রাজনৈতিক দলগুলো ঘর গোছানোয় ব্যস্ত

খুলনা সিটি নির্বাচন
খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার- প্রচারণা শুরু হবে ২৪ এপ্রিল থেকে। তার আগের দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। গত রোববার মনোনয়ন বাছাইয়ের প্রথম দিন রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ইউনুচ আলী প্রচার শুরুর ব্যাপারে সবাইকে সাবধান করে দেন। তিনি এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের যা যা করার প্রয়োজন তাই করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে প্রার্থীরা প্রকাশ্য প্রচারণা এড়িয়ে চলছেন। তবে অপ্রত্যক্ষভাবে প্রচারণা চলছে। সমর্থকেরা সাধারণ ভোটারদের কাছে পছন্দের প্রার্থীর জন্য অবশ্য সরাসরি ভোট চাইছেন। আর চলছে দলীয় সভা-সমাবেশ এবং কমিটি গঠনের কার্যক্রম। এগুলোকে প্রস্তুতিমূলক কাজও বলা চলে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক দলের নগর কমিটির সভার আয়োজন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার কমিটিগুলো গঠন নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। সেই সাথে তিনি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের সভায় যোগ দিচ্ছেন। কর্মীদের সাধারণ ভোটারদের কাছে দলের এবং তার মেয়রের দায়িত্ব পালনকালের সাফল্যগুলো সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন এবং সেগুলো সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ওয়ার্কশপেও যোগ দিচ্ছেন এবং সেখানে তিনি নির্বাচিত হলে নগরবাসীর জন্য কী করবেন সে সম্পর্কেও ধারণা দিচ্ছেন। গত রোববার নগরীর একটি হোটেলে ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক মেয়র নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স ফি এবং হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্য দিকে গতকাল বিএনপি অফিসে নগর ও জেলা কমিটির নেতারা বৈঠক করেন নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে। এর আগের দিন নগর ও জেলা কমিটির নেতাদের মধ্যেকার কোন্দল মিটিয়ে নেয়ার মেসেজ নিয়ে কেন্দ্র থেকে এক নেতাকে পাঠানো হয় বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিতও খুলনা আসেন। সব মিলিয়ে বৈঠক ফলপ্রসূ হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকে জেলা ও মহানগর কমিটির ১০১ নেতার সমন্বয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নগর কমিটির সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তজাকে এবং সদস্য সচিব করা হয় জেলার সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানকে। সভায় একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমস্যা নিরসনেরও চেষ্টা চলছে। সেই সাথে ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর ৫ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং খেলাফত মজলিসের একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর দাবি মীমাংসার আলোচনাও চলছে। জামায়াতের সাথে এরই মধ্যে দুইবার বৈঠক হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার সবশেষ দফা আলোচনা হবে বলে বিএনপি মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল জানান।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের আগে যেকোনো ধরনের প্রচারণা চালানো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রার্থীদের জানিয়ে দিয়েছেন। প্রত্যেক প্রার্থী মাত্র একজন নির্বাচনী এজেন্ট এবং সাধারণ ওয়ার্ডে একটি নির্বাচনী অফিস পাবেন বলেও জানান তিনি। তবে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রার্থীরা প্রতি ৩০ হাজার ভোটারের জন্য একটি অফিস পাবেন। তবে এসব অফিস ও এজেন্টের তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৮/২৩ ইঞ্চি সাইজের সাদা-কালো হতে হবে। প্যানা করলেও একই সাইজে করতে হবে, তবে তা কোনো অবস্থায় আঠা দিয়ে কোথাও লাগানো যাবে না। একমুখী মাইক দিয়ে প্রচার করা যাবে, শুধু বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে নির্বাচন কমিশন সচিব খুলনায় এসে একাধিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশ নেবেন বলে জানান রিটার্নিং অফিসার।
এ দিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আচরণ বিধি প্রতিপালনে ২৪ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ১০ জন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার মো: ইউনুচ আলী বলেন, এখন পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তারা আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের দুই দিন পর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.