহায্যপ্রার্থী হয়েছেন। হামলাকারী কারা! তারা হলো ধর্মনিরপেক্ষবাদী, অসাম্প্রদায়িক, বাঙালি জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত। এ দিকে, আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে এখনো তাদের মূলনীতি হিসেবে উচ্চারণ করলেও সমাজতন্ত্রের নামও উচ্চারিত হয় না। বরং, অন্ধভাবে তারা বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণ করে নিয়েছে।

নতুন সংবিধান বা শাসনতন্ত্র কার্যকর করে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৩ সালে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে শাসকেরা সে নির্বাচনে বেআইনিভাবে কারচুপি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। সে পুরনো অভ্যাস শত পল্লবে পল্লবিত হয়ে বেশ পরিপক্ব অবস্থায় দেশের শাসনব্যবস্থা সমাজ ও নির্বাচনব্যবস্থা ইদানীং কুক্ষিগত করে নিয়েছে, বৈধ করতে পঞ্চদশ সংশোধনীর আশ্রয় নেয়া হয়। একটি দৃষ্টান্ত আমরা দেখি ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে। এর প্রশংসায় ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট পঞ্চমুখ।

তিনি মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সাথে সংযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী তরী পার করে দিয়েছেন। বিএনপিকে গো-হারা হারিয়ে আওয়ামী লীগকে আকাশচুম্বী বিজয় উপহার দেন। এর জের ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ তছনছ করে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে সর্বপ্রকার কারচুপির ছলাকলা প্রয়োগে সমর্থ হলো ক্ষমতাসীনেরা। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সে ধরনের কলাকৌশল প্রয়োগের প্রস্তুতি হয়তো নেয়া হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো কোনো মন্ত্রী এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে গেছেন এখন শুধু নির্বাচনের ফর্মালিটি রয়ে গেছে।

১৯৭৫ সালের প্রথম দিকে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করল। তার সাথে রক্ষীবাহিনী দেশে অরাজকতা ও হত্যাযজ্ঞ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনি অবস্থায় ১৫ আগস্ট ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সাথে সাথে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রকারী অংশ ক্ষমতা দখল করে নেয়। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে যাদের কোনো-না-কোনোভাবে দায় ছিল তাদের প্রতি আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি নমনীয়। অন্য দিকে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যিনি এ ব্যাপারে নির্দোষ বলে প্রমাণিত, তাকে আওয়ামী মহল সকাল-সন্ধ্যা তাদের কটূক্তির নিশানা বানিয়ে ছাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে দেখুন কর্নেল শাফায়াত জামিলের বই, যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষ (২ নভেম্বর ক্যুর নেতৃত্বদানকারী)। কিন্তু জেনারেল এরশাদ হলেন পেয়ারের মানুষ। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি দিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। তিনি কেমন করে কিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটার সাথে সাথে প্রশিক্ষণের মাঝে ঢাকায় এসে দু-তিন দিন অবস্থান করে লে. জেনারেল জিয়ার অজান্তে বঙ্গভবনে খুনিদের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন? তার এ মিটিংয়ের বিষয়বস্তু কী ছিল?

কিভাবে সরকারি প্রশিক্ষণে থাকা অবস্থায় হঠাৎ স্বদেশে ফেরা ও ঢাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলেন? আগের যোগাযোগ না থাকলে তিনি কেন এলেন? তার এই সফরে কাদের অনুমতি ছিল, দিল্লি, মোশতাক না জেনারেল শফিউল্লাহ? এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কেন আজো সম্পূর্ণ নিশ্চুপ? বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশ থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের। পরবর্তী সময় ক্যুকারী দুই মেজর বারবার বাংলায় থাকার চেষ্টা করেছিল। জিয়া তা হতে দেননি। এমনকি তাদের ইউনিটগুলোকেও ভেঙে দিয়েছিলেন।

দেশজুড়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ঝড় বইয়ে দিচ্ছে। এমনভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, যেন একমাত্র তারাই দেশের এ উন্নয়নের কারিগর। দেশের বর্তমান উন্নতি দেশের তিনটি সেক্টরের কৃতিত্ব। তা হলো ০১. গার্মেন্টস ০২. খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা যা কৃষকের দান ০৩. বিদেশে থেকে বাঙালি অভিবাসীদের পাঠানো টাকা। এগুলোই হলো দেশের উন্নতির মূল চাবিকাঠি।

এ ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে অতীত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সব দলের অবদান অনস্বীকার্য। ঢোল বাজিয়ে আওয়ামী লীগ সব উন্নয়নের কৃতিত্ব দাবি করে পকেট ভারী করছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট, বিদ্যুৎ, রাস্তা ও অন্যান্য কাজে লাখ-কোটি টাকার চুরি, দুর্নীতি- এ সম্বন্ধে তারা সম্পূর্ণ নীরব। দেশে হত্যা, গুম, যানজট, ধর্ষণসহ সব রকমের দুরাচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অন্যান্য সংগঠন যেভাবে দেশের মানুষের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম ক্যাটাগরির স্বৈরাচার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী যুগেও একই দৃশ্য একই লুটপাটের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল। গবেষক ড: তাজ হাশমী তখনকার দুর্নীতি ও লুটপাটের ছয় ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছিলেন। আর বর্তমানে ক্ষেত্র অনেক, তা আবার ‘শত পল্লবে পল্লবিত’। ২০১৭ সালে মার্চ মাসের শেষে দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩ হাজার কোটি ৪০৯ টাকা। এ হিসাবের বাইরে আরো ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এ অবলোপনের তথ্য যোগ করলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ব্যাংক থেকে নেহাত রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেও ঐতিহ্যবাহী দলটি দেশকে কম কূটকৌশল ‘উপহার’ দেয়নি। ’৯৬ সালের দিকে বেশ কয়েকজন গডফাদার সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু তাতে তাদের সাধ মিটল না। দেশে প্রচলিত নির্বাচনপদ্ধতিকে সম্পূর্ণ আয়ত্তে নিতে নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে করায়ত্ত করার প্রয়াস নেয়া হয়। তাতে মন না ভরায় সংবিধানে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকে পক্ষপুটে নিয়ে নেয়া। তাতেও স্বস্তি না পেয়ে বিচার বিভাগকে নানা ছলাকলার মাধ্যমে সাইজ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার নিশ্চয়তা পাওয়া।
গণতন্ত্রের প্রধান সোপান হচ্ছে একটি স্বচ্ছ ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন, যা হবে সর্বপ্রকার কূটকৌশল ও কারচুপিমুক্ত। কিন্তু তা হওয়ার নয়। ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছেন তাদের কূটকৌশলকে স্বীকৃতি দিয়ে; তাদের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে অন্য সবাই যেন নির্বাচনে অংশ নেয়।
লেখক : স্কোয়াড্রন লিডার (অব:)
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.