বিরোধী শিবিরে ঐক্যের হাওয়া
বিরোধী শিবিরে ঐক্যের হাওয়া

বিরোধী শিবিরে ঐক্যের হাওয়া

সালাহউদ্দিন বাবর

সরকারের প্রতিপক্ষ প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তি এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হয়। সম্প্রতি বিরোধী দলগুলো এ নিয়ে কিছু আলোচনা বৈঠকের আয়োজন করছে। খুব প্রকাশ্যে না হলেও নীরবে নিভৃতে তারা পরস্পর যোগাযোগ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একটা বৃহত্তর ঐক্যের প্লাটফর্ম রচনার প্রয়াস নীরবে চলছে। অবশ্য বিষয়টি এখনো তেমন দানা বাঁধেনি বরং আলাপ-আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। দেশের যে পরিস্থিতি তাতে সরকারের শক্তিশালী একটি প্রতিপক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর এই উদ্যোগ সফল হলে পরে তা একটি নির্বাচনী জোটে রূপ নিতে পারে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমমনাদের নিয়ে ১৪ দলীয় জোট করে নির্বাচন এবং সরকার গঠন করেছে। আসলে রাজনীতির যে হাল তাতে কোনো একটি দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা জনগণ রাখতে পারছে না। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এমন ঐক্য প্রয়োজন রয়েছে। তা ছাড়া সরকারের সাথে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শক্তি অর্জন করতে এমন ঐক্যের দরকার নিয়ে কোনো বিতর্ক হতে পারে না। বৃহত্তর ঐক্যের অর্থই হচ্ছে অধিকসংখ্যক মানুষের একাট্টা হওয়া।

অবাধ নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, দীর্ঘ দিন হলো এই দাবিটি উপেক্ষিত হয়ে আছে। দেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে হতাশাজনক অভিজ্ঞতা তাতে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ছাড়া ভিন্ন পথ নেই। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রকাশের কোনো সুযোগ থাকে না। এতে বিনা ভোটেই নতুন সরকার গঠিত হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে যাতে আর এমন নির্বাচন না হয়, তার জন্য সম্মিলিত প্রয়াস নেয়া আবশ্যক। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের চাপ সৃষ্টি করতে হবে। দেশের বিরোধী দল ঐক্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করা উচিত। পৃথিবী এখন বৃহত্তর গ্রাম। এখানে কেউ একা চলতে পারে না। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে এখন যে অবাধ নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, তার প্রতি দেশবাসীর রয়েছে অকুণ্ঠ সমর্থন। ক্ষমতাসীনদের আন্তর্জাতিক অভিমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সে মোতাবেক কর্মপন্থা গ্রহণ করা জরুরি। বাংলাদেশে অতীতে এটা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। পক্ষান্তরে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সেসব নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

আগামীতে যদি প্রশ্নহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশা করা হয়, তবে অতীতের মতো একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। ইতোমধ্যে এই দাবি জোরালোভাবেই উঠেছে। বিএনপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দলীয় সরকারের পরিবর্তে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কথা বলছে। অন্যান্য দলও ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেছে। বলতে গেলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটি বৃহত্তর ঐকমত্য গঠিত হয়েছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের ব্যাপারে। অবশ্য ক্ষমতাসীনরা এই দাবিতে সম্মতি দিতে নারাজ। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, নির্বাচন তাদের অধীনেই হবে। সবাই নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। এটা চাওয়াই স্বাভাবিক। তাহলে এ বিতর্ক জিইয়ে না রেখে জনমতের প্রতি আস্থা রেখে নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়াই উচিত। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকেও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দৃঢ়তার একটি প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশের সংবিধান পুরো ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কমিশনকে দিয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন করেছে, তার কোনোটিই প্রশ্নহীন নিরপেক্ষ হয়নি। কমিশন ক্ষমতাসীনদের কাছে নতি স্বীকার তাদের মতো করে দায়িত্ব পালন করেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিকশিত না হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন অনেকখানি দায়ী। যেকোনো নির্বাচনের সময়ই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকেনি। এই দুর্বলতার কারণে পেশিশক্তি নির্বাচন জনমত প্রকাশের প্রক্রিয়াকে ভণ্ডল করে দিয়েছে। এ-জাতীয় নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনা মোতায়েন করার দাবি বরাবর উঠেছে। কিন্তু অশুভ শক্তি এই দাবিকে কার্যকর করতে বারবার বাধার সৃষ্টি করেছে, নানা অজুহাত দেখিয়েছে। এই শক্তি নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে নানা ছলছুতার আশ্রয় নিয়ে থাকে।

