সাজিয়া বেগম; ফারুক হাসান
সাজিয়া বেগম; ফারুক হাসান

ফরিদপুরে জোড়া খুনের নেপথ্যে পরকীয়া

ফরিদপুর সংবাদদাতা

ফরিদপুরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগম (৩৬) ও সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসের লিগ্যাল ম্যাটার ডিভিশনের কর্মকর্তা ফারুক হাসান (৩৮) হত্যার নেপথ্যে রয়েছে নিহত দুইজনের পরকীয়া। প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত এমনই তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কিছু এখনো বলেনি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুইজনের মধ্যে দীর্ঘ দিনের পরকীয়াই এর নেপথ্য কারণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই নিহত দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত সাজিয়ার স্বামী শহিদুলও স্বীকার করেছেন দুইজনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা। প্রেমিকা সাজিয়ার সাথে সম্পর্কের জেরেই ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক ফরিদপুরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে সাজিয়ার পাশের ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এ সূত্রতা সামনে রেখেই পুলিশ তদন্তে এগোচ্ছে। তবে এ ঘটনায় দুইজনেই হত্যার শিকার হয়েছেন নাকি একজনকে হত্যার পর আরেকজন আত্মহত্যা করেছেন বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। আজকালের মধ্যে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। এরপরই হত্যা রহস্যও উন্মোচিত হবে।


জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সাজিয়া ও ফারুকের মধ্যে আন্তরিকতা গড়ে উঠে। এটি একপর্যায়ে প্রেমে পরিণত হয়। সাজিয়া ছিলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১১ সালে তিনি মাস্টার্স শেষ করে। তার এক বছরের জুনিয়র ফারুক ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র। তবে পড়াশোনা শেষ করার অনেক আগেই সাজিয়ার বিয়ে হয় ঢাকার সূত্রাপুরের বানিয়ানগর এলাকার মোটরপার্টস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের সাথে। তাদের ১২ বছর ও ৫ বছরের দু’টি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পরেও ফারুকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় স্বামী শহিদুলের সাথে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হতো। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে ছিল।


নিহত ফারুকের বড় ভাই সোহরাব হোসেন জানান, গত শবে বরাতের ছুটিতে তার ভাই ফারুক গ্রামের বাড়িতে যান। ছুটি শেষ না হতেই তিনি ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা হন। তবে সে ঢাকায় না গিয়ে ফরিদপুরে চলে আসেন। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার সাজিয়ার স্বামীও ফরিদপুরে চলে আসেন। ফারুকের ফরিদপুরে আসার বিষয়টি জানতে পেরেই শহিদুল ফরিদপুরে এসেছিলেন কি না তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যেহেতু পরকীয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে; তাই তাদের কাছে হত্যা রহস্যও অনেক পরিষ্কার হয়ে আসছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আসল রহস্য জানা যাবে। ওই সূত্র জানায়, উদ্ধারের সময় ফারুকের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায়; আর সাজিয়ার লাশ মেঝেতে পড়ে ছিল। সাজিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ফারুককেও হত্যা করা হয়েছে কিনা কিংবা তিনি আত্মহত্যা করেন; তার ওপর নির্ভর করছে বাকিটুকু। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, স্ত্রীর পরকীয়া সহ্য করতে না পেরে ভাড়াটিয়া খুনিদের দিয়ে স্বামী শহিদুলও এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে এখনো সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।


সাজিয়ার স্বামী শহিদুল ইসলামকে গতকাল সাত দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগমের ফুফু আফসারী হোসেন এর আগে বাদি হয়ে গত সোমবার রাত ৯টায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল কুমার দে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশ্য নিহত ব্যাংকার ফারুক হাসানের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।


গত রোববার রাতে দক্ষিণ ঝিলটুলীর জামালের দোকানের মোড়ের কাছ সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলামের ফ্ল্যাটবাড়ির নিচতলা থেকে উদ্ধার করা হয় এ দুইজনের লাশ। তাদের একজন সাজিয়া বেগম (৩৬)। তিনি সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। রাজধানীর সূত্রাপুরের বানিয়ানগর এলাকার শাহজাহান শেখের মেয়ে এবং ওই এলাকার মোটরপার্টস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন তিনি। চাকরির সুবাদে শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীর প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ছোট ছেলে রিশাদকে (৫) নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। বড় ছেলে তাসিম (১১) ঢাকায় তার বাবার কাছে থাকে। নিহত ফারুক হাসান (৩৮) সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসের লিগ্যাল ম্যাটার ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি যশোরের শর্শায় বলে জানা গেছে। রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার একটি বাসায় থাকতেন তিনি। এক মাস আগে তিনি ফরিদপুরের এই বাসা ভাড়া নিলেও মাত্র দুই দিন আগে বাসায় এসে উঠেছিলেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.