সিরিয়ার ওপর বেআইনি হামলা

আক্রমণ নয় আলোচনা করুন

সিরিয়ার জনগণ আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক ভয়াবহ শিকার। আসাদ সরকারকে হটাতে গিয়ে সেখানে বাইরের দেশগুলোর অনুপ্রবেশ ঘটেছে। দেশটিতে বিভিন্ন দেশের মদদে গড়ে উঠেছে অনেক বিদ্রোহী গ্রুপ। আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়নি; এর মধ্যে সেখানে প্রায় চার লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১৫ লাখের মতো মানুষ। প্রায় ৫০ লাখ সিরীয় নাগরিক দেশটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এই করুণ অবস্থার মধ্যে ইঙ্গ মার্কিন ও ফ্রান্সের ত্রয়ী শক্তি দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বাশারকে প্রতিহত করার নামে এই হামলা চালালেও মূল ক্ষতির শিকার সাধারণ মানুষ। এই ত্রয়ী শক্তি এর আগে ইরাক আক্রমণে মূল ভূমিকা রেখেছে। এর ফলাফলও ছিল ভয়াবহ। তাদের সেই আক্রমণ কারো জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি।
ইরাক আক্রমণে কোনো ধরনের আইন-কানুনের তোয়াক্কা ইঙ্গ মার্কিন বাহিনী করেনি। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ রয়েছে ইরাকেÑ এ ধরনের একতরফা অভিযোগ এনে ওই হামলা চালানো হয়। পরে প্রমাণিত হয়েছে, এ ধরনের কোনো অস্ত্রের মজুদ দেশটিতে ছিল না। একইভাবে এবার বাশারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে দেশটির জনগণের বিরুদ্ধ তিনি নাকি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছেন। বাসার সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুদ ধ্বংস করে দেয়ার জন্য এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। এবারের হামলার ক্ষেত্রেও জাতিসঙ্ঘের অনুমতি নেয়া হয়নি। দেশ তিনটি মনে করছে, বাশারের বিরুদ্ধে হামলা চালানো দরকার তাই করেছে। এটা এক ধরনের মাস্তানি ছাড়া অন্য কিছু নয়। সিরিয়া একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। একটি দেশের বিরুদ্ধে চাইলেই আক্রমণ করা যায় না। এটা আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের সারাসরি লঙ্ঘন। রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা নিশ্চিত নয়। এটা একটা বিতর্কিত ব্যাপার। একটি অস্পষ্ট অভিযোগ নিয়ে এ ধরনের ব্যাপক হামলা চালানোর পরিণাম হবে ভয়াবহ। ব্যাপারটি ত্রয়ী শক্তি এখন আঁচ করতে পারছে না। এ ধরনের হামলার ব্যাপারে নিজেদের দেশের মানুষের সমর্থন নেই। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট এই হামলার বিষয়টি অনুমোদন করেনি। অন্য দিকে আমেরিকার বর্তমান উগ্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্রান্সের অবস্থাও ভিন্ন কিছু নয়।
কূটনীতিক বহিষ্কার নিয়ে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমাদের উত্তেজনা চলছে। এ হামলার ফলে দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো নিয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর বিরোধ নিজেদের মধ্যে বিরোধকে খুব বেশি উত্তেজিত করে না। দেশগুলোর বিরোধের ফলে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যায়। যেমন এ ধরনের বিরোধের ফলে সিরিয়ার লোকেরা রাশিয়া ও পশ্চিমা উভয় জোটের মাধ্যণ্ডে, কচুকাটা হবে। এমন হওয়ার সম্ভাবনা কম যে মার্কিন ও ব্রিটিশেরা যৌথভাবে রাশিয়াকে হামলা করে বসবে। সিরিয়ায় বিবদমান পরিস্থিতি সিরিয়ার মানুষের ওপর হামলার পথ খুলে দিয়েছে বহিরাগতদের। তারা একে ওপরের ওপর হম্বিতম্বি করছে ঠিকই; কিন্তু মারছে সিরিয়ানদের।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকানরা যেভাবে সিরিয়া আক্রমণ করে বসল, তাতে মনে হয় না পৃথিবীতে কোনো শৃঙ্খলা আছে। দেশ তিনটি স্রেফ নিজেদের ইচ্ছে হলো, তাই বাশারের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের নাম করে সিরিয়ার ওপর হামলা করল। এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। এ ব্যাপারে অবশ্যই জাতিসঙ্ঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা দরকার। নিরাপত্তা পরিষদে অবশ্যই এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার। সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে দেশটিতে বিবদমান সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে আমরা মনে করি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.