ads

বিপিও খাতে সম্ভাবনা বাড়ছে

নাজমুল হোসেন

দেশে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অনস্পট ইন্টারভিউয়ে অংশ নিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দেখিয়ে অনেকেই পেতে পারবেন চাকরি। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন। লিখেছেন নাজমুল হোসেন

আগামীকাল তৃতীয় বিপিও সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এতে সভাপতিত্ব করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলাদেশে যে বিপিও সেক্টরের সূচনা হয়েছিল তা এরই মধ্যে একটি সম্মানের জায়গা সৃষ্টি করতে পেরেছে এবং নিজেদের সমতা ও উল্লেখযোগ্যতা তুলে ধরতে সম হয়েছে। বিপিও সেক্টর বাংলাদেশের এক নতুন সম্ভাবনার নাম। বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে এই বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাতের। বছরে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা আসে আইসিটি খাত থেকে।
সরকার আইসিটি সেক্টর থেকে ২০২১ সাল নাগাদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আশা করা যায়, তার বেশির ভাগই আসবে বিপিও থেকে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অর্জন খুব বেশি ভালো না। সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট যে, বিপিও খাতে একটা বিশাল বাজার পড়ে আছে। এখন যদি বাংলাদেশ এই খাতে নজর দেয় তাহলে তৈরী পোশাক শিল্পের পরই বিপিও হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। বর্তমানে দেশে কলসেন্টারসহ বিভিন্ন আউটসোর্সিং কোম্পানিতে কাজ করছে প্রায় ৩৫ হাজার তরুণ। আউটসোর্সিং বলতে শুধু কল সেন্টার আউটসোর্সিং নয়। টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসের কাজ, এইচআর, আইটি এবং অ্যাকাউন্ট সব কিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের তরুণদের বিরাট অংশ বিপিও সেক্টরে কাজ করতে পারে। এই খাতে যারা কাজ করবেন তাদের মাত্র দুইটি যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। প্রথম যোগ্যতাÑ ‘অ্যাবিলিটি টু লার্ন’ অর্থাৎ আমি জানি না, জানতে চাইÑ এই মনোভাব থাকতে হবে। দ্বিতীয় যোগ্যতাÑ ‘কমিউনিকেশন স্কিল’ তথা যোগাযোগে দতা।
বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, বিপিও খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন এবারের বিপিও সামিটে অনস্পটে অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণসমাজ চাকরি পাবেন। দুই দিনের এবারের আয়োজনে দেশী-বিদেশী তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিার্থী এবং বিপিও খাতের সঙ্গে জড়িতরা অংশ নেবেন। থাকবেন ৪০ জন স্থানীয় স্পিকার, ২০ জন আন্তর্জাতিক স্পিকার। এ ছাড়া এবারের বিপিও সামিটে ১০টি সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনের মূল আয়োজনের আগে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্টিবেশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী কোনো-না-কোনোভাবে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। এই বিপুল তরুণ জনশক্তি কাজে লাগালে ২০২১ সাল নাগাদ বিপিও খাত থেকে এক বিলিয়ন ডলার আয় করা কঠিন কিছু নয়।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.