ads

বাড্ডায় তিন বছরেও শেষ হয়নি ইউলুপের কাজ। নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
বাড্ডায় তিন বছরেও শেষ হয়নি ইউলুপের কাজ। নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

তিন বছরেও শেষ হয়নি বাড্ডা ইউলুপ

অন্তহীন উন্নয়নের কবলে ঢাকা-৫
খালিদ সাইফুল্লাহ

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় তিন বছর ধরে চলছে ইউলুপ নির্মাণকাজ। এখনো এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে যানজটসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের। শুধু তাই নয় মাথার ওপরে বিশাল বিশাল লোহার পাত ঝুলে থাকায় নিচ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকেও থাকতে হচ্ছে সার্বক্ষণিক ঝুঁকিতে। এক দফা এক বছর সময় বাড়ানোর পরও এখন চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ সময়ের কাজ। তারপরও নির্দিষ্ট করে কেউই বলতে পারছে না এর সমাপ্তির সময়।


রাজধানীর গুলশান থেকে হাতিরঝিল হয়ে রামপুরামুখী যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রামপুরা ও বাড্ডায় মূল সড়কের ওপর দু’টি ইউ আকৃতির গাড়ি পারাপার সেতু (ইউলুপ) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপরে (রাজউক) এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়ন। নির্মাণকাজের দায়িত্বে আছে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। নকশা অনুযায়ী বাড্ডা ইউলুপের দৈর্ঘ্য ৪৫০ ও প্রস্থ ১০ মিটার। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। গত বছরের ২৫ জুন রামপুরা প্রান্তের ইউলুপটি চালু হয়েছে। রামপুরায় ইউলুপটি নির্মাণের পর যানজট নিরসনে কিছুটা সাফল্য পাওয়া গেছে। হাতিরঝিল থেকে বাড্ডার দিকে যেতে মেরুল বাড্ডায় চলছে দ্বিতীয় ইউলুপ নির্মাণের কাজ। প্রায় তিন বছর হতে চললেও কবে এটি চালু হবে তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেন না। গত বছরের ডিসেম্বরে ইউলুপটি চালুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এরপর আগামী জুনে শেষ হবে বলে জানান; কিন্তু এখন নতুন করে আগামী জুলাই-আগস্টে শেষ হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (রাজউক) জামাল আক্তার ভূঁইয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, নানা কারণে ইউলুপটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। মামলার কারণে প্রথমে কাজ শুরু করতেই অনেক দেরি হয়ে যায়। এরপর কাজ করতে গিয়ে ডেসকো, বিটিসিএল, তিতাস, ওয়াসাসহ বেশ কিছু পরিষেবা সংস্থার আন্ডারগাউন্ড তার নিয়ে সমস্যা হয়। তিনি বলেন, ইউলুপটির প্রায় ৮৬ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নিচের দিকে কাজ শেষ। এখন ওপরের দিকের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আমরা ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছি। তবে ভোগান্তি কমাতে আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যেই এটির নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।


হাতিরঝিলের মোড় থেকে রামপুরা সেতু হয়ে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের দিকে এগোলে মেরুল বাড্ডা। সেখানেই হচ্ছে বাড্ডা প্রান্তের ইউলুপ। বাড্ডায় এই ইউলুপ নির্মিত হলে রামপুরা, বনশ্রী বা আফতাব নগর যাওয়ার জন্য বিভিন্ন গাড়ি সহজে লেন পরিবর্তন করতে পারবে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট, মেরুল বাড্ডা, শাহজাদপুর, গুলশান ও কুড়িল যাওয়ার জন্য রাস্তার লেনটিও হবে ট্রাফিক সিগন্যালমুক্ত। যেসব গাড়ির প্রয়োজন হবে, সেগুলো সহজেই ইউলুপ ব্যবহার করে লেন পরিবর্তন করতে পারবে। এর ফলে ট্রাফিক সিগন্যালের কারণে এখন যে যানজটের সৃষ্টি হয়, তখন তা আর থাকবে না।


প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইউলুপের ঢালু দুই প্রান্তের কাজ শেষ হলেও রাস্তার ঠিক উপরের অংশটুকু এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। বর্তমানে স্টিলেরপাত স্থাপনের কাজ চলছে। ইউলুপের নিরাপত্তা প্রহরী আরব আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছেন স্টিলেরপাত বসাতে। স্টিলেরপাত বসানো শেষ হলে তারপর ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ইউলুপের নিচ দিয়ে যাওয়া রাস্তাকে দু’টি লেনে ভাগ করা হয়েছে; কিন্তু এ সড়কের মধ্যে বড় বড় গর্ত রয়েছে। এ ছাড়া ইউলুপের নিচে স্থায়ী ও অস্থায়ী পিলার রয়েছে। এতে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এর ফলে বাড্ডা পয়েন্টে সৃষ্ট যানজট এক দিকে রামপুরা হয়ে মালিবাগ এবং অন্য দিকে শাহজাদপুর ছাড়িয়ে নতুন বাজার বা তারও বেশি দূর পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। এতে রাত-দিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রগতি সরণি ব্যবহারকারী যাত্রীদের। বাড্ডা অতিক্রম করতেই তাদের এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। প্রগতি সরণি হয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন যাত্রী বলেন, ইউলুপ নির্মাণের কারণে বাড্ডা এলাকায় ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পিক আওয়ারে এই যানজট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, গাড়ি একবার থামলে আর নড়তেই চায় না। কখনো কখনো বাড্ডা অতিক্রম করতেই দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ইউলুপের কারণে সৃষ্ট যানজটে মালিবাগ ফাইওভারের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রীরা।


ইউলুপের পাশের মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মোতালেব হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, কাজ শুরুর পর থেকে বহুদিন ধরেই ব্যবসায়ীসহ যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। ধুলোবালুতে এই এলাকা দিয়ে হাঁটাই যেত না। রাস্তা কার্পেটিং করার পর সেই ধুলোবালু কমেছে। তিনি বলেন, পিলার ও বেজমেন্টর কাজের সময় রাত-দিন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হতো। ব্যস্ততম রাস্তায় এ ধরনের উন্নয়নকাজ দ্রুতগতিতে করা উচিত। তা না হলে মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা যে কষ্ট করলাম, ব্যবসায় আর্থিকভাবে তিগ্রস্ত হলাম- এটা অনেকটাই কম হতো যদি কাজটা দ্রুত হতো। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী গণপরিবহন তুরাগের এক বাস চালক বলেন, রাস্তা সরু ও খারাপ থাকার কারণে যানজট হচ্ছে। অনেক সময় তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। এ ছাড়া গাড়িও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজ তাড়াতাড়ি হলে ভোগান্তি কম হতো।


আব্দুর রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ইউলুপের কাজের কারণে মানুষকে দীর্ঘ দিন থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এই এলাকার বাসিন্দারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। আমরা চাই এটি দ্রুত চালু হোক।


রাজউক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে শুরু হওয়া হাতিরঝিল প্রকল্পের মেয়াদ চার দফা বাড়ানো হয়। মেরুল বাড্ডা অংশের ইউলুপ নির্মাণসহ হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পঞ্চমবারের মতো আরো দেড় বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে আবারো ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে রাজউক।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.