রবিন্দর রেড্ডি
রবিন্দর রেড্ডি

মক্কা মসজিদ মামলায় সবাইকে খালাস দেয়া বিচারকের পদত্যাগ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভারতের হায়দরাবাদের সুপ্রসিদ্ধ মক্কা মসজিদ মামলায় অভিযুক্ত সবাইকে ‘নির্দোষ’ বলে রায় দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন সেই বিচারক। ২০০৭ সালের বিস্ফোরণের এ ঘটনায় খালাস দেয়া হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের অভিযুক্ত ৫ সদস্যের সবাইকে।

১১ বছরের পুরনো এ মামলায় সোমবার বিকালে রায় দেন রবিন্দর রেড্ডি নামের ওই বিচারক। সেদিনই সবাইকে হতবাক করে দিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। যদিও তিনি তার পদত্যাগপত্রে এটাকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তার পদত্যাগপত্র মেট্রোপলিটন সেশন জজের নিকট পাঠিয়ে দিয়েছেন। খবর এনডিটিভির।

বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিচারক রেড্ডি বলেছেন, আজকের (গতকালের) রায়ের সাথে তার পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র নেই। তিনি কিছুদিন ধরেই এ পদত্যাগের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবারে দেয়া রায়ে রাভিন্দর বলেন, অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বেকসুর খালাস দেয়া হচ্ছে, কারণ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

গত ১১ বছরে আদালত ২০০ জনের সাক্ষ্য নেন এবং ৪০০ তথ্য প্রদর্শিত হয়।

২০০৭ সালের ১৮ মে হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালে ওই বিস্ফোরণে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছিলেন ৫৮ জন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী অসীমানন্দ, যিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সাবেক সদস্য। সন্ন্যাস গ্রহণের আগে অসীমানন্দর নাম ছিল নবকুমার সরকার। তিন-তিনটি সন্ত্রাসী আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অসীমানন্দ

এ ঘটনায় হিন্দু উগ্রবাদী গ্রুপের ১০ জনের নাম এসেছিল। এদের মধ্যে সুনীল জোসি নামে সাবেক এক আরএসএস সদস্য খুন হয়েছিলেন।

তবে বিচারের মুখোমুখি হন তাদের মাত্র পাঁচজন। দেবেন্দ্র গুপ্তা, লোকেশ শর্মা, স্বামী অসীমানন্দ ওরফে নবকুমার সরকার, ভরত মোহনলাল রত্নেশ্বর ওরফে ভরত ভাই ও রাজেন্দ্র চৌধুরী। তারা সবাই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য।

সন্দীপ ভি ডাঙ্গে ও রামচন্দ্র কালসাঙ্গরা নামে দুই অভিযুক্ত পলাতক। আরেক অভিযুক্ত সুনীল জোশী মারা গেছেন। বাকি দুজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

স্বামী অসীমানন্দ ও ভারত মোহনলাল রত্নেশ্বর জামিনে ছাড়া পান আগেই। বাকি তিনজন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন এখানকার সেন্ট্রাল জেলে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.