রামপুরায় বনশ্রী প্রধান সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল আরো আগেই। কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এ কাজ কবে শেষ হবে : নূর হোসেন পিপুল
রামপুরায় বনশ্রী প্রধান সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল আরো আগেই। কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এ কাজ কবে শেষ হবে : নূর হোসেন পিপুল

বর্ষায় দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না বনশ্রীর বাসিন্দাদের

অন্তহীন উন্নয়নের কবলে ঢাকা-৬
খালিদ সাইফুল্লাহ

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রীগামী প্রধান সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল ছিল। বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ বছরের শুরুতে ওই সড়কটির সোয়া এক কিলোমিটার সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাথ উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাস্তাটির উন্নয়নকাজের উদ্বোধনের সময় ডিএনসিসির প্রকল্প কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জুলাই মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও মার্চের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু বর্তমানে সড়কের অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। আগামী জুলাই মাসেও সড়কের কাজ শেষ হবে না বলে ডিএনসিসির কর্মকর্তারা এখন জানাচ্ছেন। বরং আরো দু’মাস সময় বেশি লাগতে পারে বলে তাদের ধারণা। ফলে আগামী বর্ষা মওসুমেও সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
নগরীর ঠিক পূর্ব দিকেই রয়েছে ঢাকার অন্যতম আবাসিক এলাকা রামপুরার বনশ্রী। এ আবাসিক এলাকা ও রামপুরা খালের পাশ দিয়ে সোজা চলে গেছে রামপুরা-বনশ্রী প্রধান সড়ক। বনশ্রী এলাকায় আসা-যাওয়ার প্রধান সড়কও এটি। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এ সড়কটি ব্যবহার করেন। এর পাশাপাশি সিলেট ও ডেমরাগামী ভারী যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। এ কারণে দীর্ঘ দিন থেকেই সড়কটির বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়। বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় রাতদিন গাড়ির দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকত। বৃষ্টি হলে এসব বড় গর্তে পানি জমে তখন পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করত। কিন্তু মালিকানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ দিন সড়কটি মেরামত করা হয়নি। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সড়কটি ডিএনসিসির আওতায় আসে। এরপরই সড়কটি মেরামতে উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রকল্পের অধীনে রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রীর ৩ নম্বর এভিনিউর ব্লক-৩ পর্যন্ত ১.৩৫০৬ কিলোমিটার রাস্তা, ১.৮৭৭২ কিলোমিটার ফুটপাথ এবং ১.৮৭৭২ কিলোমিটার খোলা নর্দমা (আরসিসি ড্রেন- ১.০৩৭১ কিলোমিটার ও ব্রিক ড্রেন- ০.৮৪০২ কিলোমিটার) উন্নয়ন ও সংস্কার করা হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪১ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসবিএল অ্যান্ড এমইএল (জেভি)।
গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এ কাজের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মো: ওসমান গনি। এ সময় তিনি বলেছিলেন, বিশেষ উন্নয়ন খাতের আওতায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া বনশ্রী সড়কটি আগামী বর্ষা মওসুমের আগে মেরামত ও সংস্কার করে যানবাহন এবং পথচারী চলাচলের উপযোগী হবে। এ সময় ডিএনসিসি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান তখন জানান, যদিও চুক্তি অনুযায়ী এ কাজটি ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা, তবে তা মার্চের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
তবে গত কয়েক দিনে ওই সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সড়কের উন্নয়ন চলছে। কিছু অংশের পিচ ঢালাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো বেশির ভাগ অংশের কাজ বাকি রয়েছে। আবাসিক এলাকাসংলগ্ন ফুটপাথের কাজ অনেক আগে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। খালের পাশে চওড়া ড্রেন খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এ ড্রেনের বেশির ভাগ কাজই বাকি রয়েছে। সড়কের কিছু অংশে খোয়া ফেলা ও পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। তবে রামপুরা ব্রিজ থেকে নামার পর এখনো বেশ কিছু সড়কে হাতই দিতে পারেনি ডিএনসিসি। সড়কের এ অংশ এখনো আগের মতোই বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে কাদাপানি সৃষ্টি করছে। সড়কের এ কাজের মধ্যেই রাতদিন গাড়ি চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে রাতদিন দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকছে।
বনশ্রীর বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর নয়া দিগন্তকে বলেন, রাস্তা আগে অনেক খারাপ ছিল। এখন কাজ চলছে ভালো কথা। কিন্তু কাজ অনেক ধীরগতিতে চলছে। এ কারণে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটতে থাকে।
ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী আলিফ পরিবহনের চেকার আরমান জানান, আইডিয়াল স্কুল থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত অংশেই যানজট বেশি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বেশি যানজট হয়।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, সড়কটি চালু রেখে কাজ করার কারণে কাজে ধীরগতি হচ্ছে। তা ছাড়া মান ঠিক রাখতেও অনেক খারাপ ইট বা অন্যান্য সামগ্রী আনা হলে তা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের যে বাজেট রয়েছে তাতে বর্তমান নির্ধারিত কাজের চেয়ে আরো ৩৫০ মিটার বেশি কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা একবারে এ কাজটি করে ফেলতে চাই। কারণ কবে আবার নতুন বাজেট হবে তার ঠিক নেই। এ জন্য একটু সময়ও বেশি লাগতে পারে। নির্ধারিত সময় জুলাই মাস থেকে আরো দু’মাস বেশি লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র ওসমান গনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা কাজের মানের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ কারণে কাজে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমাদের প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজটি তদারকি করছেন। আশা করছি শিগগিরই সড়কটি ভালো হয়ে যাবে। তখন জনগণ এর সুফল পাবে।
এদিকে শুধু বনশ্রী প্রধান সড়কই নয়, বনশ্রীতে চলাচলের আরো বেশ কয়েকটি পথের অবস্থাও বেহাল হয়ে রয়েছে। তিতাস রোড থেকে সিপাহীবাগ, ভুঁইয়াপাড়া থেকে সিপাহীবাগ, তিতাস রোড থেকে রিয়াজবাগ, তিতাস রোড থেকে পূর্ব রামপুরা সড়ক অন্যতম। এসব সড়কে দীর্ঘ দিন থেকে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। তিতাস রোড থেকে পূর্ব রামপুরা সড়কে দীর্ঘ দিন থেকে সিমেন্টের পাইপ এনে ফেলে রাখলেও কাজ হচ্ছে না। এ ছাড়া বিটিভির দক্ষিণ পাশের রামপুরা প্রধান সড়ক থেকে এ ব্লক পর্যন্ত সড়ক এক বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার পর সম্প্রতি যানচলাচলের উপযোগী হয়েছে। এক বছর ধরেই ভুগতে হয়েছে সড়কটি ব্যবহারকারীদের।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.