সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এমু পাচার হচ্ছিল কেন?
সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এমু পাচার হচ্ছিল কেন?

সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এমু পাচার হচ্ছিল কেন?

বিবিসি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাতক্ষীরায় এক অভিযান চালিয়ে ৬৫টি এমুর বাচ্চা উদ্ধার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

এমু হচ্ছে উটপাখী জাতীয় এক ধরণের বড় আকারের পাখী - যা প্রধানত অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়।

শনিবার ভোর রাতে সাতক্ষীরা জেলার পদ্মশাখরা গ্রামে ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি চোরাচালানি দলের হাত থেকে এগুলো উদ্ধার করে বিজিবির একটি টহল দল।

বিজিবির ৩৩ ব্যাটলিয়নের প্রধান লে: কর্ণেল মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফল রাখার প্লাস্টিকের ক্রেটে করে এই এমুর বাচ্চাগুলোকে বহন করা হচ্ছিল।

বিজিবি-র উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানিদের দলটি বাক্সগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কর্ণেল মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মোট ৬৫টি এমুর বাচ্চা ধরা হয়েছিল - যার মধ্যে বেশ ১০-১২টি মারা গেছে, তবে ৫০টির বেশি এখনো জীবিত আছে। কেন এগুলো বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল তা এখনও বের করা যায়নি।

সাতক্ষীরা সদরে বিজিবির ক্যাম্পে পাখীর বাচ্চাগুলো রাখা হয়, এবং সেখানকার ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী এদেরকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এমুর বাচ্চাগুলো ছোট - একটা বড় মোরগের মতো আকারের।

তিনি জানান, জীবিত এমুর বাচ্চাগুলো সুস্থ আছে এবং তাদেরকে সাধারণ হাঁসমুরগির খাবার, কলা ইত্যাদি খাওয়ানো হচ্ছে।

কর্ণেল মুস্তাফিজ জানান, বাংলাদেশে এমু চোরাচালান হয়ে আসার ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি । এগুলো কী পাখী এবং কেন আনা হয়েছে তাও তারা বুঝতে পারেননি। পরে প্রাণীবিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এগুলো এমু।

তিনি জানান, চোরাচালানিদের ধরার জন্য তারা অনুসন্ধান চালাবেন।

উটপাখী বলতে তা বোঝায় তা মূলত দুই ধরণের - একটি হচ্ছে এমু , আরেকটি অস্ট্রিচ। এমু পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ায়, আর অস্ট্রিচ আকারে আরো বড় এবং মূলত আফ্রিকা মহাদেশের পাখী।

একটি পূর্ণ বয়স্ক এমু পাঁচ থেকে ৬ ফিট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে ।

এর মাংস, তেল এবং চামড়ার জন্য এখন বিভিন্ন দেশের ফার্মে এর চাষ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দিনাজপুরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি অস্ট্রিচের খামার স্থাপিত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.