দর্শকবান্ধব নয় ঢাকা চিড়িয়াখানা

সুমনা শারমিন

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা চিড়িয়াখানা এখনো সবার শীর্ষে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ বিশেষত শিশুদের প্রধান আকর্ষণ এই চিড়িয়াখানা। কিন্তু দর্শকপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিবেশ, প্রাণী বৈচিত্র্য ও সুযোগ-সুবিধা এখনো দর্শকবান্ধব নয়। গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তাও পরিচ্ছন্ন নয়। পশু-পাখির শেডের আশপাশে ঘিরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। পশু-পাখির কিছু কিছু শেড অকেজো হয়ে আছে। মেরামতের উদ্যোগ নেই। দর্শকদের জন্য যে পাবলিক টয়লেট রয়েছে তা নোংরা। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক। কিন্তু সেখানের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। পার্কের ভেতরে বসার বেঞ্চগুলো নোংরা আর খাঁচার প্রাণীগুলোকে দেখা গেছে নিস্তেজ। কোনো সাড়াশব্দ নেই। কোনো কোনো খাঁচায় প্রাণী বা পাখি নেই। কোনো কোনো প্রাণীর খাঁচার বাইরে নির্দেশিকা বোর্ড রয়েছে। আবার অনেক প্রাণীর খাঁচার বাইরে কোনো নির্দেশিকা বোর্ডই নেই। নির্দেশিকা বোর্ডে ওই প্রাণী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ থাকার কথা। কোনো কোনো বোর্ডের লেখা উঠে গেছে। প্রাণীর খাঁচার কাছাকাছি কোনো নিরাপত্তা প্রহরী বা দায়িত্বরতদের কারো দেখা মেলা ভার।
১৯৭৪ সালের ২৩ জুন জনসাধারণের জন্য বর্তমান চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত করা হয়। এরপর ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা বিশ্বমানের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল গত ৫ বছর আগে। এজন্য প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি প্রতিনিধিদল এ কাজের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোকে আপন পরিবেশে চলতে দিতে সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এর মাধ্যমে প্রাণীগুলো পাবে উন্মুক্ত পরিবেশ। খাঁচাবন্দি প্রাণীরা অনেকটাই বন্য পরিবেশ পাবে।
চিড়িয়াখানার পশু-পাখির খাঁচাকে সম্পূর্ণ বন্য আবহে তৈরি করতে একজন জাপানি জু-আর্কিটেক এবং একজন জু-কনসাল্টেন্টের সহায়তা নেয়ার কথা ছিল। এই প্রকল্পে ঢাকা চিড়িয়াখানার ১৮৬ একর জমিকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে। ঢাকা চিড়িয়াখানার বর্তমান অবকাঠামো পরিবর্তন করে দর্শকদের জন্য একমুখী রাস্তা তৈরি করা হবে। শিশুপার্ক, সুরক্ষা দেয়াল, দিকনির্দেশক, সব শ্রেণীর মানুষের সহজে যাতায়াতের জন্য সিঁড়ি, দর্শকদের জন্য বসার ব্যবস্থা (ফুটপাত এবং পার্কে ছাউনি এবং ছাউনি ছাড়া), রেলিং, সড়ক দ্বীপ, রোড ডিভাইডার ও বিভিন্ন গাছের পাত্র, রাস্তায় এবং বাগানে আলোর ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, দর্শকদের জন্য আলাদা রাস্তা (একমুখী) এবং দেয়াল ও বনায়ন (ভূ-প্রাকৃতিক), গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা এবং থাকবে শব্দহীন গাড়ি। এই শব্দহীন গাড়িতে চড়ে পুরো চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলো দেখা যাবে। কিন্ত এই উদ্যোগ কাগজেই বন্দী রয়ে গেছে!
চিড়িয়াখানা প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা। দুই বছরের শিশুরও টিকিট লাগবে এমনটা টিকিট কাউন্টারের সামনে লেখা আছে। চিড়িয়াখানার ভিতরে একটি প্রাণী জাদুঘর আছে। সেখানে ঢুকতে আলাদা টিকিট লাগে। তবে প্রতিবন্ধি শিশুসহ সব প্রতিবন্ধীর প্রবেশ ফি লাগে না। টিকিট কাটার জন্য ৮টি কাউন্টার আছে। দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে রোববার। আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন চিড়িয়াখানার (https://dhakazoo.org) ওয়েবসাইটে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.