ads

নাগর নদে পুকুর বানিয়ে ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চলনবিলেন ইরি ধান ও রবিশস্য চাষ : নয়া দিগন্ত
নাগর নদে পুকুর বানিয়ে ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চলনবিলেন ইরি ধান ও রবিশস্য চাষ : নয়া দিগন্ত

নাগর নদে শতাধিক পুকুর, বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ হুমকির মুখে চলনবিলের ইরি ধান

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোরের সিংড়া উপজেলার নাগর নদের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে অবৈধ দখলদার ভূমিদস্যুদের কারণে। নিয়মিত ড্রেজিং না করা, নদীজুড়ে পুকুর খনন ও বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এ নদী আজ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া নদীতে বাঁধের কারণে গত কয়েক দিনের বর্ষণ ও ঢলের পানি চলনবিলে ঢুকে পড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা ইরি ধানসহ বিভিন্ন রবিশস্য।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখলের কারণে নাগর নদ ও তার সংযোগ নদী গুড়-আত্রাইয়ের ঐতিহ্য ও গতি প্রবাহ হারিয়ে যেতে বসেছে। ভূমিদস্যুরা সিংড়া উপজেলার জয়নগর তাজপুর গ্রাম থেকে সারদানগর ফার্ম পর্যন্ত নাগর নদ দখল করে শতাধিক পুকুর বানিয়ে ও নদের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। সম্প্রতি খরসতি গ্রামের প্রভাবশালী ইদ্রিস আলী ও শামসুল ইসলাম ওরফে কালু সাদনগর এলাকায় নাগর নদজুড়ে চারটি বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছে। এতে নদে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া সম্প্রতি কয়েক দিনের বর্ষণ ও ঢলের পানি নামতে না দেয়ায় ধর্মপুর, বাশারনগর, ভুলবাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন ভাঙন দিয়ে ঢুকে চলনবিলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা ইরি ধানসহ বিভিন্ন রবিশস্য হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন নাগর নদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদজুড়ে পুকুর খনন ও অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর পানি ধর্মপুর ও বাশারনগর এলাকার ভাঙন দিয়ে বিলে ঢুকছে। শতাধিক কৃষক এ সময় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন।
বাঁধে কর্মরত কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীদের কারণে প্রতি বছরই এ ভাঙন দিয়ে বিলে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চলনবিলের লক্ষাধিক কৃষক। এ ছাড়া নদীতে লাখ লাখ ঘনমিটার পলি পড়ে ও অবৈধভাবে পুকুর খননের কারণে এ নদী নাব্যতা হারিয়ে ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত পলি ও নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ ও নিয়ম বহির্ভূত রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণে নাগর নদটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। অবিলম্বে নদীগুলো ড্রেজিং করা প্রয়োজন।
এ বিষয় অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী বলেন, জয়নগর থেকে সারদানগর ফার্ম পর্যন্ত নাগর নদে প্রায় শতাধিক পুকুর রয়েছে। তার শুধু একটি পুকুর। আর পানি প্রবাহের জন্য বাঁধের কিছু অংশ খুলে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি ভেকু গাড়ি দিয়ে মাটি সরিয়ে দেবেন বলে জানান।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.