রা শি য়া র রূ প ক থা বরফ-রাজা

হাসান হাফিজ

(গত দিনের পর)
বরফ-রাজা হিমের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেন। মেয়েটি জমে না যাওয়া পর্যন্ত শীত বাড়তেই থাকে। শেষ অবধি মেয়েটি বরফে জমে যায়।
ওইদিকে কী ঘটছে? বুড়ি বলছেন বুড়োকে,
ওগো শুনছো? শিগগির বনে চলে যাও তুমি। আমার সোনামণি মেয়েটাকে ভালোয় ভালোয় বাড়িতে নিয়ে এসো। বাক্সভর্তি সোনাদানা, দামি দামি রতœপাথর আনতে যেন ভুলে যেয়ো না। যাও, এক্ষুনি রওনা হও। দেরি কোরো না।
বুড়ো মানুষটি তাই করেন। স্লেজগাড়ি নিয়ে রওনা হয়ে যান বনের দিকে। বুড়ি তখন কী করেন? জানালা দিয়ে উৎসুক চোখ মেলে তাকিয়ে থাকেন। মেয়ে এই ফিরল বলে।
বুড়ি অপেক্ষা করতে থাকেন। ফুরাতে চায় না তার সেই অপেক্ষার পালা। কখন বুড়ো সোনাদানাসমেত তার আপন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসবেন। আহা, কত আনন্দই না হবে তখন!
কয়েক ঘণ্টা পর। বাড়ির বাইরে কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। চেঁচিয়ে বলতে থাকে,
ঘেউ ঘেউ। বুড়ো মানুষটি তার মেয়ের লাশ নিয়ে ফিরে এসেছেন। মেয়েটি আর বেঁচে নেই। প্রবল শীতে সে জমে বরফ হয়ে গেছে।
(শেষ)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.