মোদিজীকে খোলা চিঠি
মোদিজীকে খোলা চিঠি

মোদিজীকে খোলা চিঠি

মিনা ফারাহ

ভারতের ‘স্টার জলসা’ নিয়ে বাংলাদেশীদের যত আগ্রহ, ভারতীয়দের মধ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা জানার ব্যাপারে সে তুলনায় ন্যূনতম আগ্রহ থাকলে আমাদের পার্লামেন্টের চেহারা রাশিয়ার মতো হতো না। তবে কংগ্রেসের পথেই হাঁটবে কি না বিজেপিও, দেখার জন্য ২০১৮-এর নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। লেখার প্রথম পর্বে কংগ্রেস, দ্বিতীয় পর্বে বিজেপির আলোচনা-সমালোচনা। কংগ্রেস শোনেনি কিন্তু বিজেপিকে জনগণের কথা শুনতেই হবে। কারণ, এবারের নির্বাচনও জনগণের হাত থেকে কেউ কেড়ে নিলে ৫ জানুয়ারির মতো রাজনীতি এত সহজ হবে না, যা দিল্লিরও মাথাব্যথার কারণ হওয়াই স্বাভাবিক।

প্রথমেই ট্রাম্প, থেরেসা মে, পুতিন, জিনপিংকে পেছনে ফেলে গ্যালাপ পোলের বার্ষিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে তৃতীয় স্থান দখল করায় মোদিজীকে অভিনন্দন। নিশ্চয়ই এমন কিছু করেছেন, যেজন্য দলচাটাদের মুখ থেকে নয়, বরং বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধানেই এই পুরস্কার। তবে অধিক আনন্দিত এ কারণে, তার দল সেটা উদযাপনে সপ্তাহব্যাপী ‘ভারত বন্ধ’ ঘোষণা করে দেশজুড়ে দুঃস্বপ্ন সৃষ্টি করেনি। চাইলে পারত; কারণ, রামমাধবেরাই ক্ষমতায়। উল্টো কংগ্রেসসহ সব বিরোধী শিবিরের গর্জন, ‘গ্যালাপের অনুসন্ধান ভুল।’ এর সাথে প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থার মিল নেই, বরং টার্ম শেষ হওয়ার আগেই মোদিজীকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে পার্লামেন্টে এবং বাইরে- বিরোধী শিবিরের তুলকালাম। বলছি, ভারতের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার বিষয়।
সামনে দুই দেশেরই জাতীয় নির্বাচন। মোদিজী, এপ্রিলে আপনার সাথে আমাদের অনির্বাচিত প্রধানের (রায় এখনো বহাল) আবারো সাক্ষাতের খবর মিডিয়ায় দেখে উদ্বিগ্ন। কংগ্রেস আমলে এতবার সাক্ষাৎ; এখন আবার সাক্ষাৎ? জনগণের কৌতূহল, এতবার সাক্ষাৎ করলে কী হয়, না করলে কী হয়? একমাত্র বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বীকে জেলে ভরে, একাই নির্বাচন করার বিষয়টি মোদিজী জানেন। তারপরও নীরব থাকা, জনগণকে বাদ দিয়ে বিশেষ একটি দলের সাথেই সম্পর্কের অকাট্য প্রমাণ নয় কি? যে ভুল বরাবরই করেছে কংগ্রেস। অন্য দিকে, ভারতের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উভয় শিবিরে একেবারেই ভিন্ন চেহারা। আমাদের দেশে ক্রেমলিনের চেহারা- বিষয়টি কী চোখে দেখছেন মোদিজী?

এমনকি সামান্য পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও সরব ভারত। পার্লামেন্ট থেকে মিডিয়া, সর্বত্রই বহুদলীয় গণতন্ত্রের জয়জয়কার। আপনাকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে ‘মোদিমুক্ত’ ভারতের ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ১১ দলের ফেডারেল ফ্রন্টে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া। আগামী দিনে অনেকেই মমতাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান। এখানে কংগ্রেসকে জোটে রাখা নিয়ে কিছু সমস্যা। কারণ, মমতা প্রধানমন্ত্রী হলে রাহুল কি ‘ঘাস খাবেন’? তাই কংগ্রেসকে অন্যভাবে সমর্থনের কথা সোনিয়াকে জানালেন মমতা। এমনকি বাল ঠাকরের দল পর্যন্ত আপনার বিরুদ্ধে চলে গেছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং মমতা মিলে যা করছেন, তাতে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েও বিরোধী শিবিরের কাছে আপনি কতই না অসহায়! আর অনির্বাচিত অবস্থায় (রায় বহাল) পার্লামেন্টে প্রায় পাঁচ বছর পূরণের পরও কার আশ্বাসে এত আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ? বলছি, জাতির স্বার্থে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা।

