ads

আশুলিয়ায় গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সহস্রাধিক গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা

আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা
আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন তিতাসের প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান। এসব গ্যাসসংযোগের সাথে নেতৃত্বদানকারী যারা রাইজার প্রতি ৩৫-৫০ হাজার টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্রহণ করে সংযোগ দিয়েছেন। সেসব চিহ্নিত সরকার দলীয় লোকদের রক্ষা করে সাধারণ লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জানান, চলতি মাসে আশুলিয়ার ঘোষবাগ, নিশ্চিন্তপুর, বুড়িপাড়া, নরসিংহপুর, বেরণ, গুমাইল, ধনাইদ ও গোরাট এলাকার প্রায় ৩০ হাজার রাইজারের গ্যাসসংযোগ তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে থানা পুলিশের সহায়তায় বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ওই সব এলাকার শাখা সড়কের পাকা ও ইট বিছানো রাস্তা কেটে গ্যাসপাইপ গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে যান কর্মকর্তারা। সাথে সাথে তাদের পছন্দমতো বাড়িতে ঢুকে রাইজার, চুলা ও সংযোগ পাইপও জব্দ করে নিয়ে যান তারা। পাশাপাশি এলাকার বিরোধী মতের লোকদের পরিবার প্রধানের নামে সাভার তিতাস গ্যাস কোম্পানির প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। চলতি মাসে এ সংক্রান্ত আশুলিয়া থানায় মামলা নং-১৩, ২৫, ২৯, ৩৪, ৪০, ৪২, ৪৭ দায়ের হয়েছে। এ ছাড়া মার্চ মাসে দায়ের হয়েছে আরো ছয়-সাতটি। সর্বমোট ১৪টি মামলা দায়ের করেছেন ওই কর্মকর্তা। আর এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার প্রধানকে। প্রতিটি মামলায় এজাহার নামীয় আসামি ছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৭০-৭৫ জনকে। সর্বমোট এ সংখ্যাও প্রায় সহস্রাধিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবার জানান, রাইজার প্রতি সরকার দলীয় স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা ও তিতাস গ্যাসের লোকেরা যৌথভাবে ৩৫-৫০ হাজার টাকা নিয়ে গ্যাসসংযোগ দিয়েছেন। কয়েকদফা লাইন বিচ্ছিন্ন করে পুনরায় সংযোগ দিয়ে আবার ৮-১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। সংযোগের মুহূর্তে তারা জানিয়েছেন এটা সরকার বৈধ করে দেবেন। এখন আবার বিচ্ছিন্ন করে তাদের ক্রয়কৃত পাইপ, চুলা, রাইজারসহ সব কিছুই নিয়ে যাওয়া হয় এবং থানায় আবার তাদের পছন্দমতো লোকদের নামে মামলা দিয়ে আসামি করা হয়। পুলিশ আসামি ধরার নামে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আসামি না পেয়ে স্বজনদের এবং কর্মচারী ধরে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানা সূত্র জানান, আশুলিয়ায় চলতি মাসে ও বিগত মাসে অবৈধ সংযোগের ঘটনায় অনেক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বেশ কিছু আটক ও আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বেশির ভাগ আসামি জামিনে বের হয়েছেন। এসব মামলার বাদি তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান। 
জানতে চাইলে, তিতাস গ্যাস সাভার ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশে বর্তমানে তিতাস গ্যাসের আবাসিক সংযোগ বন্ধ রয়েছে। সাভার আশুলিয়ায় প্রায় লক্ষাধিক অবৈধ গ্যাসসংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগের অধিকাংশই শিল্প কারখানার লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে আবাসিক এলাকার লোকেরা ব্যবহার করছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ একটি কাজ। সরকারের নির্দেশে অবৈধ সংযোগ একদিকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে থানায় মামলা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। যেকোনো মূল্যে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ব্যবহারকারীদের নিভৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.