লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি

মেসিকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কিছু দিন বাকি। কিন্তু এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভুগছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন, মেসির ফিটনেস নিয়ে আর্জেন্টিনার চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

৩০ বছর বয়সী মেসি মার্চে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ইতালি ও স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিরতি থেকে ফিরে এসে বার্সেলোনার পাঁচটি ম্যাচেই তিনি খেলেছেন, এর মধ্যে চারটিতে ছিলেন মূল একাদশে। যদিও চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে রোমার বিপক্ষে দুই লেগের একটিতেও মেসি গোল পাননি। বার্সেলোনার বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে সিরি-আ ক্লাব রোমার। ইতালিয়ান ক্লাবটির বিপক্ষে তার পারফরমেন্সে ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মেসির ইনজুরি সমস্যাই তাদের কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

লীগ ম্যাচে মঙ্গলবার সেল্টা ভিগো সফরে যাবে কাতালানরা। এরপরই শনিবার ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে সেভিয়ার বিপক্ষে কোপা ডেল রে’র ফাইনালে মুখোমুখি হবে বার্সা। ফাইনালকে সামনে রেখে সেল্টার বিপক্ষে মেসিকে বিশ্রামে রাখতে পারেন ভালভার্দে। যদিও তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার চিন্তার কিছুই নেই।

এক সংবাদ সম্মেলনে ভালভার্দে বলেন, সম্ভাবনা আছে মেসিকে বিশ্রামে রাখার। কিন্তু আসলেই তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে সে ভাল খেলেছে। আমি জানিনা এই মুহূর্তে আর কি বলার আছে। এখনো বিশ্বকাপের আগে অনেক সময় বাকি।

এবারের মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মেসি বার্সার হয়ে ৪৮টি ম্যাচে ৩৯ গোল করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি মাত্র চারটি ম্যাচে খেলেননি। এর মধ্যে কোপা ডেল রে’র প্রথমদিকে তিনটি ম্যাচ ও মালাগার বিপক্ষে লীগের এ্যাওয়ে ম্যাচ। ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ থেকে বিদায় নেয়ার পরে বার্সেলোনার সামনে এবারের মৌসুমে আর মাত্র সাতটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি লীগ ও একটি কাপ ম্যাচ।

দশ বছরে সপ্তম লা লিগা শিরোপা জয়ের পথে বেশ ভালভাবেই এগিয়ে রয়েছেন কাতালান জায়ান্টরা। লীগের বাকি ম্যাচগুলো থেকে আর সাত পয়েন্ট তুলতে পারলেই শিরোপা নিশ্চিত হবে। একইসাথে প্রথমবারের মত স্প্যানিশ লীগে প্রথম কোনো দল হিসেবে অপরাজিত থেকে শিরোপা জয়েরও হাতছানি রয়েছে তাদের সামনে।

আগামী ২০ মে লীগের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বার্সা। এরপর ১৬ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

 

মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে বার্সেলোনা!

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি। পুরোপুরি সুস্থ হননি এখনো। অথচ তাকে দিয়ে একের পর এক ম্যাচ খেলিয়ে যাচ্ছে বার্সেলোনা। সর্বশেষ শনিবার ক্যাম্প ন্যু'তে লা লিগার দ্বিতীয় ম্যাচে লেগানেসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। একাই জিতিয়েছেন দলকে। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, বার্সেলোনাকে জিততে মেসিকে মাঠে নামতেই হবে। কিন্তু এভাবে কতদিন? গতকাল তাকে মাঠে নামতে দেখেই ক্ষুদ্ধ হয় বার্সাভক্তরা। প্রশ্ন তুলেন, কেন অসুস্থ মেসিকে দিয়েই বার বার খেলানো হচ্ছে? কেন তাকে বিশ্রাম দিচ্ছে না বার্সোলোনা?

