ads

গয়নায় আধুনিকতা
গয়নায় আধুনিকতা

গয়নায় আধুনিকতা

বদরুননেসা নিপা

নকশা ও উপকরণের বৈচিত্র্য এ সময়ের গয়নার ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে মেটালের গয়নার বাজার এখন জমজমাট। দামি ধাতুর বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে দস্তা, পিতলের মতো সুলভ ধাতু। এর সাথে থাকছে নানা ধরনের পাথর, পুঁতি, কড়ি, কাঠ, প্লাস্টিক, কাপড় এমনকি সুতাও। সাবেকি নকশার পাশাপাশি থাকছে একেবারে ভিন্নধর্মী নতুন ডিজাইন। তাই সহজলভ্য এসব গয়না সবাই পছন্দমতো কিনছে আর সাজিয়ে তুলছে নিজেকে

সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে গয়নার ব্যবহার অনেক প্রাচীন। সুপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মধ্যে গয়নার প্রচলন ছিল। সেসব গয়না ছিল প্রকৃতি থেকে খুঁজে নেয়া নানা রকম উপাদানে তৈরি। দিনবদলের সাথে সাথে বদলেছে নারীর গয়নার ধরন। আধুনিক এসময়ে স্বর্ণ, রুপা ও হীরার গয়নার পাশাপাশি নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে মেটালের বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না। অ্যান্টিক ডিজাইনের গয়নায় প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ ভেঙে এসেছে নতুনত্ব, যা প্রাকৃতিক পরিবেশবান্ধব এবং ফিউশনধর্মী। এ ধরনের গয়নাতেই অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে এখন নারীরা। গয়নাগুলোতে রয়েছে নিত্যনতুন ডিজাইন এবং তুলনামূলক দামও কম। সব মিলিয়ে মেটাল ও অ্যান্টিকের গয়না এখন লাইফস্টাইলের অংশ। মেটালের পাশাপাশি অন্য উপকরণের মধ্যে রয়েছে- মাটি, কাঠ, পাখির পালক, নারিকেলের ছোবড়া, কাপড়, শিমের বিচি, কড়ি, বাঁশ, বেত, বিডস ইত্যাদি উপাদানে হরেক ধরন ও ডিজাইনের গয়না।

দেশীয় অনেক ফ্যাশন হাউজে তৈরি করা হয় পরিবেশবান্ধব গয়না। নতুনত্ব আর নান্দনিকতার সাথে যখন যুক্ত হয় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি, তখন প্রকৃতির অব্যবহৃত উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয় পরিবেশবান্ধব গয়না। কোনোটা হয়তো পাখির পালক দিয়ে তৈরি, আবার কোনোটা অব্যবহৃত কাঠ দিয়ে, পুরনো কাপড় দিয়ে তৈরি গয়না, নারিকেলের ছোবড়ার তৈরি আর মাটির গয়না তো বেশ বড় একটা জায়গা দখল করে রেখেছেই। এসব গয়নায় পুরোপুরি বাঙালিয়ানা সাজও রয়েছে। এ গয়নাগুলো শাড়ি, টপস কিংবা সালোয়ার-কামিজসহ সব পোশাকের সাথে মানিয়ে যায়। এসব গয়না পাশ্চাত্য ডিজাইনের পোশাকের সাথেও চমৎকার মানায়। অবশ্যই পোশাকের সাথে মিলিয়ে গয়না পরতে হবে। ফ্যাশন হাউজ মাদলের কর্ণধার মাসুমা খাতুন শাম্মী বলেন, পোশাকের সাথে মানানসই এসব হরেক রকম প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি গয়নার ব্যবহার নারীকে যেমন নান্দনিকতায় সাজায়, তেমনি সাধারণ সাজের মধ্যে দিচ্ছে ভিন্নতা। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সব সময় স্বর্ণ পরা যায় না।

তাই অফিস বা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াতে কিংবা বাড়িতে এসব মেটালের গয়না পরা যায়। শাড়ির সাথে পরতে পারেন হালকা বা ভারী মেটালের গয়না। এসব গয়নায় কখনো পিতলের সোনালি রঙ, কখনো অ্যান্টিক বা কপার রঙের প্রলেপ দেয়া। গলায় অনেকে বড় ত্রিকোনাকার গোলাকার ঝুলনি দেয়া কোনো লকেট পরতে পারেন। লকেট মোটা কোনো চেইন বা মালার সাথে লাগানো থাকতে পারে কিংবা গলার সাথে লাগোয়া কোনো নেকলেসও দিব্যি মানিয়ে যাবে। শাড়ির সাথে কানে মাকড়ি বা ঝুমকা গলায় কাঠের মাদুলিও পরতে পারেন। গলায় ভারী গয়না পরলে কানে ছোট দুল পরুন। হাতের গড়ন বুঝে পরা যেতে পারে বালা, চুড়ি কিংবা ব্রেসলেট। যাই পরা হোক না কেন, তা হতে পারে কাঠের তৈরি বালা, লেসের চুড়ি কিংবা চিরায়ত বাঙালি নারীর পছন্দ রেশমি চুড়ি।

সালোয়ার-কামিজের সাথে পরতে পারেন কাঠ, বাঁশ, বেত, কাপড়, পুঁতি, স্টোন ও পার্লের তৈরি গয়না। সুতার টারসেলের সাথে কড়ি ও বিডস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভিন্নধর্মী গয়না। পাশ্চাত্যের পোশাক ও টপসের সাথে মিলিয়ে মেটালের মালার সাথে বড় লকেট পরতে পারেন। আরো আছে পায়ের মল, খাড়–, বিছা, আংটি ও টিকলিসহ চুলের অনুষঙ্গ। পোশাকের সাথে গয়না যোগ করে বাড়তি সৌন্দর্যের মাত্রা। তাই নগরীর ফুটপাথ থেকে শুরু করে সব দোকানেই গয়নার পসরা বসে।

কে-ক্র্যাফট, বিবিয়ানা, যাত্রা, আড়ং, মাদল, মাত্রা ও দেশালসহ বেশ কিছু ফ্যাশন হাউজে পাওয়া যাবে এ ধরনের গয়না। নানা ডিজাইনের মেটালের তৈরি গয়না, পার্ল, পুঁতি, মাটির, বিডসের ও নানা উপাদানের কিছু গয়না পাওয়া যাবে নিউমার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, কর্ণফুলী মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, মল্লিকা প্লাজা এবং রাপা প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেটে। এ ছাড়াও স্কুল-কলেজ বা মার্কেটের পাশ ও ফুটপাথসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনতে পারেন আপনার পছন্দের গয়নাটি। আজকাল অনলাইনে সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের নিজস্ব নকশা ও উপাদানে তৈরি পছন্দমতো গয়না কিনে নিতে পারেন।
ছবি : বিশ্বরঙ, মুসলিম কালেকশন ও বেয়ারবিজ বিউটি স্যালুন

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.