মডেল : সারিকা ও তার মেয়ে
মডেল : সারিকা ও তার মেয়ে

মা দিবস

রঙের ঝলক
জারীন তাসনিম

একজন মানুষের জীবনে সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দ হলো মা। মা শব্দটি মানবজীবনে অমৃততুল্য। সমস্ত শব্দমালার মধ্যে সবচেয়ে মধুরতম শব্দ। মায়ের মতো আপন কেউ নেই আর হতেও পারে না।
এ জগৎ সংসারে মা আর সন্তানের মধ্যে একটি পার্থিব সম্পর্ক বিদ্যমান। সন্তান আর মায়ের মধ্যে নাড়ির টান এতই প্রবল যে, সন্তান দূর দেশে থাকলেও সন্তানের বিপদে মায়ের অন্তরে সেই বার্তা ভেসে আসে। সন্তানের রোগে-শোকে মাও আক্রান্ত থাকেন একইভাবে। জন্মের পর থেকে শিশু মায়ের আশ্রয়, স্নেহ-মমতা, যতœ ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। একজন মা গর্ভধারণের পর থেকে কতই না কষ্ট সহ্য করে । কিন্তু সন্তান প্রসবের পর সন্তানের মুখ দেখে সব কষ্ট, বেদনা নিমিষেই ভুলে যান। আদরের ধনকে বুকে তুলে নেয়ার পর মায়ের দুই নয়নে যে স্বর্গীয় সুখ ও তৃপ্তির জ্যোতি ফুটে ওঠে সে অনুভূতির ব্যাখ্যা কোনো ভাষাতেই প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। বিপদ ও দুর্যোগে আক্রান্ত হলে মা তার সন্তানকে রক্ষা করতে প্রাণপণ লড়াই করে জীবন বিসর্জন দেন, তবুও বিপদাপন্ন সন্তানকে ত্যাগ করেন না। স্বর্গীয় শক্তি যেন মাকে শক্তি জোগায়। পীড়িত সন্তানের দেহমনে মায়ের কোমল হাতের স্নেহস্পর্শে যে প্রশান্তি ও সুখানুভূতি হয় তা হাজার চিকিৎসা, ওষুধ ও ডাক্তারের স্পর্শের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। মা ও সন্তানের মধ্যে এই নাড়ির সম্পর্ক অবিচ্ছিন্ন, চিরন্তন। এ সম্পর্কের মান কোনো তুলনা দণ্ডে নিরূপণ করা যায় না। মাতৃক্রোড়ের অভয় আশ্রয়ে সন্তান আজীবন বাস করতে চায়। মৃত্যুর পরও অনেক সন্তান মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সবচেয়ে আপনজন মাকে সম্মান জানাতে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় মা দিবস। প্রতি বছর মে দিবসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে পালন করার রীতি অনেক দেশেই গড়ে উঠেছে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় খ্রিষ্টের জন্মের অনেক আগে থেকেই মিসর, রোম ও গ্রিসে মা দিবস পালন করা হতো। তবে সে দিবসটাতে দেবতাদের মায়েদের আরাধনা করা হতো। ১৬ শতকে ইংল্যান্ডে মা দিবস পালন করা হতো বলে জানা যায়। এবং এটি ছিল নিজের মাকে নিয়ে মা দিবস উদযাপন। সেই দিন সরকারি ছুটিও থাকত। পরিবারের সবাই তাদের মায়ের সাথে দিনটি কাটাত। কিন্তু তখনো দিবসটি বিশ্বব্যাপী ততটা প্রসার লাভ করেনি। এর প্রায় ১০০ বছর পর ১৮৭০ সালে আমেরিকার জুলিয়া ওয়ার্ড হাও নামে এক গীতিকার মা দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর মা দিবস পালনের আন্দোলনের হাল ধরেন অ্যানা এম জারভিস। অ্যানা জীবিত ও মৃত সব মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য দিবসটি পালন করতে চাচ্ছিলেন। ১৯০৮ সালে ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভেনিয়ার কয়েকটি গির্জায় মা দিবস পালিত হয়। এরপর ১৯১৪ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উউলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটিকে জাতীয় মা দিবসের মর্যাদা দেন। আরো পরে ১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
মা দিবস এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন করা হয় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। আর দেশভেদে এই বিশেষ দিবসের পালনের রীতিও ভিন্ন রকম। রীতিনীতিতে যতই ভিন্নতা থাকুক সবাই চায় এই দিনে মাকে খুশি করতে। মায়ের সাথে সময় কাটাতে, মাকে সুন্দর উপহার দিতে। আমাদের দেশেও মা দিবসটি পালন করা হয়।
পৃথিবীর কাছে মা তুমি শুধু একজন মানুষ, কিন্তু আমার কাছে তুমিই আমার পৃথিবী। আমার কাছে তোমার মতো মা আর নেই। আমার এই সুন্দর জীবন সে শুধু তোমারই অবদানÑ এভাবে মাকে কখনো নিজের অনুভূতি বলা হয় না।
কিন্তু মা দিবসে এ কথাগুলোই বলে যায় মাকে। মাকে আরো ভালো করে বোঝা যায়, মায়ের কাছাকাছি যাওয়া যায়। পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন যেজন তিনি হচ্ছেন মা। হৃদয়ের খুব কাছের একটি শব্দ মা। সন্তানের পুরো জীবনই আবর্তিত হয় মাকে ঘিরে। একজন মা তার সন্তানকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে লালনপালন, শিক্ষা দেয়া, তার মধ্যে চারিত্রিক গুণাবলি গড়ে তোলা, জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রতিটি সমস্যায় তার পাশে থাকা পর্যন্ত সব সময় সন্তানের সাথেই থাকেন। ত্যাগ, সহনশীলতা ও ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক মা। একই সাথে কোমলতা ও কঠোরতা মিশে থাকে মায়ের স্নেহে।
মা দিবসে মায়ের জন্য সন্তান ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে বিভিন্ন উপায়ে। মাকে তার পছন্দের কোনো কিছু দিতে পারেন উপহার হিসেবে। তাকে নিয়ে বেড়াতে যেতে পারেন। একসাথে লাঞ্চ বা ডিনার করতে পারেন অথবা তার পছন্দের কোনো খাবার রান্না করতে পারেন। ভাইবোন সবাই একসাথে মায়ের সাথে কাটাতে পারেন বিশেষ এই দিনটি। অর্থাৎ মাকে যে তার সন্তানেরা ভালোবাসেন, তার প্রতি তার যতœশীল এটা বোঝাতে পারাই সবচেয়ে বড় কথা। আর এই বোঝাতে পারাতেই মায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কারণ মায়ের একমাত্র চাওয়া তার সন্তানরা খুব ভালো থাকুক। দিনটিকে প্রতীক ধরে প্রতিটি সন্তানের জন্য প্রতিটি দিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর দিন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.