মোদিজী, ২০১৯-এর নির্বাচনে আপনাকে পরাজিত করতে শত্র“-মিত্র এক আসনে। সেই হিসেবেই দিল্লিতে সোনিয়া-মমতার সাক্ষাৎ। হেভিওয়েটদের সাথে সশরীরে সাক্ষাৎ করে অ্যালায়েন্স ভাঙার তালে আছেন মমতা। রামনবমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে আসানসোলের দাঙ্গা কিংবা দলিত সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শনে শাসকদলকে অনুমতি দেননি মমতা। ফলে দিলীপ ঘোষের মতো হোমরাচোমরাদেরও প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে ঢুকতে হলো। এ দিকে, ৯ বছরে ঢাকার পার্লামেন্ট ‘কমিউনিস্ট আকার’ ধারণ করলেও বিজেপির আচরণে ন্যূনতম পরিবর্তন হয়নি; বরং কংগ্রেসের মতোই বিরোধী শিবিরকে পুরোপুরি উপেক্ষার পথই বেছে নিলো। সুতরাং আগামী নির্বাচন গ্রহেই থেকে গেছে।

ভারতজুড়ে এই যে, উভয় শিবিরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত চর্চা এবং ধারাবাহিকতা, তা প্রচারে কতটুকু আগ্রহী আমাদের মিডিয়া? তাদের পছন্দ- বলিউড, স্টার জলসা, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ইত্যাদি। ‘হতে পারে সেটা বুদ্ধিস্বাধীনতায় চাপা দেয়ার কৌশল।’

খবর, মমতার উৎসাহে পার্লামেন্টে তিনবার অনাস্থা প্রস্তাবের ব্যর্থ চেষ্টা। কংগ্রেসও এককভাবে অনাস্থা আনার চেষ্টা করেছিল। কোনোটাই গ্রহণ না করে পার্লামেন্ট মুলতবি করেছেন স্পিকার। বহুদলীয় পার্লামেন্ট এবং বিরোধী শিবিরের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথাই বলছি।

ভারতের পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার দৃষ্টান্ত বহু। মিডিয়ায় সেসব নিয়ে তর্কবিতর্কও সমানতালে। কিন্তু আমাদের সংসদে অনাস্থা দূরে থাক, ৩০০ কণ্ঠ যখন একসাথে ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত’ বলতে থাকে; ভয়ে দম আটকে যায়। এই প্রবণতার জন্য বিজেপি দায়ী নয়, কিন্তু তারাও কেন পরিবর্তনের বদলে কংগ্রেসের ব্যুরোক্র্যাসিকেই বেছে নিলো, প্রশ্ন গণতন্ত্রকামীদের।
বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসমুক্ত ভারতের ডাক অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ, দলটির কারণেই বহু বছর ধরে গোটা অঞ্চলজুড়ে অশান্তি। বিশেষ করে, বাংলাদেশ যারপরনাই ক্ষতিগ্রস্ত। ১/১১-এর সময় থেকে জনগণের বিরুদ্ধে রীতিমতো ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা কংগ্রেসের। জনগণ নয়, তাদের কাছে বিশেষ দলই বড়। এ বিষয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও প্রাসঙ্গিক। সংখ্যালঘু পরিবারের লোক হওয়ায় দেশ বিভাগের দুঃস্বপ্ন খুব কাছ থেকে দেখেছি।

সবাই জানে, ’৪৭-এর পর থেকে বেশির ভাগ সময়জুড়ে ভারতে কংগ্রেসই ক্ষমতায়। দেশ বিভাগের পর থেকেই বারবার দাঙ্গা আর যুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় বদলে যেতে থাকল সাইনবোর্ড ও মালিকানা। ’৬৪ থেকে ’৭০, দেশত্যাগের রেকর্ড। ’৭১-এর পর নতুন রেকর্ড। বাবরি মসজিদের ঘটনার সময়ও তারাই ক্ষমতায়। তখন মন্দির-মসজিদ ভাঙার ধুম পড়লে সংখ্যালঘুদের ভাগ্যে নামল চরম বিপর্যয়। ক্ষমতায় থেকেও সংখ্যালঘু ইস্যুতে একটি কার্যকর পদক্ষেপও নেয়নি কংগ্রেস। তাদের অবহেলাই সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ৩৭ থেকে ৭-এ নেমে আসার প্রধান কারণ।

