নজরুলের চুরুলিয়া

আবু আফজাল মো: সালেহ

বাংলা সাহিত্যের ছাত্র আর এ জগতে টুকিটাকি চর্চার জন্য বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি নজরুল এবং বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের জন্মভিটা স¤পর্কে জানা ও দেখার আগ্রহ অনেক বেশি ছিল। ২০১৪ সালে রবি ঠাকুরের জোড়াসাঁকো দেখার পর চুরুলিয়া স¤পর্কে জানা ও দেখার কৌতূহলটা যায় অনেক বেড়ে। তারই সূত্র ধরে নজরুলের চুরুলিয়া ভ্রমণ; কিন্তু অজয় নদীর দণি তীরের জাতীয় কবির বাড়ি দেখে একপ্রকার হতাশ-ই হয়েছি। তবে কৌতূহল মিটেছে ভেবে আনন্দ পেয়েছি।
বহমান অজয় নদী। এপারে কালো পাহাড়। কয়লা সারি সারি। ওপারে শান্ত-নিভৃত গ্রাম রানীগঞ্জ কয়লােেত্রর মধ্যে কবিতীর্থ, নজরুলের বাস্তুভিটা, শান্ত গ্রাম চুরুলিয়া। আসানসোল মহকুমার অন্তর্গত কালো কয়লার গ্রাম এ চুরুলিয়া। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে এ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিছিয়ে থাকা এ অজপাড়াগাঁয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কবি নজরুল। এ নির্জনতার ভেতরে কিভাবে বিদ্রোহী হলেন তিনি! প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক।
যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় আসানসোল থেকে সময় নিয়ে বের হতে হবে। তার পূর্বে রেলপথ বা সড়ক পথে কলকাতা বা যেকোনো প্রান্ত থেকে বর্ধমান শহর। তারপর রেলপথ বা সড়কপথে দুর্গাপুর-রানীগঞ্জ পার হয়ে আসানসোল আসতে হবে। আসানসোল বাস টার্মিনাল থেকে দোমহনী-চুরুলিয়া-অজয়ঘাট বাসে চুরুলিয়া বাজার। চুরুলিয়া বাজারে এবং গ্রামে ঢুকতেই কবির ম্যুরাল চোখে পড়বে। বাজার থেকে গলিপথে খানাখন্দ পথ পেরিয়ে কবিতীর্থ।
আগেই বলেছি ভারতবর্ষের অন্যতম কয়লাত্রে রানীগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে নজরুলের বাস্তুভিটা। লোকজন অতিথিপরায়ণ। বাজার থেকে কবিতীর্থে যেতে যেতে কাঁচা ঘরবাড়ি দেখা যাবে ঐতিহ্য হিসেবে। বাংলার সহজ-সরল গ্রামের পরিবেশ দেখা যাবে নজরুল ভিটায় যেতে। দারুণ রোমাঞ্চ লাগবে! আমাদের জাতীয় কবির বাড়ি যাচ্ছি এ ভেবে!
কবিতীর্থের প্রধান দ্রষ্টব্য হচ্ছেÑ ‘নজরুলের বাড়ি’, যা বর্তমানে নজরুল একাডেমি হিসেবে পরিচিত। এ দ্বিতল ভবনটি খুবই অবহেলায় পড়ে আছে। নজরুল বাড়িটির নিচ তলায় নজরুল সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম। পাঁচ রুপির অনুদান ফি দিয়ে নজরুল ও তার সন্তানদের ব্যবহৃত পোশাক, সঙ্গীত যন্ত্র, পুরাতন ম্যাগাজিন, পেপার কাটিং (নজরুলস¤পর্কিত), কবির ব্যবহৃত আসবাবপত্র, প্রমীলাদেবীর (নজরুলের স্ত্রী) ব্যবহৃত খাট, ছবিতে ধরে রাখা স্মৃতি ইত্যাদি সংরতি রয়েছে যা পর্যটকদের বাড়তি কৌতূহল মেটাবে নিঃসন্দেহে।
নজরুল একাডেমিতে গবেষণা করার জন্য লাইব্রেরিতে কবির বিভিন্ন বই, তার স¤পাদিত বিভিন্ন
ম্যাগাজিন রয়েছে। পরিচালনা করার জন্য একটি কমিটিও রয়েছে। জাতীয় কবির বাস্তুভিটায় যাবেন
ভেবে দেখুন! পুলকিত হবে দেহমন! যখনই কলকাতা থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার অথবা আসানসোল
থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের চুরুলিয়ার পথে, শিহরণ জাগাবে। চুরুলিয়ার পথে কয়লােেত্রর ভেতর দিয়ে যেতে যেতে পুলকিত হতে হতে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যস্থলে, জাতীয় কবির বাস্তুভিটায়। জাতীয় কবির জন্মভিটার স্মৃতিচিহ্ন। হ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.