গ্রাহকবান্ধব হচ্ছে ইউটিউব

সম্প্রতি ইউটিউব ভিডিও ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ল্েয নতুন নীতিমালা তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে। কিছু দিন আগে একটি ভিডিওতে একজন আত্মহত্যাকারীর লাশ দেখানোর পর ইউটিউবের ব্যাপক সমালোচনা হয়। এ ঘটনার পর ইউটিউবের প থেকে নতুন এই নীতিমালা তৈরির ঘোষণা আসে। কিছু ভিডিও ব্লগারের বাজে ধরনের আচরণ পুরো ভিডিও ব্লগার কমিউনিটির তি করছে। ইউটিউব তাদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে চায়। কেউ বাজে কিছু করলে তার জন্য যেন পরিণতি ভোগ করতে হয় সে ধরনের নীতিমালা তৈরি করছে ইউটিউব। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

জনপ্রিয় ভিডিও ব্লগার লোগান পল একটি ভিডিওতে একজন আত্মহত্যাকারীর মৃতদেহ দেখানোর পর ইউটিউবের ব্যাপক সমালোচনা হয়। জাপানের একটি জঙ্গল, যেটি ‘সুইসাইড জঙ্গল’ বলে পরিচিত, সেখানে এই মৃতদেহ পড়েছিল। প্রতি বছর সেখানে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করতে যায়। উল্লেখ্য, জাপানের আত্মহত্যার হার খুব বেশি। এ ঘটনার পর অবশ্য ইউটিউব কর্তৃপ লোগান পলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়।
ইউটিউবে বিতর্কিত কোনো ভিডিওর পাশে যেন বিজ্ঞাপন দেখা না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে ইউটিউব তাদের এলগরিদম ব্যবহার করছে। কিন্তু ইউটিউবে ভিডিও ব্লগিং করে তারকায় পরিণত হয়েছেন এমন অনেকে অভিযোগ করছেন, তাদের ভিডিওকে এখন ভুলবশত এ ক্যাটাগরিতে ফেলে বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা আরো অভিযোগ করছেন, ইউটিউবের নীতিমালায় স্বচ্ছতার অভাব আছে।
ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী সুজান ওজস্কি বলেছেন, তিনি ইউটিউবের ব্যাপারে মানুষের যে আস্থা সেটা আরো বাড়াতে চান। কিভাবে বিভিন্ন সমস্যার আরো ভালো সমাধান খোঁজা যায়, তারা সেই চেষ্টা করছেন। এ জন্য ভিডিও পর্যালোচনার কাজটি এখন আরো বেশি মডারেটর নিয়োগের মাধ্যমে করার কথা ভাবা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউটিউবের সদর দফতরে হামলাকারী হিসেবে যে নারীকে পুলিশ চিহ্নিত করেছে, তিনি একজন নিরামিষভোজী ব্লগার। হামলাকারীর অনলাইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, ইউটিউবে তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, এমন অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সান দিয়াগোর অধিবাসী ইরানি বংশোদ্ভূত নাসিম নাজাফি আঘদাম নামের ৩৯ বছর বয়সী এই নারী দণি সান ফ্রান্সিসকোর সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত ইউটিউবের কার্যালয়ে গত ৩ এপ্রিল হামলা করেন। আঘদামের গুলিতে একজন পুরুষ ও দু’জন নারী গুরুতর আহত হন। পরে আত্মহত্যা করেন সেই হামলাকারী।
এ হামলার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখছে সান বরুনো পুলিশ বিভাগ। এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে হামলায় যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি হামলা চালিয়েছিলেন। আঘদামের অনলাইন প্রোফাইলে রয়েছে, তিনি একজন নিরামিষভোজী। তিনি নাসিমইসাবজ ডটকম নামে একটি ওয়েবসাইট চালাতেন। ফারসিতে এর অর্থ ‘বিশুদ্ধ বাতাস’। এ সাইটে তিনি ইরানি সংস্কৃতি ও নিরামিষভোজী হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতেন। সাইটটিতে ইউটিউবের তীব্র সমালোচনাও করতেন তিনি।
২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসে ৮৩ লাখ ভিডিও মুছে ফেলেছে ইউটিউব। কমিউনিটি নীতিমালা না মানায় এসব ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে বলে ত্রৈমাসিক ‘এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন’-এ উল্লেখ করেছে ইউটিউব কর্তৃপ। অবশ্য এ প্রতিবেদনে কতগুলো ভিডিও কপিরাইট আইন ভাঙা বা আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে সরানো হয়েছে, তা উল্লেখ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ইউটিউব কর্তৃপ বলেছে, যৌনতাপূর্ণ ভিডিও সরিয়ে ফেলতে ইউটিউব ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তিন মাসে ৯১ লাখ অনুরোধ পেয়েছিল ইউটিউব কর্তৃপ। ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য বা অবমাননাকর ভিডিও পোস্টের অভিযোগ পেয়েছিল ৪৭ লাখ। এসব অভিযোগের বেশির ভাগ এসেছিল ভারত, যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিল থেকে। ইউটিউব কর্তৃপ জানিয়েছে, তাদের তৈরি করা বিশেষ এলগরিদম বা প্রোগ্রাম ৬৭ লাখ ভিডিওকে ফ্যাগ দেখিয়ে মডারেটরদের কাছে পাঠায়, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এসব ভিডিওর ৭৬ শতাংশই মডারেটর ছাড়া আর কেউ দেখেননি। ইউটিউব কর্তৃপ জানিয়েছে, তারা মুছে ফেলা ভিডিওর বিশেষ তথ্য রেখে দিয়েছে। এতে কেউ যদি ওই ভিডিও আবার আপলোড করে, এটা নিমেষে ধরে ফেলা যাবে। অবশ্য ইউটিউব কিডসের েেত্র কত ভিডিও সরানো হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি ফেসবুক। গত মার্চ মাস থেকে উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানো ঠেকাতে যুক্তরাজ্যজুড়ে ইউটিউবের সমালোচনা হচ্ছে। ইউটিউব কর্তৃপ বলেছে, ইউটিউব ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে এখন রিপোর্টিং ড্যাশবোর্ড যুক্ত করা হবে। এখানে যে ভিডিও বিষয়ে তারা আপত্তি জানাবেন, এর সর্বশেষ হালনাগাদ সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন।
শিশুদের শিা ও বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ইউটিউবের ব্যবহারের ওপর মা-বাবার নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করেছে ইউটিউব কর্তৃপ। শিশুদের ব্যবহারের উপযোগী করে ‘ইউটিউব কিডস’ নামের নতুন একটি অ্যাপ বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ওই অ্যাপে শিশুদের উপযোগী আধেয় ছাড়াও ভুলবশত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য উপযোগী কিছু ভিডিও প্লেলিস্টে চলে আসে; যা শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য একদম উপযোগী নয়। তাই শিশুদের ইউটিউব ব্যবহারে মা-বাবার সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য ইউটিউব কর্তৃপ ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইউটিউব কর্তৃপ বলছে, ‘ইউটিউব কিডস’ অ্যাপে অভিভাবকেরা যাতে শিশুদের ইউটিউব ব্যবহারের বিষয়টি চোখে চোখে রাখতে পারেন এমন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া অভিভাবকেরা চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর অ্যাপসটি ‘অকার্যকর’ করে দিতে পারবেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.