স্বৈরাচারী ইন্দিরার মৃত্যুর পর, কেন্দ্রের ব্যুরোক্র্যাসিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আরেক স্বৈরাচারী প্রণব। বিশেষ করে বাংলাদেশ পলিসির বেলায় সবাইকে ডিঙিয়ে যার একক আধিপত্য। শ্বশুরবাড়িটি এপারে হওয়ায় কপাল পুড়েছে। সবাই জানে, কার হস্তক্ষেপে খালেদা জেলে। কার ছকে পুড়ে ছারখার বিরোধী শিবির। ফলে কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগই তাকে নিন্দা করতে শুরু করেছে। ‘ভাতিজি’কে ক্ষমতায় রাখতে আত্মজীবনীতে যা লিখেছেন, তা প্রকারান্তরে নিজেই ভুল স্বীকার করে, নিজেকেই দোষী সাব্যস্ত করা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচন ব্যভিচারের অভিযোগে মুলার ইনভেস্টিগেশনকেও অপ্রয়োজনীয় বানালেন প্রণব। ফলে বিরোধী দলের উচিত, সব অপরাধের তালিকা বানিয়ে দিল্লির কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো। এতে লাভ না হলেও ক্ষতি হবে না। সিনহা ও খালেদার ঘটনার পর, বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বিজেপিকে অভিযোগ জানানোর শ্রেষ্ঠ সময় এটি।

এ বিষয়গুলো মোটেও অবহিত নন রামমাধবেরা। আসাম থেকে যাদের পুশব্যাক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ভোটের স্বার্থে এদেরকেই ভারতে ঢুকতে দিয়েছিল মূলত কংগ্রেস। দেশ বিভাগের পর থেকে দেশত্যাগীদের রেশন কার্ড ও ভোটার কার্ড রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বিজেপি। এ কাজে বাম এবং মমতাও কম দায়ী নন। সুতরাং লাখ লাখ অবৈধকে পুশব্যাক না করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেয়া উচিত নয় কি?

কংগ্রেসের কব্জায় থাকা নেতাজীর সিক্রেট ফাইলগুলো ডিক্লাসিফাই করে ভারতীয়দের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ করল বিজেপি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তুমুল বিরোধিতা করেছিল কংগ্রেস। ফলে গান্ধী পরিবারের ঘরের আগুন আরো জ্বলে উঠল। নেতাজী পরিবারের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ছাড়াও, ইন্দিরার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়িয়ে ফেলারও অভিযোগ। এ বিষয়ে আগেও লিখেছি। ডিক্লাসিফাইড ফাইলের পর নেহরু নন, নেতাজীই ভারতের প্রথম ‘প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার খবর সামাল দিতে হিমশিম কংগ্রেস। পাঠ্যপুস্তকসহ নানান অঙ্গনে বিকৃত ইতিহাস পুনরুদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। মোদিজীর বিজয়ের পর এ ধরনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণও আশা করেছিল, কিন্তু হায়...!

বিজেপির অভিযোগ, ইন্দিরা গান্ধী একজন আপাদমস্তক স্বৈরাচারী। সিকিম দখল, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ভাঙায় উসকানি, জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতায় থাকা, ভোট কারচুপি, স্বর্ণমন্দিরে গণহত্যা, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ, মানেকা গান্ধীকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করাÑ কোনোটাই বাদ দেননি। ’৮৪-তে দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হওয়ার কারণও তা বলে মনে করা যায়। পরবর্তী সময়ে রাতের শৃগাল রূপে উদয় হলেন আরেক স্বৈরাচারী। সিটিজেনশিপ প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলেও পর্দার অন্তরালে কলকাঠি সোনিয়ার হাতেই। ৫ জানুয়ারির অন্যতম কারিগরও তিনি। শাশুড়ির মতোই সোভিয়েত মডেল থেকে ভারতের রাজনীতিকে কখনোই বের হতে দেননি। একই মডেল বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিয়ে দূষিত করলেন ৫৬ হাজার বর্গমাইল। ‘পানামা পেপার্স’ অনুযায়ী, অফশোর অ্যাকাউন্টে একাই প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক সোনিয়া। অর্থাৎ করাপশনের মূর্তপ্রতীক গান্ধী পরিবার।

ব্যাপক প্রমাণ থাকায় সোনিয়াসহ বহু হেভিওয়েটকেই আদালতে ব্যস্ত রেখেছে বিজেপি। ভারতের বিচার বিভাগের সৌন্দর্য এটাই, ক্ষমতাসীনদের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। ফলে খালেদার অবস্থায় পড়তে হয়নি সোনিয়াকে। ৪২০ কোটি টাকা ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকির মামলায় সোনিয়াকে আদালতের হুঁশিয়ারি। ১০ কোটি টাকা জরিমানা না দেয়া পর্যন্ত আপিল গ্রহণ নিষেধ। আইনের মাধ্যমে সোনিয়াকে এমন জায়গায় আনল বিজেপি, যখন পদত্যাগ করে পুত্রকে পার্টির দায়িত্ব দিতে বাধ্য হলেন।

