গরিলা এখন বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী
গরিলা এখন বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী

ক্যারিশমাটিক এই প্রাণীগুলো এখন বিলুপ্তর পথে!

বিবিসি

যেসব প্রাণীকে সাধারণত মানুষ ক্যারিশমাটিক বা জনপ্রিয় বলে ধরে নেয়া হয়, যেমন ধরুন তেজস্বী, ক্ষিপ্র কিংবা অসাধারণ সুন্দর বলে যাদের খ্যাতি আছে, নতুন এক গবেষণা বলছে তারা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এই বেশি জনপ্রিয় প্রাণীদের দেখা যায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের ব্রান্ডিং ও বিজ্ঞাপনে অহরহই প্রতিনিধিত্ব করছে।

গবেষকেরা দেখেছেন, এ প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে এমন কোনো আশঙ্কায় ভোগে না সাধারণ মানুষ। ফলে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হয় না। সেই সাথে সত্যিকারের বাঘ-সিংহের বদলে রোজ গণমাধ্যমে যে 'ভার্চুয়াল' বাঘ-সিংহ দেখে মানুষ, তাতে জঙ্গলে এসব প্রাণী বিপুল সংখ্যায় আছে বলেও মানুষ মনে করে।

ফলে গবেষকেরাই প্রশ্ন তুলছেন, জনপ্রিয়তাই কি কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে এসব প্রাণী সংরক্ষণের জন্য!

ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ এবং জার্মান এই চারটি ভাষায় চালানো একটি অনলাইন জরিপে মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাদের চোখে সবচেয়ে 'ক্যারিশমাটিক' প্রাণী কোনটি।

তাদের সবচেয়ে বড় অংশটি উত্তর দিয়েছেন বাঘ। এর পরেই রয়েছে সিংহ, হাতি, জিরাফ আর চিতার নাম।

এরপর পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের শিগগিরই বিপন্ন হতে যাওয়া প্রাণীদের তালিকা মিলিয়ে দেখেন গবেষকেরা।

তাতে দেখা যায়, জরিপে শীর্ষে থাকা দশটি প্রাণীর মধ্যে নয়টিই সংকটাপন্ন, বা বিপন্ন অথবা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে।

জরিপে যখন এসব প্রাণী সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, সেগুলোর অবস্থা খারাপ বলে মনে করে কিনা মানুষ। উত্তর ছিল, না।

বিলুপ্ত প্রায় গরিলা এই তালিকায় আছে তা ভাবতেও পারেননি অধিকাংশ উত্তরদাতা।

চিতা বাঘের প্রজনন ক্ষমতা গত কয়েক দশকে ৭০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে নিজেদের আদিবাসে তাদের যেসব বংশধরেরা রয়েছেন, মোট সংখ্যার ১০ শতাংশও নয় তারা।

গবেষক দলের নেতা সারাহ ডুরান্ট বলছেন, প্রাণীদের রক্ষায় এক্ষুনি নতুন ধরণের কোনো টেকসই পরিকল্পনা করতে হবে।

সেই সাথে যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্যের ব্রান্ডিং এবং বিজ্ঞাপনে এসব প্রাণী ব্যবহার করবেন, প্রাণী সংরক্ষণে তাদের সবার অর্থ সাহায্য প্রদান করা উচিত।

 

এখন মনের কথাও শুনবে অন্যে!

কারো ওপর খুব রেগে আছেন। মুখে বলতে পারছেন না। কিন্তু আপনার সে মনের কথা এখন অনায়সেই বুঝতে পারবে সে। কিভাবে?

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক গবেষক এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যার সাহায্যে মানুষের মাথার মধ্যে যে চিন্তাভাবনা চলছে তা শুনতে পারবেন দ্বিতীয় ব্যক্তি।

তবে অর্ণব কাপুর আবিষ্কৃত অল্টার ইগো হেডসেট কোনো মাইন্ড রিডিং যন্ত্র নয়। এমআইটির মিডিয়া ল্যাব তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই যন্ত্র আপনার মস্তিষ্কের ভেতরে কী চলছে তা পড়তে পারে না। মানুষের ব্রেন অ্যাক্টিভিটির সাথে এর কোনো সরাসরি যোগাযোগ বা ফিজিকাল অ্যাকসেস নেই।

প্রশ্ন আসে তাহলে কিভাবে কাজ করে এই যন্ত্র? অল্টার ইগো সাবভোকালাইজেশন টেকনোলজির ব্যবহার করে। যখনই আপনি মনে মনে কোন কথা বলেন, চোয়াল সামান্য হলেও নড়াচড়া করে। মুখের নিচের দিকে এবং ঘাড়ের কাছের ত্বকের ওপর যে ইলেকট্রিকাল ইমপালস তৈরি হয় সেটিই পড়ে ফেলে এই যন্ত্র।

যন্ত্রটি দেখতে খানিকটা বাকানো হাড়ের মতো। কানের পাশে লাগানো এই যন্ত্র ছুঁয়ে থাকে থুতনির কাছের চোয়াল এবং নিচের ঠোঁট। যদিও সাবভোকালাইজেশনকে শব্দে রূপান্তরিত করা কোনো নতুন ভাবনা নয়, তবে অর্ণব কাপুর ও তার সহযোগীরা খুঁজে বের করেছেন মুখের এমন সব অংশ যেখান থেকে সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ভাইব্রেশন গ্রহণ করতে পারবে এই যন্ত্র।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.