মাধবীলতা
মাধবীলতা

মাধবী লতা আমি, আমি কানন বালা

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

মাধবীলতা। তীব্র সুগন্ধযুক্ত সাদা রঙের ছোট্ট ফুলের মাঝখানে যেন হলুদ রাঙা টিপ। গাছের থোকায় থোকায় অজস্র ফুল ফুটেছে। বৈশাখের তপ্ত দুপুরে মাধবীলতা ফুলটি দেখলে এর প্রেমে পরবে না এমন লোক খুব কমই আছে। সাধারণত মানুষ বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে মাধবীলতা গাছ লাগায়। বিশেষ করে বাড়ির প্রবেশ দ্বার, ছাদ, ফুল বাগানে, ঘরের চালে এ ফুলগাছ দেখা যায়।

লাল সাদা ফুলের মাধবীলতাকে অনেকে পুষ্পন্দ্রে কামী, অভীষ্টগন্ধক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক ও ভ্রমরোৎসব নামে ডাকে। মানিকগঞ্জের মানুষ এ ফুলকে মাধবীলতা নামেই জানে।

মাধবীলতা সম্পর্কে মুক্তকোষ উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, মাধবীর বোটানিক্যাল নাম Hiptage benghalensis (L.) Kurz., ফ্যামিলি Malpighiaceae।

জানা যায়, মাধবী সাধারণত বৃক্ষারোহী লতা গাছ। এ গাছ অনেক দিন বাঁচে এবং ফুল দেয়। গাছের ডাল মোটা এবং ছাল মেটে রঙের হয়। কাঠ লালচে ও শক্ত হয়। মাধবীলতা সাধারণত ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। দেখতে অনেকটা চাঁপা ফুলের পাতার মতো। সাধারণত গ্রামে অযত্নে জন্মে। শহরের মানুষ বাড়ি ও বাগানের সৌন্দর্যের জন্য শখের বসে লাগায়। তবে দিন দিন এই লতা গাছটির সংখ্যা কমে আসছে। সচরাচর খুব বেশি দেখা যায় না।

 

মাধবীর লতা গুচ্ছবদ্ধ ও বিন্যাস সুসংবদ্ধ। মুকুলগুলো সূক্ষ্ম রোমে ভরা। ফুল সাদা রঙের, পাঁচটি পাঁপড়ি এবং তার মধ্যে পঞ্চম পাঁপড়ির গোড়ার দিক হলুদভাব। মাধবীলতা দেখতে তিল ফুলের মতো এবং বেশ সুগন্ধি। বসন্ত ও গ্রীষ্ম এই ফুলের ঋতু হলেও কখনো কখনো বর্ষা পর্যন্ত ফোটে। তবে প্রায় সারাবছরই এ ফুল দেখা যায়। এর ফুল থেকে ফল হয়। বীজ থাকে ২/৩টি এবং তা রোমশ।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরের জনৈক উজ্জল হোসেনের বাড়িতে মাধবীলতায় ঘরের চাল ভরে উঠেছে। রঙিন মাধবীলতা বাতাসে দোল খাচ্ছে। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণে ভরিয়ে রেখেছে চারপাশ। ডালের আগায় বড় বড় ঝুলন্ত থোকা। প্রতিটি থোকায় ১০ থেকে ১৫টি লাল সাদা ফুল। সবুজ পাতা লালা সাদা ফুল দূর থেকে দেখতে অসাধারণ।

উজ্জল হোসেন বলেন, “প্রায় সব সময় গাছে ফুল থাকে। শিশুরা ফুল নিয়ে খেলা করে। গাছের পাশ দিয়ে হেটে গেলে হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়া যায়। শুনেছি মাধবীলতার পাতার রস পুরাতন বাতের ব্যথা সারতে বেশ উপকারী। তবে কখনো ব্যবহার করে দেখিনি।”

 

ভেষজ চিকিৎসায় মাধবী লতা ব্যবহার করা হয়। মানিকগঞ্জ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক উত্তম পালিত বলেন, পুরানা বাত সারাতে মাধবীলতার পাতার রস, হাঁপানির শ্বাসকষ্টের জন্য পাতা ও ডালের রস উপকারী। মাধবীলতা গাছের শুকনো ছালের গুঁড়ো বিষাক্ত ঘা সারিয়ে তোলে।

মাধবী লতা দুর্লভ। উপকারীতার পাশাপাশি এর সৌন্দর্য মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। মাধবীরা হারিয়ে যাচ্ছে অনাদরে, অবহেলায়। এখন শৌখিন ও সৌন্দর্যপিপাসু ছাড়া মাধবী লতার কথা কেউ মনে করে না। তাই মাধবীলতার প্রতি আমাদের একটু সদয় হতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.