রূপকথার বিয়ে এবং অতঃপর
রূপকথার বিয়ে এবং অতঃপর

রূপকথার বিয়ে এবং অতঃপর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

৮ মে বিবাহবন্ধনে বাঁধা পড়লেন বলিউডের তারকা সোনম কাপুর। পাত্র আনন্দ আহুজা। মুম্বই থেকে রাজকীয় বিয়ের ধারাবিবরণী দিলেন দেবারতি ভট্টাচার্য।


এ এক রাজকন্যার বিয়ের কথা। যে রাজকন্যা বাস করেন লাখ লাখ তরুণের হৃদয়ে। তিনি আজ কন্যা থেকে বধূ। এই রাজকন্যাটি হলেন অনিল কাপুরের আদরের মেয়ে বলিউডের ঝলমলে তারকা সোনম কাপুর। এখন তিনি সোনম কাপুর আহুজা। দিল্লির ব্যবসায়ী আনন্দ আহুজার পত্নী। তাই ‘ডলি কি ডোলি’ নয়, কাপুর ভিলা থেকে গত ৯ মে বিদায় নিয়েছিল ‘সোনম কি ডোলি’। কয়েক মাস ধরে সোনম-আনন্দ-এর বিয়ে নিয়ে চলছিল নানান জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে ৮ মে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন এই প্রেমিক যুগল। বিয়ের অনেক দিন আগেই সোনমের জুহুর বাংলো সেজে উঠেছিল আলোর সাজে। এই বিয়েতে শুধু কাপুর এবং আহুজা পরিবার নয়, সারা বলিউডে পড়ে গিয়েছিল সাজ সাজ রব। মেহেন্দি এবং সঙ্গীত অনুষ্ঠান থেকে বলিউডে ছিল খুশির আমেজ। সঙ্গীত অনুষ্ঠানটি সব থেকে বেশি মাতিয়ে রেখেছিলেন বাবা অনিল কাপুর। গভীর রাত অবধি অনিল তাঁর ছবির একের পর এক গানে নাচতে থাকেন। আর তাঁর তালে তাল মেলান বলিউডের দুই খান সালমান এবং শাহরুখ।

সঙ্গীতের দিন সোনম পরেছিলেন সাদার ওপর সোনালি জরির কাজের লেহেঙ্গা। সঙ্গীতের অনুষ্ঠানটি আরও আলোকিত হয়ে ওঠে তাঁর স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে। সোনমের প্রিয় ডিজাইনার আবু জানি এবং সন্দীপ খোসলা এই পোশাকটি ডিজাইন করেন। জানা গিয়েছে, এই লেহেঙ্গাটি তৈরি করতে নাকি ১৮ মাস সময় লেগেছিল। এই অনুষ্ঠানে সোনমের গলায় যে নেকলেস দেখা গিয়েছে তার পিছনে ছোট্ট একটা ইতিহাস আছে। এই নেকলেসটি সোনমকে আগে কান ফিল্ম উৎসবেও পরতে দেখা গিয়েছিল। আবার এই অলঙ্কারটি পরার আসল কারণ হল এটা সোনমের মায়ের। মা তাঁকে উপহারস্বরূপ এই নেকলেসটি দিয়েছিলেন। সোনম মায়ের শাড়ি এবং গহনা পরতে খুব ভালবাসেন। আর এই নেকলেসটি তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। তাই বিয়ের বিশেষ দিনে এই বলিউড নায়িকা বেছে নিয়েছিলেন মায়ের দেওয়া এই দুর্লভ অলঙ্কার।
মুম্বইয়ের রকডেল বাংলোতে এক বৈশাখী সকালে শিখ রীতিতে সোনম-আনন্দের চার হাত এক হয়। শুধু নায়িকা হিসেবে নয়, সোনম বলিউডের ফ্যাশন আইকন হিসেবেও জনপ্রিয়। তাই সকলে তাকিয়ে ছিলেন জীবনের এই বিশেষ ক্ষণে সোনম ফ্যাশনের কোন নতুন দিগন্ত খুলে দেবেন। বিয়ের দিন খ্যাতনামা ডিজাইনার অনুরাধা ভাকিলের লাল লেহেঙ্গা পরে সোনম যেন রাজকন্যা থেকে রাজবধূ হয়ে উঠেছিলেন। সারা দেহ আবৃত ছিল নানান অলঙ্কারে। সোনমের পোশাকের পাশাপাশি তাঁর জুতো, ব্যাগ ছিল রীতিমত চর্চার বিষয়। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বেছেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাকসেসরি ব্র্যান্ড জিমি চু-র ব্যাগ এবং জুতো। জিমি চু থেকে অর্ডার দিয়ে এই বলিউড নায়িকা নিজের মনের মতো জুতো এবং ব্যাগ তৈরি করান।

