মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য ওয়ার্কহাউজে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটবাহী রকেট : সংগৃহীত
মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য ওয়ার্কহাউজে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটবাহী রকেট : সংগৃহীত

মহাকাশে বাংলাদেশ

স্যাটেলাইট কাবে প্রবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে গৌরবময় বিশ্ব স্যাটেলাইট কাবে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার পথে এক অধ্যায় যুক্ত করবে।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উৎপেণের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে স্যাটেলাইট ও ফ্যালকন-৯ রকেট। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে) ফোরিডার অরল্যান্ডোর কেপ কেনেডি সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে মহাকাশে উড়ার কথা বাংলাদেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।
আর এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট ওড়ানো রাষ্ট্রের তালিকায় নাম উঠবে বাংলাদেশের।
ফোরিডায় স্যাটেলাইট উৎপেণ প্রত্য করতে স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশনে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪২ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
এ দিকে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎপেণ উপলে যুক্তরাষ্ট্রের সানসাইন স্টেট ফোরিডার বিনোদন শহর হিসেবে পরিচিত অরল্যান্ডো বাংলাদেশীদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। আনন্দের বন্যা বইছে এখানকার বাংলাদেশীদের মধ্যে। নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত বাংলাদেশী অরল্যান্ডোতে সমবেত হয়েছেন।
এর আগে পাঁচ দফা উৎপেণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। স্পেসএক্সের টুইটার পেজে সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ১০ মে ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে লঞ্চিং প্যাড ৩৯এ থেকে যাত্রা শুরু করবে বলে নিশ্চিত করা হয়।
২৬১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সমতা। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় এক হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেয়ার জন্য রাখা হবে।
গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দু’টি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এর মধ্যে গাজীপুর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এবং বেতবুনিয়া বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে দু’টি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রই। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে পৃথক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতি বছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.