ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে বোরো চাষিরা

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বোরো চাষিরা। ধান কাটার সময়ে এমন দুর্যোগে কাক্সিত ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার নন্দীগ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন বোরো চাষিরা। গত বুধবার বিকেলে শুরু হওয়া ৩০ মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছিলেন। এ সপ্তাহে উপজেলাজুড়ে ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু গত বুধবারের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধানগুলো শীষ থেকে ঝড়ে পড়েছে। ফলে কাক্সিত ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার দামগাড়া গ্রামের কৃষক খোকা মণ্ডল বলেন, খুব ভালো ধান হয়েছিল। এমন সময় ধান কাটার আগেই ঝড়ো বৃষ্টিতে ধানগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এখন ধানের চেয়ে চিটার পরিমাণ বেশি হবে। রিধইল গ্রামের বেগুনচাষি জাহিদুল বলেন, অনেক টাকা খরচ করে বেগুন চাষ করেছিলাম। কিন্তু ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বেগুন গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মশিদুল হক বলেন, শিলাবৃষ্টির পর মাঠ জরিপের কাজ চলছে, জরিপ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে মাঠ জরিপ করতে বলা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১টার শিলাবৃষ্টিতে সাড়ে চার কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর, সদর ইউনিয়ন, নারচী ও পৌরসভাসহ কাজলা, কর্নিবাড়ী, ফুলবাড়ী ও বোহাইল ইউনিয়নের ৩০১ হেক্টর ইরি-বোরো ধান, ২১ হেক্টর পাট ও দেড় হেক্টর জমির সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসার শাহাদুজ্জামান বলেন, ৬১৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে টাকার মূল্যে প্রায় চার কোটি ৬২ লাখ টাকার ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলাবৃষ্টিতে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার ভোরে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকাসহ সদর, মেরুরচর ও বাট্টাজোড়, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আধা ঘণ্টাব্যাপী এই শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ইরি-বোরো পাকা ধান, আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উঠতি পাকা ব্রি-২৮ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসান সিদ্দিক শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.