ডিমের রকম সকম

ডা: নাহিদ শারমিন নূপুর

ডিম সত্যিই মুখরোচক সুস্বাদু খাবার এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। ডিমের অমলেটের সুগন্ধে কারো কারো মন আবার হারিয়ে যায়। বিকল্প খাবারের কথা অথবা চটপট কিছু খাবারের কথা ভাবলেই প্রথমে ডিমের কথা মাথায় আসে। নুডলস, কেক, বিস্কুট ও পুডিং কোথায় নেই ডিম। ডিমের রাজত্ব খাবারের বেশির ভাগ স্থানে বিরাজ করছে। তাই আসুন ডিম সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই এবং সতর্কতার সাথে ডিম খাই। ডিম হচ্ছে সবচেয়ে সহজপাচ্য প্রোটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার। প্রতি ১০০ গ্রাম ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ ১৩.৩০ গ্রাম, ফ্যাট ১৩.০৩ গ্রাম এবং এনার্জি রয়েছে ১৭৩ কিলোক্যালরি। এ ছাড়াও রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কোলেস্টেরল। ডিমের কুসুম হলুদ কারণ কেরোটিন রয়েছে ডিমে। ডিমে কার্বো হাইড্রেড নেই।
অনেকেরই ধারণাÑ ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ মাছ ও গোশতের তুলনায় বেশি এ ধারণা ঠিক নয় এবং ডিমের তুলনায় মাছ ও গোশতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি।
কেউ কেউ পত্রিকার পাতা পড়ে ত্বকে উজ্জ্বল্য আনার জন্য অথবা স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে কাঁচা ডিম দুধে মিশিয়ে খান। এ রকম খাওয়ার ফলে কখনো কখনো শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এতে হজমের গণ্ডগোল হতে পারে।
ডিম একেকজন একেকভাবে খেতে পছন্দ করেন। কেউ হাফ বয়েলড, কেউ ফুল বয়েলড কেউবা আবার পোচ অথবা অমলেট ইত্যাদি। সব রকমভাবে ডিম খাওয়া কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত নয়। খাবারের সময় লক্ষ রাখতে হবে ডিমের কুসুমটা যেন কাঁচা বা অসিদ্ধ না থাকে অথবা বেশি সিদ্ধ হয়ে কুসুমটা যেন কালচে বর্ণ ধারণ না করে। এই দুটো ক্ষেত্রে আপনার স্টমাক আপসেট হতে পারে। একজন মানুষ দুটো ডিম স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারে। তবে ৩০ বছর বয়সের পর কোলেস্টেরলের কারণে পুরুষদের ডিম খাওয়া কমিয়ে ফেলা উচিত। মহিলাদের ক্ষেত্রে আবার ভিন্ন। ৫০ বছর পর্যন্ত মহিলারা দিনে দুটো ডিম খেলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু বংশগত সূত্রে যাদের হাইপার কোলেস্টেরল রয়েছে তারা ২০ বছরের পর থেকে ডিম খাওয়া কমিয়ে দিলেই ভালো করবেন। কুসুম বাদ দিয়ে ডিম খাওয়া বেশি উপকারী। রোগের ক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলা সবার একই বিধান রয়েছে। যারা খুব মোটা হয়ে যাচ্ছেন তারা কুসুম বাদ দিয়ে ডিমের সাদা অংশটুকু খেতে পারেন।
সবশেষে বলতে হয়, আমরা সব সময় একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকি, যেমনÑ কোন ডিম খাওয়া ভালো, হাঁস, মুরগি অথবা পোলট্রিÑ এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তাই জেনে রাখুন, যেকোনো ডিমই ভালো। তবে পোলট্রির ডিমের চেয়ে দেশী ডিমে ব্যাকটিরিয়ার আক্রমণের আশঙ্কা থাকে বেশি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.