নেহরু থেকে রাহুল, লেখার স্বার্থে কম্যুনাল রাজনীতির ধারাবাহিকতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। দেশ বিভাগকে কেন্দ্র করে কম্যুনাল রায়টের সুযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন জওয়াহেরলাল নেহরু। চাইলে দিল্লির ক্যাবিনেট মিটিংয়ে দেশ বিভাগ এড়ানো যেত। যা হোক, রাজনীতিতে রাহুল গান্ধী এক অতি আশ্চর্য বিরল প্রজাতির মানব। তার একমাত্র যোগ্যতা, নেহরু পরিবারের সদস্য। মা-পুত্র মিলে সঞ্জয় গান্ধীর পরিবারকে কংগ্রেসের রাজনীতির বাইরে রেখেছেন। ২০১৪-এর ভরাডুবির পর আবারো ক্ষমতায় যেতে মরিয়া রাহুল, এবার অস্ত্র বানালেন কম্যুনাল রাজনীতিকে। বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে হিন্দুধর্মীয়দের মধ্যে ধর্মত্যাগের উসকানি। ক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে কোটাভিত্তিক সুবিধা দেয়ার লোভ দেখানো। কিছু পাওয়ার আশায় অবহেলিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যে ধর্মত্যাগের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। মোদির কংগ্রেসমুক্ত ভারতের ডাক ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মূল কথাটি হলো, ভারতের রাজনীতিতে আইনের শাসন না থাকলে এতক্ষণ যা লিখলাম, এর একটাও সম্ভব হতো না; যেমন হয় না আমাদের বেলায়। তলে তলে বিচার বিভাগের ওপর যে হস্তক্ষেপ, সিনহার একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। খালেদা কেন জেলে, না বলাই নিরাপদ। কারণ, আইন করে কথা বলার অধিকার বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিনিধিত্বহীন পার্লামেন্টে যেন তখন আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো আইন পড়ছে। মোদিজীকেই বলছি, স্টালিন-মাও যাদের আদর্শ, তারা কি অন্য রাস্তা চেনে? তার পরও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে অস্বীকার বিজেপিরও! তারা ক্ষমতায় আসার পর ন্যায় আচরণের যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল বিরোধী শিবিরে, বহু আগেই তা নিভে গেছে। এ দুঃসাহস লৌহমানব পুতিনও দেখাননি। এবারের নির্বাচনে পুতিন অন্তত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে জেলে নিয়ে নিঃশেষ করার ব্যবস্থা করেননি। তার পরও অগণতান্ত্রিক শক্তির সাথেই আঁতাতে যারপরনাই হতাশ।

যেসব কারণে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় ঢুকল বাংলাদেশ, মোদিজীর জানা। সুতরাং আপনাকেই বলতে হয়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভারতজুড়ে যখন উভয় শিবিরে ভোটের যুদ্ধ, তখন এ দেশে মাইনাস-১ ফর্মুলায় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রকৃত অর্থেই তা একদলীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। ঢাকাফেরত প্রণব আপনার কানে যে মন্ত্র দিলেন বলে মনে হয়, খালেদাকে জেলে নেয়ার আগেই লিখেছিলাম।

আর বদলা নয়, বদলে যাওয়ার সময় এটা। কারণ, উপনিবেশবাদের চক্রান্ত মানুষের কাছে স্পষ্ট। ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট এখন সর্বোচ্চ। কংগ্রেস চেয়েছিল বাংলাদেশেও ইন্দিরা মডেলের দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। এ অবস্থায় বিজেপি বিরোধী দলে থাকলে কী করতেন অমিত শাহ? তারা কি একদলীয় নির্বাচন মেনে নিতেন? সরকার হয় কমিউনিস্ট, নয় গণতান্ত্রিক। মাঝামাঝি কিছু নেই; কিন্তু ঢাকার বেলায় সেটাই। এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না। ৫ জানুয়ারির ভোট কেন্দ্রে মানুষের বদলে কুকুর-বিড়ালের উপস্থিতির ফুটেজগুলো এখনো নেটে।

ঢাকার ক্ষমতায় কে বসবে, দিল্লির সিদ্ধান্তই কেন চূড়ান্ত হবে এ ব্যাপারে? জানি, ‘প্রণব ব্যুরোক্রেসি’র বাইরে যাওয়া বিজেপির জন্য খুব কঠিন। কংগ্রেস বলত, ‘তাদের সম্পর্ক জনগণের সাথে, দলের সাথে নয়।’ বিজেপিও সেটাই বলল। যদিও উভয় দল এর একটি প্রমাণও দেখাতে ব্যর্থ। বরং জনগণকে মাইনাস করে দলের সাথেই সম্পর্ক। তারপরও সময় শেষ হয়নি।

কংগ্রেস পর্ব শেষ। এবার সেই আসনে বিজেপি। তাই ২০১৮-এর নির্বাচনে বিজেপির ভূমিকা ৫ জানুয়ারির মতোই হবে কি না, দেখার অপেক্ষায় কোটি কোটি মানুষ।
ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.