দাপুটে জয়ে শীর্ষে কেকেআর
দাপুটে জয়ে শীর্ষে কেকেআর

দাপুটে জয়ে শীর্ষে কেকেআর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে আইপিএলে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এলো কলকাতা নাইট রাইডার্স।কেকেআর৫ ম্যাচে কেকেআরের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান ৮ উইকেটে তোলে ১৬০ রান। বুধবার জয়ের জন্য ১৬১ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ক্রিস লিনের (০) উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল কেকেআর। শুরুতে গুটিয়ে ছিলেন সুনীল নারিনও। তবে সময় যত গড়িয়েছে দ্রুত গতিতে রান তুলেছেন নারিন। দ্বিতীয় উইকেটে রবীন উথাপ্পার সঙ্গে জুটি বেঁধে ৬৯ রান তোলেন তিনি। নারিন ২৫ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৫ রানে আউট হন। উথাপ্পা আরও একটা হাফ-সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। ত্রয়োদশ ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি লাইনে উথাপ্পার (৩৬ বলে ৪৮) ক্যাচ অনবদ্য প্রয়াসে তালুবন্দি করেন বেন স্টোকস। ছ’টি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।

একটা সময় কেকেআরের দরকার ছিল ৭ ওভারে ৫১ রান। নীতীশ রানা ও ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক ধীরে ধীরে জয়ের পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। চতুর্থ উইকেটে তারা যোগ করেন ৬১ রান। বল হাতে দু’টি উইকেট নেয়ার পাশাপাশি নীতীশ রানা ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন কার্তিক। ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ছক্কা হাঁকিয়ে সাত বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করেন ডিকে।

টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেয় কেকেআর। উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক। প্রথম তিন ওভারে রাজস্থান রয়্যালস তোলে মাত্র ৯ রান। যদিও চতুর্থ ওভারে দারুণভাবে সুনীল নারিনের পর পর চারটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি হাঁকান রাজস্থানের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। এদিন দারুণ ছন্দে ছিলেন পীযূষ চাওলা। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দেন তিনি। রাজস্থান রয়্যালসের রানের গতিতে লাগাম টানার কাজটা দক্ষতার সঙ্গে করেন পীযূষ।

কেকেআরকে প্রথম সাফল্যটি এনে দেন নীতীশ রানা। সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে অজিঙ্কা রাহানেকে (৩৬) অনবদ্য প্রয়াসে স্টাম্পিং করেন দীনেশ কার্তিক। এই ম্যাচে সবার নজর ছিল সঞ্জু স্যামসনের দিকে। দারুণ ছন্দে আছেন সঞ্জু। যদিও কেকেআর স্পিনাররা তাকে প্রথম থেকেই চাপে রেখেছিলেন। নবম ওভারে শিবম মাভির চতুর্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে সঞ্জু ডিপ মিড উইকেটে কুলদীপ যাদবের হাতে ব্যক্তিগত ৭ রানে ধরা পড়েন। স্বস্তি ফেরে কেকেআর শিবিরে। কুলদীপ যাদব প্রথম দু’ওভারে মাত্র ৬ রান দেন। আর্সি শর্ট ৪৩ বলে ৪৪ রান করে নীতিশ রানার বলে বোল্ড হয়ে ডাগ আউটে ফেরেন।

অনেকেই ভেবেছিলেন বেন স্টোকস, জশ বাটলারের মতো বিদেশিরা রাজস্থানকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ভালো স্কোর খাড়া করার জন্য দরকার বড় পার্টনারশিপ। তার বড় অভাব স্পষ্ট দেখা গিয়েছে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিংয়ে। বেন স্টোকস এবারের আইপিএলে এখনও অবধি ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি। এদিন ঘরের মাঠে তাঁর সামনে দারুণ সুযোগ ছিল নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা মেলে ধরার। কিন্তু চাওলার বলে ১৪ রানে আউট হন তিনি।

এই ম্যাচে কেকেআরের ভাগ্য যে স্পিনারদের হাতে ঝুলছে তার ইঙ্গিত প্রিভিউতেই দেয়া হয়েছিল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক স্পিন অস্ত্রেই রাজস্থানকে বড় স্কোর গড়া থেকে বিরত রাখতে সফল হন। প্রশংসা করতেই হবে পীযূষ চাওলার। প্রথম থেকেই তার স্পিনের ভেলকি দেখা গিয়েছে সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ১টি উইকেট তুলে নেন চাওলা। তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কুলদীপ যাদবও ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

সুনীল নারিন এদিন নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ৪ ওভারে তিনি দেন ৪৮ রান। তবে স্পিনাররা প্রারম্ভিক পর্বে ভালো বল করায় অনেকটাই চাপমুক্ত ছিলেন টম কারান। ১৯তম ওভারে তিনি পর পর দু’টি উইকেট তুলে নেন। প্রথম বলে তিনি ফেরান কে গৌতমকে (১২)। তাঁর দ্বিতীয় শিকার শ্রেয়াস গোপাল (০)। আন্দ্রে রাসেলকে এদিন বল করানো হয়নি। শেষ ওভারে স্নায়ুর চাপ নিতে পারেননি মাভি। তিনটি ওয়াইড বল করেন। বাটলার ১৮ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.