পুলিশের কাছে গিয়ে স্ত্রীর ধর্ষণ অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শামি
পুলিশের কাছে গিয়ে স্ত্রীর ধর্ষণ অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শামি

পুলিশের কাছে গিয়ে স্ত্রীর ধর্ষণ অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শামি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভারতীয় গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করলেন ভারতের জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামি। তিনি এও বলেছেন, ভাই হাসিবকে জোর করে হাসিনের ঘরে ঢুকিয়ে দেননি। বুধবার দীর্ঘ জেরা পর্বে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সদরদফতর লালবাজারের উইমেন্স গ্রিভান্স সেলের অফিসাররা বারবার তার কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটার নিজের যুক্তিতে অটল ছিলেন। ধর্ষণ ছাড়াও হাসিন তার বিরুদ্ধে মারধরসহ অন্য যে সমস্ত অভিযোগ এনেছেন, তাও পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তিনি। শামি ছাড়াও তার ভাই হাসিবকেও জেরা করা হয়েছে বুধবার। দুজনেরই বক্তব্যই রেকর্ড করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে।

হাসিন জাহান স্পিড স্টার মোহাম্মদ শামির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরই জোরকদমে তদন্তে নামে লালবাজার। হাসিনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। পাশাপাশি আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন শামির স্ত্রী। অভিযোগে হাসিন বলেছিলেন, তাকে ধর্ষণ করেছেন শামি ও তার ভাই হাসিব। গোটা ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। তার ঘরে হাসিবকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন শামি। জোর করে তাকে হাসিবের সঙ্গে মিলিত হতে বাধ্য করেছেন তিনি। ধর্ষণের পর তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য করে দেয়া হয়। ভারতীয় এই পেসার তাকে মারধর পর্যন্ত করেছেন।

এসব অভিযোগের তদন্তে উত্তরপ্রদেশে যান তদন্তকারী দলের অফিসাররা। যেখানে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন হাসিন, সেখান থেকে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা হয়। এরপর গোয়েন্দারা সিদ্ধান্ত নেন, মোহাম্মদ সামি ও তার ভাই হাসিবকে জেরা করবেন। তাদের কাছ থেকে গোটা ঘটনা জানতে চাওয়া হবে। সেইমতো লালবাজারের তরফে নোটিস যায় শামির কাছে। ডাকা হয় হাসিবকে।

তদন্তকারী অফিসারদের এই নোটিশ পাওয়ার পর বুধবার দুপুর ২টা নাগাদ লালবাজারে হাজির হন শামি। এসকর্ট করেই তাকে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। তার আগেই তদন্তকারী অফিসারদের সামনে হাজির হয়ে যান হাসিব। উইমেন্স গ্রিভান্স সেলের গোয়েন্দারা আলাদা আলাদা করে দুজনকে জেরা করেন। এরপর যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) প্রবীণ ত্রিপাঠি তার চেম্বারে শামি ও হাসিবকে একসঙ্গে বসিয়ে জেরা করেন।

গোয়েন্দারা জানতে চান, হাসিনকে তারা ধর্ষণ করেছেন কি না। শামি পরিষ্কার অফিসারদের জানান, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। হাসিনকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার তিনি করেননি। হাসিবকে জোর করে হাসিনের ঘরেও ঢুকিয়ে দিয়ে ধর্ষণ করাননি। বারবার তিনি অফিসারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, তার সামাজিক সম্মান রয়েছে। তিনি দেশের হয়ে খেলছেন। এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটাতে যাবেন। এমনকি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাসিনকে অচৈতন্য করার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন শামি।

হাসিবের কাছেও একই বিষয় জানতে চাওয়া হয়। তিনিও সমস্ত ঘটনা অস্বীকার করেছেন। প্রায় দুঘণ্টা লালবাজারে ছিলেন তারা। জেরা পর্ব শেষে দুজনকেই ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তদন্তের প্রয়োজনে ফের শামি ও তার ভাইকে ডাকা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে যেভাবে পুলিশ এসকর্ট দিয়ে লালবাজারে নিয়ে আসা হয়, তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন। যদিও তা উড়িয়ে দিয়ে লালবাজারের যুক্তি শামির নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাকে পুলিশ এসকর্ট দেয়া হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের একজন খেলোয়াড় হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়েছে ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.