খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন ও তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হলেও এখনো পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।

রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, সরকারকে বলব, তার চিকিৎসা কিসে ভালো হয়, সেটি তাকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন। বেগম জিয়ার ইচ্ছানুযায়ী তার চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ড মামুলি প্রহসনের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করে ফিজিওথেরাপী সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ তার স্বাস্থ্যগত যে পরীক্ষা, তার যে অসুস্থতা এটা নিয়ে যতটুকু মনোযোগ দেওয়া দরকার, যতটুকু ডায়গোনেসিস করা দরকার সেটি সরকারি চিকিৎসকরা করেননি। একজন বয়স্ক ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী যিনি দীর্ঘদিন ধরে হাটু ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি তাকে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রাখায় আরো বেশিকিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমনিতেই রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস আছে। তার দুই হাটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তার চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীকে হাসপাতালে এক্সরে পরীক্ষার জন্য আনা হলেও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবার সুযোগ ও পরামর্শ নেওয়া হয়নি। তাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার জন্যই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সাজা দিয়ে দিয়ে কারাবন্দি করে এখন চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। এটা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে বহুমুখী চক্রান্তের অংশ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ভোটারবিহীন অগণতান্ত্রিক শক্তি হচ্ছে সবচাইতে নিকৃষ্ট অশুভ শক্তি। এখন জনগন মনে করে দেশে সবচাইতে বড় অশুভ শক্তি বর্তমান ভোটারবিহীন মহাজোট সরকার যার নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগনের ভোটের অধিকার মানুষ দিন গুনছে এই অশুভ শক্তির পতনের। আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারীরা কী শুভ শক্তি? অনাগত দুঃচিন্তা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ঘনায়মান হতাশা ও বিরোধীদের গুম, খুন, অদৃশ্য করা, হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা, হাটুতে গুলি করে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করা, খুলনা বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে কক্সবাজারে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে দেওয়া ইত্যাদি পরিস্থিতিতে দেশের জনগোষ্ঠি প্রাণখুলে হাসতে পর্যন্ত ভুলে গেছে। এই পরিস্থিতি শুভ শক্তির পরিচয় বহন করে না।

কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের দেখা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে বাঁধা প্রদান ও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত মাহমুদ, আফজাল এইচ খান, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, সাইফুল ইসলাম পটু, আমিনুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.