ads

মূল্যবৃদ্ধিতে স্বল্প মূলধনী কোম্পানির প্রাধান্য

চার দিন পর পুঁজিবাজারের পতন থামল

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

অবশেষে পতন থেমেছে পুঁজিবাজারের। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের উন্নতি হয়। এর আগে টানা চার দিন পতন হয় দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচক ও লেনদেনের। গতকাল দিনের বেশির ভাগ সময় সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও শেষ দিকে এসে ঘুরে দাঁড়ায় বাজারগুলো। এ সময় উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি হয়।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিন শেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি হয় যথাক্রমে ৩ দশমিক ১৫ ও ৩ দশমিক ০৬ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি হয় যথাক্রমে ২১ দশমিক ৪৫ ও ১৫ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক যথাক্রমে দশমিক ১৬ ও ৩ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের পাশাপািশ উন্নতি হয় ডিএসইর লেনদেনের। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ৫১৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ১০৩ কোটি টাকা বেশি। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৪১২ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। সিএসইতে ৩৫ কোটি টাকা থেকে ২৭ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
এ দিকে গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই স্বল্প মূলধনী বেশ কয়েকটি কোম্পানির ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি হয়। দিনের শুরুতে সূচকের অবনতির মধ্যেও কোম্পানিগুলোতে বেশ ক্রয়চাপ লক্ষ করা গেছে, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসা দশটি কোম্পানির আটটিই ছিল কম মূলধনের। এগুলো ছিল উসমানিয়া গ্লাস, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, সোনালি আঁশ, কোহিনূর কেমিক্যালস, বিডি আটোকার, ন্যাশনাল টিউব ও রেকিট বেনকিসার। উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর সব ক’টিই ২ থেকে ১৫ কোটি টাকা মূলধনের। তা ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কয়েকটি কোম্পানিও গতকাল হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়, যা দিনের সূচকের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।
আগের দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় গতকালও সূচকের নি¤œমুখী প্রবণতা দিয়েই লেনদেন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে বেলা ১১টায় নেমে আসে ৫ হাজার ৭৫৩ পয়েন্টে। প্রথম আধঘণ্টায় সূচকের ২০ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। এখান থেকে সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। বেলা ১১টায় সূচকটি পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে। সূচকের এ অবস্থান থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপে পড়ে বাজারটি। পরবর্তী দুই ঘণ্টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৭২৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের ৪৭ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। বেলা দেড়টার পর ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। দিন শেষে হারানো সূচক ফিরে পাওয়া ছাড়াও সূচকের ১১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট উন্নতি হয় ডিএসই সূচকের।
দুই পুঁজিবাজরের বেশির ভাগ খাতেই মূল্য বৃদ্ধি হয় গতকাল। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু কোম্পানি গত ক’দিনের হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। এ ছাড়া সিমেন্ট, সিরামিকস, রসায়ন, জ্বালানি, টেক্সটাইল ও খাদ্য খাতে দাম বাড়ে বেশির ভাগ কোম্পানির। ব্যতিক্রম ছিল বীমা, সেবা ও পাট খাত। এ তিনটি খাতে বেশির ভাগ কোম্পানি দরপতনের শিকার হয়। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৪০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬৫টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১২০টি। অপরিবর্তিত ছিল ৫৫টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩৩টি সিকিউরিেিটজর মধ্যে ১২১টির দাম বাড়ে, ৮৯টির কমে ও ২৮টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল টানা অষ্টম দিনের মতো লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় ১৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ব্র্যাক ব্যাংক ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে অ্যাডভেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, লাফার্জ হোলসিম, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, সোনালি আঁশ, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরিজ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ইফাদ অটোস।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ দাম বাড়ে জীবনবীমা কোম্পানিটির। উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে উসমানিয়া গ্লøাস ৯.৯৬, সোনালি আঁশ ৮.৭৪, ন্যাশনাল টি কোম্পানি ৭.৪৯, বেক্সিমকো লি ৭.২৪, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট ৬.২৩, কোহিনূর কেমিক্যালস ৫.৮৮, ন্যাশনাল টিউব ৫.৬৬ ও বিডি অটোকারের ৫.৪২ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি হয়। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দর হারায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক। লভ্যাংশ ঘোষণার রেকর্ড পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ে ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এ ছাড়া অ্যাডভেন্ট ফার্মা ৭.৮৬, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ৫.৭৬, রূপালি ইন্স্যুরেন্স ৪.৬৩, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৪.৬২ ও সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ৪.২৫ শতাংশ দর হারায়।

 

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.