কিশোর মুসা রবিনের অভিযান-৪

রকিব হাসান

এগার.
মুসার হাত খামচে ধরেছে ফারিহা। তার নখ বসে যাচ্ছে মুসার বাহুতে। মিস্টার উলফকে জিজ্ঞেস করল, ‘নেকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলেছিল নাকি ছেলেটাকে?’
মাথা নাড়লেন মিস্টার উলফ। ‘কেউ জানে না কী হয়েছিল। তবে রাতের বেলা, বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে যখন মস্ত গোল চাঁদ ওঠে আকাশে, ওই নেকড়েটার ডাক আজো শোনা যায়।’
অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসল কয়েকজন শ্রোতা। ঘন ঘন চোখ ফেরাচ্ছে অন্ধকার বনের দিকে। আর দু-তিন দিন পরই পূর্ণিমা। আকাশে বেশ বড় একটা চাঁদ ছিল এতক্ষণ। ঘন মেঘে ঢেকে ফেলেছে সেটাকে।
‘আপনি আসলে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন,’ কিশোর বলল। ‘নেকড়ে-ফেকড়ে নেই এ দিকটাতে।’
কিশোরের দিকে তাকালেন মিস্টার উলফ। দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে বললেন, ‘এতই যদি শিওর হও, তাহলে ঘরের বাইরে থাকো। রাত কাটিয়ে দেখো, কী হয়।’ অন্য ছেলেমেয়েদের দিকে তাকালেন তিনি। ‘এই, শোনো তোমরা, ও এখানেই থাক। বাকি সবাই যার যার ঘরে চলে যাও।’
উঠে দাঁড়াল ছেলেমেয়েরা। কেবিনের দিকে রওনা হলো। অগ্নিকুণ্ডটাকে মাটিচাপা দিয়ে নিভিয়ে দিতে লাগল ক্যাম্পের একজন কর্মচারী।
‘সত্যিই তুমি এখানে থাকবে?’ কিশোরকে জিজ্ঞেস করল মুসা। ‘বাইরে ঘুমাবে?’
‘থাকব,’ কিশোর বলল। ‘মিস্টার উলফ বানিয়ে গল্প বলে আমাদের ভয় দেখাতে চেয়েছেন, প্রমাণ করে দেবো।’
‘কিন্তু একজন বয়স্ক লোক আমাদের বয়সী ছেলেমেয়েদের ভয় দেখাতে চাইবেন কেন?’ ফারিহার প্রশ্ন।
‘কারণ নেকড়ে বাঘটা হয়তো তিনিই,’ ফিস ফিস করে জবাব দিলো মুসা। ‘এখন কিন্তু তাকে মায়ানেকড়ে বলেই মনে হচ্ছে আমার।’ (চলবে)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.