বেরাইদে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ একজন নিহত : গুলিবিদ্ধ ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কামরুজ্জামান দুখু (৩৫) নামে নিহত ও প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আহত নাজির হোসেন, বাদল মিয়া, তাজ মোহাম্মদ, শরীফ হোসেন, মো: আজিম, আবদুল করিমের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ্যাপোলো হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের অন্য হসপিটালে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল বিকেলে স্থানীয় এমপি রহমত উল্লাহ ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল ৪টায় বাড্ডা বালু নদীর তীরে ক্রাউন সিমেন্টের সামনে রহমতউল্লার ভাগ্নে ফারুক গ্রুপের সদস্যদের সাথে জাহাঙ্গীরের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পিস্তল ও শর্টগানের গুলির শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান গুলিবিদ্ধ আটজনকে উদ্ধার করে। তাদের এ্যাপোলো হসপিটালে ভর্তি করা হলে সেখানে দুখুর মৃত্যু হয়। সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রহমত উল্লাহ ও জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তাদের দু’জনের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করেও অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি বাড্ডা থানার ওসি তাদের দু’জনের অবস্থান সম্পর্কে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন মহলে লিখিত দিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, এমপি রহমতউল্লাহ তার ভাগিনা ফারুককে দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কোনো বাচবিচার না করে তার ভাগ্নেকে মহানগর আওয়ামী লীগের পদ দিতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার ছেলে হেদায়েতউল্লাহকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমপি ও তার ভাগ্নের কারণে এলাকায় অনেকেই ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছেন না। তার এসব কর্মকাণ্ড এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মেনে না নেয়ায় তিনি পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
তবে এমপি রহমত উল্লাহ এই বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। তাই প্রাথমিকভাবে কারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে বা হতাহত হয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন, তার বড় ছেলে হেদায়েতউল্লাহকে এলাকার মানুষ বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। তার পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.