একদিন তো মরেই যাবো ইফেক্ট

সুদিপ্ত কুমার নাগ


এক.
অর্পিতা আর কল্লোল বহু দিন ধরে প্রেম করে। তাদের দুজনের বাসাও কাছে। হেঁটে যেতে সর্বোচ্চ এক মিনিট লাগে। তারা একই রিকশায় প্রতিদিন ভার্সিটিতে যাওয়া-আসা করে। অর্পিতা প্রায় সময়ই কল্লোলকে সাথে নিয়ে শোপিচ কেনে। বিলটা কল্লোলকে দিতে হয়। সেদিন কল্লোলকে নিয়ে অর্পিতা তিন হাজার ৫০০ টাকার শোপিচ কিনেছে। এত খরচ সামলাতে যেয়ে কল্লোল হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। সে অনেক বুদ্ধি খাটিয়েও অর্পিতার পেছনে খরচ কমাতে পারেনি।
সেদিন মার্কেটে যেয়ে অর্পিতা ছয় হাজার ৫০০ টাকা দামের একটি থ্রিপিস পছন্দ করেছে। এত টাকা দাম শুনে এমনিতেই কল্লোলের কলিজা শুকিয়ে গেল। বুদ্ধি খাটিয়ে বলল, ‘এত দাম দিয়ে থ্রিপিস কিনে কী হবে? একদিন তো মরেই যাবা।’
এই কথা শোনার পরপরই অর্পিতা কল্লোলকে ছেড়ে চলে গেল। মাঝখান থেকে এতদিন ধরে প্রেম করে ফকির হলো কল্লোল!
দুই.
মিরপুর-১০ থেকে নীলতে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠল মিয়া ভাই। হেলপার ভাড়া নিতে এলো। মিয়া ভাই বলল, ‘পরে দেবো, আগে অন্যদের কাছ থেকে ভাড়া তুলে আনো।’
কিছুণ পর হেলপার আবারো মিয়া ভাইয়ের কাছে ভাড়া নিতে এলো। মিয়া ভাই ১০ টাকা দিলেন কিন্তু হেলপার কিছুতেই ২০ টাকার নিচে ভাড়া নিতে রাজি হলো না। ভাড়া নিয়ে মিয়া ভাইয়ের সাথে হেলপারের বিশাল তর্কাতর্কি শুরু হলো। একসময় মিয়া ভাই বললেন, ‘এত ভাড়া নিয়ে কী হবে? তুমি তো একদিন মরেই যাবা।’
এ কথা শোনার পর সাথে সাথে বাস থামিয়ে মিয়া ভাইকে নামিয়ে দেয়া হলো।

তিন.
প্রত্যয় সারা দিন লেখাপড়া বাদ দিয়ে ল্যাপটপ চালায়। সারা দিন তার বাবা-মা বকাঝকা করেও প্রত্যয়কে পড়তে বসাতে পারে না। সেদিন মিডটার্ম পরীার রেজাল্ট বাসায় না দেখিয়ে অভিভাবকের সই নকল করে স্কুলে রেজাল্ট জমা দিলো প্রত্যয়। কাসটিচার রেজাল্ট জমা নেয়ার সময় প্রত্যয়কে বলল, ‘তোমার রেজাল্টের এ রকম খারাপ অবস্থা তার পরও তোমার অভিভাবক কিভাবে এই রেজাল্ট কার্ডে সই করল?’
প্রত্যয় বলল, ‘স্যার, এত লেখাপড়া করে কী লাভ? একদিন তো মরেই যাবো।’
এই কথা শোনার পর কাসটিচার প্রত্যয়ের অভিভাবককে ফোন দিলো। তারপর রেজাল্ট কার্ডের সই নকলের কাজে প্রত্যয় ধরা পড়ে গেল। আর প্রত্যয়ের মা ল্যাপটপ আলমারিতে তুলে তালা মেরে রাখল!

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.