ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি : মেয়র প্রার্থী মঞ্জু
ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি : মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি : মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, শাসক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করার জন্যে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তারা ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি ভোট ডাকাতির চিন্তা বাদ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে তা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে।

সোমবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি অভিযোগ করেন।

মঞ্জু বলেন, সরকার চায় ভোটাররা যেনো ভোট কেন্দ্রে না যায় এবং প্রশাসন আজ্ঞাবহ থাকে। গত কয়েকদিনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে শেখ পরিবারের সদস্যরা খুলনায় খুবই তৎপর ছিলেন। রাতে প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন। এটা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ শহরের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে এবং ধানের শীষে ভোট দিতে তারা অভ্যস্ত। মানুষদের রায়ের প্রতি তাদের যেন আস্থা নেই, তারা কানাগলি খুঁজছেন।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেহারা দেখলে বোঝা যাচ্ছে কি একটা নির্দেশনা তাদের উপরে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের এরকম ছোটখাটো নির্বাচনে না জড়িয়ে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামানোর জন্যে শেখ পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, আমরা চাই কেসিসি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। এ নির্বাচনে সরকার ভুল করেও হস্তক্ষেপ করবে না বলে আশা করি। এ নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়, ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে তা হবে সরকারের গলার কাঁটা। দেশে একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ। চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারত বলেছে তারা একটি অংশগ্রহনমুলক, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। এখানে ভোট ডাকাতি হলে প্রমাণ হবে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করবে। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের কোমর শক্ত কিনা সেটাও এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে।

দুই দিন ধরে নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুকের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে এবং তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছে একটি বাহিনী। একই বাহিনী ১০/১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ৯০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক হুইপের ভাই বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙ্গে দেবার হুমকি দিয়েছেন। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে একজন দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগ নেতা ও তার কর্মীরা একইভাবে হুমকি দিচ্ছে। রোববার যারা ফারুক এবং রাজ্জাকের বাড়ীতে হামলা চালিয়েছিল, তারা বলেছে আমরা ময়লাপোতা মোড় থেকে এসেছে। এটি ইঙ্গিতবহ, আমরা তাদেরকে দায়ী করতে চাই না।

মঞ্জু বলেন, পুলিশকে আমরা সন্ত্রাসীর তালিকা বানাতে বলেছি। পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের তালিকা বানিয়ে অভিযান শুরু করেছে। এখানে ডন বাহিনী, কোন বাহিনী, ইত্যাদি বাহিনী আছে। যারা মানুষ হত্যা করেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, সেখানের ভোটের ফলাফল ছিনতাই হয়েছে। খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে।

তিনি বলেন- এই শহরে ভূমিদস্যুতা বাড়ছে, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে পিটিআই মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষ খুন করেছে। চাঁদাবাজি করেছে, টেন্ডারবাজি করেছে। কিন্তু পুলিশের খাতায় সন্ত্রাসী হিসেবে তাদের নাম নাই। এই শহরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে যারা মিথ্যা ও হয়রানিমুলকভাবে পুলিশের দেয়া সাজানো-পাতানো মামলার আসামি হয়েছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। যেন তারা মাঠ ছেড়ে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, এই শহরের মাদকের প্রসার ঘটার খবর শহরবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিনাভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির দুদকে তলব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া প্রতিবেদন, এ নিয়ে সরকারি দল আবার নতুন প্রচারে নেমেছে। যে প্রচার হাস্যকর।

মেয়র প্রার্থী বলেন, শীতলাবাড়ীর সামনে একজন পূজারী মহিলাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকারীরা গ্রেফতার হয়নি। তাদের বিচার হয়নি। খুলনার হিন্দু সমাজ উদ্বিগ্ন। তাদের অনেকের এ সরকারের শাসনামলে দখল হয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের দাবি থাকবে- এই ধরণের তালিকা প্রস্তুত না করে সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করুন। তফসিল ঘোষণার পরেই সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ নয় দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম নির্বাচন কমিশনে। যার একটি দফাও নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়ন করে নাই। এতে বোঝা যায়, বর্তমান সরকারের গড়া নির্বাচন কমিশন কতখানি আজ্ঞাবহ। সেজন্যে জনগণকে নিরাপত্তা দিতে সেনা বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।

মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের বদলী তদবিরে এ শহরে পুলিশ কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন চাকরি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। অনেকেই এ শহরে বাড়ি-ঘর শুরু করেছেন। এই শহরে তাদের আত্মীয়-স্বজন আছেন। মহানগরী ও জেলায় আদিবাড়ী তারাও এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা বার বার তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছি।

সিইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ভোটারদেরকে নিরাপদে ভোট দেবার পরিবেশ সৃষ্টি করুন। সেনা মোতায়েন করুন। যে পুলিশ এখানে আছে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা নাই। হাত-পা গুটিয়ে বসে থেকে আমাদেরকে একটি সংঘাতময় পরিবেশের দিকে ঠেলে দিলে জনগণ ক্ষমা করবে না।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি মঞ্জু বলেন, সোনালী জুটমিলে আমরা সভা করার পর সিবিএ সভাপতিকে পুলিশ হুমকি দিয়েছে। কেউ আমাদের মিটিং করতে মিলনায়তন ও হোটেল ভাড়া যেন না দেয় সে জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। ক্রিসেন্ট জুটমিলে আমাদের মিটিংয়ের অনুমতি দেবার পর সভার একঘন্টা আগে বাতিল করেছে। আওয়ামী লীগের একজন বড় নেতা বলেছেন, ‘হালারা যেনো মিটিং করতে না পারে।’ আমাদের কথা বলতে না দেবার অধিকার কি তাদের আছে? গণতন্ত্রের মানসকন্যার দল কি এ রকম গণতন্ত্র চালু করবে? আমরা সে জন্যই বলছি, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশের কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। ওবায়দুল কাদের যতোই মিটমিট করে হাসুন না কেনো, ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি কোন জাতীয় নির্বাচনে যাবে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড.শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, আব্দুল জলিল খান কালাম, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, এস এ রহমান, মোঃ ফকরুল আলম, শেখ আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এহতেশামুল হক শাওন ও শামসুজ্জামান চঞ্চল।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.