খুশকির কারণ ও প্রতিকার

ডা: ওয়ানাইজা রহমান

খুশকি খুবই সাধারণ সমস্যা। প্রায় প্রত্যেক মানুষের মাথায় জীবনে কোনো-না-কোনো সময় খুশকি হয়েছে। মাথার ত্বক বা স্কাল্পে সব সময় কিছু নতুন কোষ হয় আর কিছু পুরনো কোষ ঝরে যায়। এটি একটি চক্র। কিন্তু যখন পুরনো মরা কোষ জমে যায় ও ফাঙ্গাস সংক্রমিত হয় তখন খুশকি হয়। মাথা থেকে সাদা আঁশের মতো গুঁড়া পড়তে থাকে এবং সেই সাথে চুলকানি হয়।
খুশকির কারণ : তেলের ব্যবহার : প্রচুর তেলের ব্যবহার খুশকি হওয়ার একটি কারণ। মাথার ত্বক তেলের কারণে চিটটিটে হয়ে খুশকি হয়। আবার তেল ব্যবহার করলে খুশকি হয়েছে সেটা বোঝা যায় না।
যথাযথ শ্যাম্পু ব্যবহার না করা : যথাযথ শ্যাম্পু ব্যবহার না করার কারণেও খুশকি হতে পারে। মাথার ত্বক বা স্কাল্প তৈলাক্ত হলেও খুশকি হওয়ার প্রবণতা থাকে। কিশোর বা তরুণ বয়সে ব্রণের সাথে খুশকিও খুব স্বাভাবিক সমস্যা।
স্কাল্প অত্যধিক শুষ্ক হলেও খুশকি হতে পারে। কিন্তু ত্বক সমস্যা যেমন সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন এবং অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন বা সংক্রমণ খুশকির মতো মনে হতে পারে। মানসিক দুশ্চিন্তার কারণেও মাথায় খুশকি হয়।
খুশকি সমস্যার সমাধান : প্রথমেই মাথায় তেল ব্যবহার করা বন্ধ করুন। তারপর শ্যাম্পু বদলে ফেলুন। খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। জেড পিটি, অর্থাৎ জিংক পাইরিথিওনযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। পরের সপ্তাহে এক দিন করে পরের এক মাসে ব্যবহার করবেন। এতে কোনো উপকার না হলে ১ বা ২ শতাংশ কিটোনোনাজলযুক্ত শ্যাম্পুও উপরি উক্ত নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। আর স্কাল্প যদি শুষ্ক প্রকৃতির হয়, তবে শ্যাম্পু করার আগের রাতে অলিভ তেল মাথায় লাগাতে পারেন অথবা শ্যাম্পু করার ২ ঘণ্টা আগেও অলিভ তেল লাগাতে পারেন। এরপরও সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। রোগের কারণে খুশকি হলে যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন।
লেখিকা : অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.