মিয়ানমার থেকে পালানো ৭৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছেন ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা

এএফপি ও মিয়ামি হেরাল্ড

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ থেকে ৭৬ রোহিঙ্গাবাহী একটি কাঠের নৌকা থেকে উদ্ধার করেছেন জেলেরা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বহনকারী নৌকাটি নয় দিন ধরে সাগরে ভাসছিল। উদ্ধারকারীরা একথা জানিয়েছেন। উদ্ধারের সময় নৌকাটির পাল কাজ করছিল না। শুক্রবার উদ্ধার করা নৌকাটিতে ৮টি শিশু, ২৫ নারী ও ৪৩ জন পুরুষ ছিলেন। এর মধ্যে সাত ৭ জনকে উপকূলে এনে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিয়ামি হেরাল্ড এ খবর জানিয়েছে।
গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে। খুন, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। প্রতিবেশী বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থী শিবিরে মানবেতর পরিবেশে বসবাসকারী এসব রোহিঙ্গা আসন্ন বৃষ্টির মওসুমে বিপদজনক সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় খুঁজতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। অন্য দেশে আশ্রয় খুঁজতে মিয়ানমার থেকেও রওনা দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের উপকূল থেকে প্রায় ৭০ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সমুদ্র পথে দুর্ঘটনা ঘটলে তাদের ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছানোর আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল বার্তা সংস্থাটি।
তবে শুক্রবার উদ্ধার হওয়া নৌকাটির গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া ছিল বলে জানিয়েছে আচেহ প্রদেশের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা। সংস্থাটি বলছে নৌকাটিতে থাকা রোহিঙ্গারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এই তথ্য জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এসব রোহিঙ্গাদের খাবার আর পোশাক দিয়ে সহায়তা করছে। নাগরিক সহায়তার গ্রুপটির একজন কর্মী হেদায়েতউল্লাহ জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তিনি জানান, শুক্রবার বেলা ২টা নাগাদ জেলেরা সমুদ্রে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাটি দেখতে পান। পাল কাজ না করা নৌকাটি দেখতে পেয়ে তাদের সহায়তায় এগিয়ে যান তারা। পরে নৌকাটিকে উপকূলে নিয়ে আসা হয়।
গত ৬ এপ্রিলও একই এলাকা থেকে পাঁচ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছিল ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা। ২০ দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকা নৌকাটির আরো পাঁচ আরোহী সমুদ্রেই মারা যান বলে জানিয়েছিল উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা। তারও কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে ৫৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছিল সেদেশের কর্তৃপক্ষ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.