সাবরিন ফারুকি এ বছর নারী দিবসে অস্ট্রেলিয়ার এনএসডব্লিউ রাজ্যের সেরা নারীর সম্মাননা পেয়েছেন
সাবরিন ফারুকি এ বছর নারী দিবসে অস্ট্রেলিয়ার এনএসডব্লিউ রাজ্যের সেরা নারীর সম্মাননা পেয়েছেন

সমাজের অবকাঠামো উন্নয়নে নারীদের গুরুত্ব অনেক বেশি : সাবরিন ফারুকি

মো: আবদুস সালিম

সাবরিন ফারুকি উশ্রি। থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। তার জন্ম ঢাকায়। বেড়ে ওঠেন রাজধানী ঢাকায়। প্রবাসেই স্বীকৃতি পেয়েছেন সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য। সাবরিন পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বা এনএসডব্লিউ রাজ্যের সেরা নারীর সম্মাননা। তিনি এ পুরস্কার পান আন্তর্জাতিক নারী দিবসে (চলতি বছর)। এ পুরস্কারের নাম ‘বর্ষসেরা নারী পুরস্কার’। তিনি প্রচুর পরিশ্রম করেন সিডনির ব্যাংকসটাউন সংসদীয় এলাকার বহুজাতিক সম্প্রদায়ের ভাগ্যের পরিবর্তন বা উন্নয়নের জন্য। কাজ করছেন সামাজিক উন্নয়নের জন্যও।
সাবরিন ফারুকি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা যায় না। এ জন্য শিক্ষকদেরও ভালো প্রশিক্ষণ নেয়া জরুরি। এ জন্য তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার জন্য। আর সে লক্ষ্যে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি থেকে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন ২০১০ সালে। উচ্চশিক্ষা নিতে সিডনি যান ২০০৪ সালে।
শিক্ষা বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পেয়ে যান সেরা গবেষণা শিক্ষার্থীর পুরস্কার। প্রকাশ পায় তার বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রবন্ধ, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভালো কাজ দেয়। কারণ, তার লেখায় শিক্ষাব্যবস্থার নানাবিধ সমস্যা ও সমাধানের উল্লেখ করা হয়েছে। সাবরিন বলেন, প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অনেক ছেলেমেয়ে নানা কারণে পড়ালেখার সুযোগ পান না। অথচ সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষার্থী অনুকূল পরিবেশ পেলে পড়ালেখায় অনেক ভালো করতে পারেন। বাংলাদেশ শুধু নয়, বিশ্বের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কমবেশি ভূমিকা রাখতে পারেন তারা। এসব সুযোগ হাতছাড়া করা মোটেই উচিত নয়। এ জন্য কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।
বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি সাবরিন বয়স্কদের ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। আর তা করছেন স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে। এ সুবিধা পাচ্ছে বিশ্বের নানা দেশের মানুষ। তিনি প্রায় চার বছর খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন সিডনি ইউনিভার্সিটির শিক্ষা বিভাগে। এখন অস্ট্রেলিয়া সরকারের ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের উপদেষ্টা।
সাবরিন ফারুকি বলেন, পরিবার তথা সমাজের অবকাঠামো উন্নয়নে নারীদের গুরুত্ব অনেক বেশি। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ নারীই শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সে কারণে তিনি সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এগিয়ে যান। কাজ করে যাচ্ছেন সিতারাস স্টোরি নামক অলাভজনক একটি সংগঠনের সাথে। এ সংগঠনের কাজ হচ্ছে মেয়েশিশুদের সুস্থ মানসিকতায় বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। সাবরিন কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সমাজকল্যাণ সংস্থার সাথেও। এর মধ্যে বাঙালি কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে।
রাজনীতিও ভালো লাগে সাবরিনের। অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টিতে যোগ দেন ২০১৫ সালের দিকে। তিনি দেখেন, অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসা শরণার্থীদের সংখ্যা একেবারে কম নয়। তাদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কাজ করছেন তাদের কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের। এ বিষয়টি দুর্বল থাকলে সমাজে নানা ধরনের সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সমাজের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও। এ বিষয়ে সরকারগুলোর শক্ত ভূমিকা থাকা জরুরি।
সাবরিন সিডনিতে ‘বাংলা হাব’ নামক একটি সংগঠনের সাথে কাজ করেছেন। আয়োজন করেন বাংলা শিল্পকলা প্রদর্শনীর। তিনি মনে করেন, এতে গুরুত্ব বাড়বে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী শিল্পীদের শৈল্পিক দিকগুলো। সাবরিনের নানামুখী কাজ বা অর্জন সিডনির প্রবাসী বাঙালি নারীদেরও অনুপ্রেরণার উৎস।
ক্রমে সাবরিন ফারুকি উশ্রি অস্ট্রেলিয়ার মূল ধারার রাজনীতিকদের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে যান। এখন উন্নয়ন বা সেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে তার আর পেছনে ফিরতে হয় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় নারী হিসেবে সমাজে অবদান রাখা মোটেই সহজ নয়। তার পরও আমরা সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে কাজ করে যাই, তাহলে সব কাজই সহজ মনে হবে। তৈরি হতে পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ।
ছবি আঁকার ব্যাপারেও তার আগ্রহের কমতি নেই। সাবরিন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অতঃপর দ্বিতীয়বারের মতো স্নাতকোত্তর পাস করেন সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথওয়েলস থেকে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.