লাগেজ রেখে সটকে পড়া তরুণীকে ঘিরেই রহস্য
লাগেজ রেখে সটকে পড়া তরুণীকে ঘিরেই রহস্য

লাগেজ রেখে সটকে পড়া তরুণীকে ঘিরেই রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মাদারটেকে লাগেজ থেকে শাহ আলম ভূঁইয়ার (৬৫) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো রহস্যের জট খোলেনি। লাগেজটি সিএনজিতে রেখে সটকে পড়া ওই তরুণীকে ঘিরেই রয়েছে রহস্য। এ হত্যাকাণ্ডে শুধু লাগেজ বহন করা ওই তরুণীই জড়িত নাকি এর সাথে অন্য কেউও রয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই তরুণীকে ধরতে পারলেই এ হত্যার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। তবে গতকাল রাতে এ খবর লেখা পর্যন্ত সেই তরুণীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের দাবি, লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়া ওই তরুণীকে শনাক্ত করা হয়েছে। সে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলের ডিজে পার্টির নর্তকী। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। এ দিকে ঘটনার দিন ওই লাগেজ থেকে একটি বোরকার ছেঁড়া অংশ এবং একটি ব্যবহৃত কনডম উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই কনডমটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল রোববার রাত সাড়ে ৯টায় বনশ্রীর দিন থেকে পূর্ব মাদারটেক গোড়ান প্রেজেক্টের সামনে এসে নামে এক তরুণী। পরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও যাওয়ার কথা বলে একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে। এ সময় গাড়িরচালক মজিবর রহমানকে ওই তরুণী বলেন, লাগেজে কাচের জিনিস সাবধানে ওঠাতে হবে। এ কারণে মজিবরসহ তিনচারজন সিএনজিচালক মিলে সেই লাগেজ সিএনজিতে ওঠায়। কিছু দূর গিয়ে যানজটে আটকে ওই যাত্রী পানি খাবে বলে গাড়িতে লাগেজ রেখেই সটকে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও তরুণী ফিরে না আসায় সন্দেহ হয় সিএনজিচালক মজিবরের। তখন তিনি ফিরে যান মাদারটেকে। বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা সবুজবাগ থানায় খবর দেয়। রাত ১২টায় লাশটি অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এরপর ওই রাতেই তার পরিচয় মেলে। পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করে।

ওই দিন নিহতের জামাতা আশিক জানিয়েছিলেন, স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন, মেয়ে নাসরিন জাহান ও দুই ছেলেকে নিয়ে উত্তর গোড়ানের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন নিহত আলম। নিজের লাইসেন্স না থাকলেও বিদেশে লোক পাঠাতেন তিনি। গত ৮ এপ্রিল রোববার বিকেলে একটি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন পুলিশ লাগেজ থেকে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এরপর ওই রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন তারা। জানা গেছে, নিহত শাহ আলমের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার কদমতলা থানার শরণখোলায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই শরীফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনার দিন লাগেজ থেকে লাশের সাথে একটি কনডমও উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটি পরীার জন্য আদালতে আবেদন করা হলে আবেদন গৃহীত হয়েছে। কনডমটি দুই-এক দিনের মধ্যেই পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি একটি জনশক্তি রফতানি এজেন্সির সাথে কাজ করতেন। তার বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠাবেন বলে একটি জনশক্তি রফতানি এজেন্সির শরণাপন্ন হন। এ কারণে কয়েক মাস ধরেই তিনি অর্থকষ্টে ভুগছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের মোবাইল ফোন বিক্রির দোকানও বিক্রি করে দেন তিনি। এরই মধ্যে তার তিন মাসের বাসাভাড়া ৪২ হাজার টাকাও বকেয়া পড়ে। দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশ পাঠানোর টাকা খোয়া যাওয়াসহ নানা বিষয় হতাশায় ছিলেন শাহ আলম।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.