অপরদিকে আর্জেন্টিনা কিন্তু ইনজুরির কারণে ফিফার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মেসিকে নামায়নি। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচে ২-০ তে সহজেই জিতেছে তারা। পরের ম্যাচ ছিল ইতালির বিপক্ষে। সেই ম্যাচে মেসির মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোচ স্যামপাওলি। সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, 'শেষ দুই দিন ধরে দলের সাথে প্রস্ততি সেরেছেন মেসি। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অধিনায়ক হিসেবে তার হাতেই আর্মব্যান্ড থাকতে চলেছে।'

কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয়নি মেসিকে। ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসি দর্শক হয়ে শুধু দেখেছেন।

অথচ দিন কয়েক পরই বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামানো হয়েছে তাকে। লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে সেদিন বদলি বেঞ্চে বসে ছিলেন মেসি। তাকে ছাড়া দলের বেহাল অবস্থা দেখছিলেন। দুটি গোল খেয়ে বসেছে বার্সেলোনা। এই অবস্থা থেকে টেনে তুলতে অসুস্থ মেসিকে ৫৮ মিনিটে মাঠে নামান কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে। কাজও হয়েছে। মেসি মাঠে নামতেই পুরো দল আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।

ম্যাচ শেষের মাত্র দুই মিনিট আগে লুইস সুয়ারেজ প্রথম গোল করে। পরের মুহূর্তেই পায়ের জাদু দেখান মেসি। ফিলিপ কুতিনহোর সহায়তায় আর্জেন্টাইন এই তারকা দুর পাল্লার শটে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ড্র করে বার্সেলোনা।

ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসা করে কোচ বলেন, 'যখন তোমার দলে মেসি থাকবে এবং সে খেলবে না, তার অর্থ হচ্ছে এর মধ্যে অন্য কোনো গুরুত্ব আছে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে দিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায়।'

কোচের কথার জেরে বলতে হয়, মেসি থাকলে দল জিতবে, তাই বলে কি অসুস্থ মেসিকে দিয়ে খেলিয়েই যেতে হবে?

এরপর রোমার বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেন মেসি। সেদিন কোনো গোল না করলেও সহজ জয় পায় বার্সেলোনা।

টানা তৃতীয় ম্যাচে কাল লেগানেসের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয় মেসিকে। ফলাফল বার্সেলোনার জয়। তবে কাল যখন মেসি মাঠে নামছিলেন তখন ক্ষোভে ফুসছিলেন সমর্থকরা।

বলা হচ্ছিল, মেসি তো খেলতেই চাইবেন। কিন্তু তাই বলে কি প্রতি ম্যাচেই খেলাতে হবে। তাও ইনজুর থাকা অবস্থায়!

সেটি হয়ত আঁচ করতে পেরেছিলেন কোচ। তাই ম্যাচ শেষে ইঙ্গিত দিলেন। মেসিকে হয়ত পরের ম্যাচে নামনো হবে না। বিশ্রামে রাখা হবে।

আগামী মঙ্গলবার ম্যাচ রয়েছে বার্সেলোনার। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, 'মেসি রোমার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে খেলেছেন। আর সেভিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্থে। তার কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই দেশের হয়ে খেলছেন না। তবে তিনি সব সময় খেলতে চান। কারণ সে সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আমরা তার সাথে এই ব্যাপারে কথা বলব।'

মেসি কী সিদ্ধান্ত নেন - সেটাই এখন দেখার ব্যাপার। কারণ বিশ্বকাপ শুর হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। জুনেই শুরু হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। যদি এখনই মেসিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেয় বার্সেলোনা। তাহলে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখে দিবে। এই সময়ের মাঝেই তাকে ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে সবকিছু করতে হবে। কারণ এইবারই শিরোপাজয়ের শেষ সুযোগ ফুটবল রাজ্যপুত্রের। বার্সেলোনার মান রক্ষা করতে গিয়ে সেই স্বপ্ন যেন অধরাই রয়ে না যায়। (০৮ এপ্রিল ২০১৮ প্রকাশিত সংবাদ)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.