ads

লোভ লেগেছে পান্তা ইলিশের

জোবায়ের রাজু


টিনাদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের বেশ খাতির। পাশের মহল্লায় টিনারা থাকে। দূরত্ব বেশি নয়। ওদের বাড়ি হেঁটে গেলে মিনিট পাঁচেকের পথ। টিনার মা আর আমার মা যেমন বেশ জব্বর বান্ধবী, তেমনই টিনার বাবা আর আমার বাবা জানের দোস্ত। সেই সুবাদে টিনার বাবা-মা দুজনে আমাকে বেশ পছন্দ করেন। দুই ফ্যামেলিতে আমাদের অবাধ আসা-যাওয়া।
আজ পয়লা বৈশাখ। বৈশাখী শাড়ি পরে ছাদে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেছে টিনা। কমেন্ট বক্সে সবাই তার রূপের গুণকীর্তন গাইছে। টিনার ছবিতে লাইক দিতেন সে ইনবক্সে নক করল।
Ñকিরে, পান্তা-ইলিশ খেয়েছিস?
Ñনাহ। গাঁও গেরামে পান্তা-ইলিশ সেভাবে হয় নাকি?
Ñতা ঠিক বলেছিস। কিন্তু আমি পান্তা-ইলিশের বিরাট আয়োজন করেছি। সাথে মাছ গোশত মুরগি ডিম কাবাব, এমনকি বোরহানিও।
Ñওয়াও, এত কিছু?
Ñবৈশাখ উপলক্ষে আমার কিছু বান্ধবীকে দাওয়াত করেছি। ওই শয়তানগুলো আসেনি। সব খাবার রয়ে গেছে। আচ্ছা ভালো, থাক। ছেলেরা আমাকে নক করছে।
Ñআচ্ছা।
গ্রামবাংলায় যেখানে আজো পান্তা-ইলিশের বৈশাখ সেভাবে পালন করা হয় না, সেখানে টিনা পান্তা-ইলিশের আয়োজন করেছে। এ সংবাদ জেনে আমার লোভ হলো পান্তা-ইলিশ খেতে। সত্যি কথা বলতে কি, আমার এ বাইশ বছরের জীবনে পান্তা-ইলিশ কী জিনিস, আমি চোখে দেখিনি। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব আজকাল গ্রাম্য মেয়েদেরকে কিছুটা আধুনিক করে তুলছে। বিজ্ঞানের ওসব অনবদ্য আবিষ্কার ঘেঁটে ওরা অনেক কিছু শিখছে।
টিনার করা পান্তা-ইলিশের গল্প শুনে যেহেতু আমার লোভ লেগেছে, ভাবলাম ওদের বাড়ি যাওয়া যায়। কখন যাবো! এখন? না, এখন বিকেল চারটা। লাঞ্চের টাইম শেষ। রাতে যাওয়া যায়।
২.
রাতে নয় বরং আমি সন্ধ্যার পরপরই গেলাম টিনাদের বাড়ি। খালাম্মা দরজা খুলে আমাকে দেখে অবাক কণ্ঠে বললেনÑ কিরে রঞ্জু, এত দিন পর আমাদের মনে পড়ল! তুই তো এ বাড়িতে আসা ভুলে গেছিস! আমরা গরিব, তাই না?
খালাম্মা, মানে টিনার মা খুব আহাদি মানুষ। অন্যকে আদর-সমাদরে তিনি বড়ই অনন্যা। এ কারণে উনাকে আমার ভালো লাগে। তাই এখানে বারবার আসি। অবশ্য আজ এসেছি পান্তা-ইলিশের লোভে।
Ñটিনাকে দেখছি না কেন খালাম্মা?
Ñআর বলিস না রঞ্জু। সেই সকালে বের হয়েছে টিনা। বৈশাখ উপলক্ষে বান্ধবীদের সাথে চন্দ্রগঞ্জ গেছে। সেখানে নাকি বর্ষবরণ আয়োজন। কিছুক্ষণের মধ্যে হয়তো এসে যাবে।
Ñকেন, আজ না ওর বান্ধবীদের এখানে আসার কথা ছিল?
Ñনা। কে বলে এসব?
মানে কী, টিনা না বলেছে ওর বান্ধবীদের জন্য বিশাল ভোজের আয়োজন করেছে! তবে কি সে মিথ্যা বলেছে আমায়!
Ñকী খাবে রঞ্জু? চা করি?
Ñনা খালাম্মা। তা পান্তা-ইলিশ কেমন খেলেন?
Ñখাইনি।
Ñতাহলে কি পান্তা-ইলিশ ফ্রিজে রেখে দিয়েছেন?
Ñআরে না। পান্তা-ইলিশ কোথায় পাবো! আজ মুলা তরকারি রেঁধেছি।
Ñমুলা তরকারি?
Ñহ্যাঁ রঞ্জু।
টিনাটা এত চাপাবাজ! পান্তা-ইলিশের ভুয়া গল্প করে আমাকে লোভ লাগিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে। এখানে এসে শুনি পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি মাছ গোশত মুরগি ডিম নয়, ওদের রান্না হয়েছে মুলা তরকারি।
খালাম্মা নানান কথার আসর তুলেছেন। সে দিকে আমার মন নেই। আমি অনলাইন চেক করে টিনাকে পেয়ে নক করলাম।
Ñকী করিস তুই?
Ñএই তো। আবার পান্তা-ইলিশ খেলাম।
Ñকোথায়?
Ñকোথায় আবার। বাসায়!
ফাজিল তো ভালোই চাপা মারা শিখেছে। বলেছে পান্তা-ইলিশের আয়োজন করেছে, অথচ রেঁধেছে মুলা। টিনা জানে না আমি এখন ওদের বাসায়। এসেছি পান্তা-ইলিশের লোভে, এসে শুনি মুলা!
ফেসবুক খুব খারাপ। টিনারা রাঁধে মুলা আর চ্যাট করতে গেলে বলে পান্তা -ইলিশ, মাছ, গোশত, মুরগি!
খালাম্মার সাথে একটা সেলফি তুলে টিনার ইনবক্সে পাঠিয়ে দিয়ে লিখলামÑ দেখ আমি তোদের বাসায়, তুই তো বাসায় নেই।
মেসেজ সিন হয়েছে, কিন্তু এন্সার আসে না। কিছুক্ষণ পর খালাম্মার মোবাইল বেজে ওঠে। খালাম্মা রিসিভ করে বললেন, কিরে টিনা, কী বলছিস, রঞ্জু? হ্যাঁ রঞ্জু আমাদের বাসায়, তুই কিভাবে জানিস? হ্যালো হ্যালো, টিনা মা, কথা বল।

 

 

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.