মুম্বইয়ের পাঁচতারা হোটেল লীলায় বিয়ের দিন সন্ধ্যায় রিসেপশন পার্টিতে একেবারে অন্যরকম ছিল সোনমের সাজ। লাল গোলাপির বাইরে গিয়ে ধূসর ও সাদা জিওমেট্রিক ডিজাইনের লেহেঙ্গা পরেছিলেন তার প্রিয় ডিজাইনার অনামিকা খান্নার।

এই রাতে বলিউডের ফ্যাশন কুইন সোনমকে ছাপিয়ে যান তার স্বামী আনন্দ। এই অনুষ্ঠানে ডিজাইনার রাঘবেন্দ্র রাঠোরের পোশাকের সঙ্গে আনন্দের জুতো জোড়া সকলের নজর কাড়ে। শেরওয়ানির সঙ্গে তাঁর পায়ে ছিল নাগরার বদলে স্নিকার।

নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানাতে একে একে আসেন বলিউড এবং ফ্যাশন জগতের তামাম ব্যক্তিত্ব। তারকাদের ঔজ্জ্বল্যে আরও দ্যুতিময় হয়ে ওঠে এই রাত। অমিতাভ বচ্চন, করণ জোহর, রেখা, মাধুরী, ঐশ্বর্য রাই, শাহরুখ খান, অক্ষয় কুমার, সলমন খান, আমির খান, রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট, রণবীর সিং, রানি মুখোপাধ্যায়, শাহিদ কাপুর, মনীশ মালহোত্রা, বিদ্যা বালন, কাজল, ক্যাটরিনা কাইফ, বরুণ ধাওয়ান, করিনা কাপুর, সইফ আলি খান সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন বিয়ের দিনে ও রাতে। লাল লেহেঙ্গায় সুসজ্জিত হয়ে আসেন বলিউডের ক্যাট। কচি কলাপাতা রঙের লেহেঙ্গাতে এই রাতে আরও অপরূপা হয়ে উঠেছিলেন আলিয়া। তবে সকলে অপেক্ষায় ছিলেন ফ্যাশন আইকন শাহরুখ-গৌরীর। গৌরীর পোশাকও সকলের নজর কাড়ে। এই অনুষ্ঠানে প্রথমবার বরুণ ধাওয়ান তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা নাতাশা দালালকে প্রকাশ্যে আনেন। রণবীর কাপুরের হাত ধরে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন আলিয়া। এই ছবি কোথাও তাদের প্রেমের গুঞ্জনকে আরো উস্কে দেয়। বিদ্যা বালনের পরণে ছিল দক্ষিণী সিল্ক। এই রাতে রেখার পোশাক ছিল অভিনব। সিলভার লেগিংসের সঙ্গে দক্ষিণী সিল্ক শাড়ির যুগলবন্দি বুঝিয়ে দেয় আজও তিনি বলিউডের অলিখিত ফ্যাশন সাম্রাজ্ঞী। কালো রঙের শাড়িতে কাজল হয়ে উঠেছিলেন মোহময়ী। গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবের আমেজে মেতে ছিল বি টাউন। এই সীমাহীন রাতের যেন কোনো সকাল ছিল না।

বিয়ের পর সোনম পাড়ি দেবেন ফ্রান্সে। না হানিমুনে নয়। কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে উড়ে যাবেন তিনি। এরপর সোনম ব্যস্ত থাকবেন আসন্ন ছবি ‘ভিরে দি ওয়েডিং’-এর প্রচারে। হানিমুনে যাওয়ার এখন অবকাশ নেই তার।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.