সুনীল নারিন
সুনীল নারিন

আইপিএলে নারিনের উইকেট-সেঞ্চুরি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

গত মাসে পাকিস্তান সুপার লীগে ক্যারিবীয় স্পিনার সুনীল নারিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। তারপর থেকে নিজের অ্যাকশন পরিবর্তন করে ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন নারিন। আর তাতেই বাজিমাত, প্রথম বিদেশী স্পিনার হিসেবে ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে তিনি শততম উইকেট দখলের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। গতকাল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে তিনি আইপিএল ক্যারিয়ারের ১০০তম উইকেট দখল করেন।

দিল্লির ক্রিস মরিসকে মাত্র ২ রানে বোল্ড করার এক বল পরেই বিজয় শঙ্করকে ওই ২ রানেই এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন। আর এতেই তার শততম উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ হয়। এরপর অবশ্য তিনি মোহাম্মদ শামিকে আউট করে ম্যাচে ১৮ রানে তিন উইকেট দখল করেন। আইপিএলে এখন তার সর্বমোট উইকেটসংখ্যা ১০২।

নারিন ও কুলদ্বীপ যাদব তিনটি করে উইকেট দখল করায় ডেয়ারডেভিলসকে সহজেই ৭১ রানে পরাজিত করেছে কেকেআর।

ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে নারিনের সর্বমোট বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ালো ১২ ইনিংসে ২৩ উইকেট। আইপিএলের কোনো দল হিসেবে এটা তার দ্বিতীয় সেরা সাফল্য। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে তিনি সর্বোচ্চ ২৬টি উইকেট দখল করেছেন। ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত আইপিএলে ৮৬ ম্যাচে ২১১৩ রান খরচায় নারিন ১০২ উইকেট দখল করেছেন। এর মধ্যে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ১৯ রানে ৫ উইকেট। ২০১২ সালে প্রথম আইপিএল মৌসুমে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

আইপিএলে নারিনের বোলিং পরিসংখ্যান :

 

 

স্পিন জাদুতে দিল্লি জয় নাইটদের

পুরনো দলের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধে হারলেন গৌতম গম্ভীর। সোমবার ইডেন গার্ডেন্সে গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৭১ রানে হারাল দীনেশ কার্তিকের কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআর-এর করা ২০০ রানের জবাবে মাত্র ১২৯ রানেই অল আউট হয়ে যায় গম্ভীর-বাহিনী।

সোমবার আইপিএল ম্যাচে টসে জিতে কলকাতাকে ব্যাট করতে পাঠায় দিল্লি। শুরুটা বেশ ধীরগতির করেন দুই ওপেনার ক্রিস লিন ও সুনীল নারিন। প্রথম ওভার মেডেন যায়। এদিন ফের ব্যর্থ নারিন (১)। দেখে মনে হচ্ছিল, নারিনকে আটকে রাখার মন্ত্র পেয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ দলগুলো। ক্রিস লিনও (২৯ বলে ৩১) ছন্দে ছিলেন না। তিন নম্বরে রবিন উথাপ্পা নামার পর রানের গতি বৃদ্ধি পায়। ভালোই চালাচ্ছিলেন উথাপ্পা (১৯ বলে ৩৫)। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৩টি ছয় ও ২টি চারে। উথাপ্পা আউট হওয়ার পর নামেন নীতীশ রানা। চলতি বছর কেকেআর দলের ইতিমধ্যেই নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছেন তিনি। এদিনও তার জাতের পরিচয় দিলেন। ৫টা চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ৩৫ বলে তার ৫৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস দলের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। সেই ভিতের সুযোগ নেন কলকাতার ‘ক্রিস গেইল’ আন্দ্রে রাসেল। এদিন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন এই ক্যারিবীয়। ১২ বলে ৪১ রানেপ ওই ইনিংস যেন ইডেনে ঝড় তুলে দেয়। মারেন ৬টি বিশাল ছক্কা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০০ রান করে কেকেআর।

২০১ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু, পরপর উইকেট হারিয়ে খেলা থেকে ছিটকে যায় দিল্লি। ঋষভ পন্ত (২৬ বলে ৪৩) এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২২ বলে ৪৭) ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যান কেকেআর-এর স্পিনের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। বলা ভাল, এই দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া কেউ দুঅঙ্কের ঘরেও পৌঁছতে পারেননি। ফলে, কোনো সময়েই মনে হয়নি যে দিল্লি এই ম্যাচ জিততে পারে। ফলত, মাত্র ১৪.২ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লির ইনিংস। অন্যদিকে, আগের দুটি ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন বেশ আঁটোসাঁটো বোলিং করে নাইটরা। দুই স্পিনার সুনীল নারিন ও কুলদীপ যাদব ৩টি করে উইকেট দখল করেন। পীযূষ চাওলা, আন্দ্রে রাসেল, শিবম মাভি ও টম কুরান দখল করেন একটি করে উইকেট।

ম্যাচ শুরুর আগে ইডেনে নেমে বেশ আবেগন হয়ে পড়েন গম্ভীর। এবার নাইট রাইডার্স নয়, দিল্লি ডেয়ারডভিলসের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন গোতি। গত ৬ বছর যে দলের অধিনায়ক ছিলেন, আজ সেই দলের বিরুদ্ধেই খেলেন গম্ভীর। খেলা শুরুর আগে, নিজের অনুভূতির কথা স্বীকারও করেন তিনি। বলেন, সাকা দেশের মধ্যে কলকাতার ফ্যানবেসের আনুগত্য প্রশ্নাতীত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.