এবারো নির্বাচন যদি ভালো না হয় তবে দেশে মারাত্মক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। আর সে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য অর্থনৈতিক সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থার অবনতি হতে ঘটবে। বাংলাদেশ সবেমাত্র উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে দেশ এগোচ্ছে তাতে এখন শান্তি স্থিতিশীলতা বজায় থাকাটা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যদি সমস্যা হয় কিংবা নির্বাচন ভালো না হয় তবে দেশের পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। তা ছাড়া নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক না হয় তবে দেশে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন কায়েম হবে না। বাংলাদেশে শিল্পে বিনিয়োগ নেই, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা শান্তিশৃঙ্খলা তথা উপযুক্ত পরিবেশ বজায় না থাকলে নতুন শিল্প গড়তে আসবে না। বাংলাদেশ বিশ্বের চরম বেকারত্বের দেশের অন্যতম। বেকারত্বের সাথে দারিদ্র্যের এবং সামাজিক অবক্ষয়ের সম্পর্ক জড়িত। ছোট একটি ভূখণ্ডে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস, হাজারো সমস্যা নিয়ে তারা জীবনযাপন করে। এই সমস্যা কমাতে না পারলে জনগণের রোষে সব কিছু তছনছ হয়ে পড়বে। রাজনীতিকরা এখন শুকনো গলায় নানা আশার কথা শোনান, কিন্তু বাস্তবে তাদের ভূমিকা ভিন্ন।

এ দিকে সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়নের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে যে পাশাপাশি চলতে হয়, এটা তাদের আচরণে নেই। গণতন্ত্র যে উন্নয়নের সোপান রচনা করে সে বিষয়টিই এখন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণতন্ত্রের শুভযাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্র মরুপথে পথ হারিয়ে ফেলে। এরপর ১৯৯১ সালে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় কিন্তু তা পরে আটকে যায় ২০১৪ সালে এসে। সেই অবস্থা এখনো বজায় রয়েছে। গণতন্ত্র থাকলে উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু এখন এই সমন্বিত রূপটি নেই। গণতন্ত্র না থাকার ফলে একদলীয় জাতীয় সংসদ হওয়া, সংসদের জবাবদিহি নেয়ার যে নৈতিক শক্তি তা হারিয়ে গেছে। সরকার জনগণের ওপর নির্ভর করে চলে না, রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্রের ওপর তাদের ভরসা। ফলে ক্ষমতা পেয়ে প্রশাসন আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলে। যে সমাজে জবাবদিহিতা যত কম সেখানে তত বেশি দুর্নীতি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তলানীতে রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার অনুশীলন নেই বিধায় সমাজে নানা ধরনের অপরাধপ্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অর্ধেক নাগরিক নারী। অথচ সাম্প্রতিককালে নারী নির্যাতন ও নারীদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশে নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে সোচ্চার বক্তব্য দেয়া হয়। অথচ নারী নির্যাতনের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাশালীরা জড়িত। ফলে তারা শাস্তির আওতার বাইরে থাকে।

ক্ষমতাসীনরা একাদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারবিরোধী প্রতিপক্ষকে প্রচারের জন্য মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না। সব পক্ষ যদি নির্বাচনী ময়দানে সমান সুযোগ না পায় তবে নির্বাচন কেমন করে নিরপেক্ষ হবে। সে ক্ষেত্রে তা হয়ে যাবে অনেকটা একতরফা। এ দিকে আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। দুই স্থানেই বিএনপি প্রার্থীর ভালো করার দাবি করেছে। তারা আরো বলছে, উভয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা হেরে যাবে বলে ধারণা করে নির্বাচন আটকে দেয়া হয়েছে। পরাজয়ের সম্ভাবনায় যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন স্থগিত করা হয়, জাতীয় নির্বাচন যদি ভালো না করার অবস্থা সৃষ্টি হয় তবে সে ক্ষেত্রে কী করা হবে। কারণ জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে করার ব্যাপারে একটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো বিশেষ একটি দলের জন্য সংবিধান যদি বাধাগ্রস্ত হয় তবে দেশের পরিণতি কী দাঁড়াবে? দেশে একটা বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। জানি না আমরা কোন পথে হাঁটছি। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা বড় ধরনের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার। নির্বাচনে যে রায়ই হোক না কেন তার প্রতি আনুগত্য করাই হচ্ছে গণতন্ত্রের শিক্ষা। গণতন্ত্রের অর্থই হচ্ছে বৃহত্তর জনতার মতামত। জনগণের রায়েই কোনো দল ক্ষমতায় যাবে আবার ক্ষমতা থেকে সরবে। ক্ষমতাসীনরা যদি ভিন্ন পথ ধরে, তবে ২০১৪ সালের মতো হতে পারে। অথবা নির্বাচনে পেশিশক্তির চর্চা করে বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হবে। অথবা অসাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। এ দিকে ক্ষমতাসীন সরকারের নেতাদের ভূমিকা, বক্তব্য-বিবৃতি থেকে এমন ধারণাই সৃষ্টি হচ্ছে যে নির্বাচনে তারাই বিজয়ী হবে। জনগণের সমর্থন বা ভোটের বিষয়টি তাদের বক্তব্যে পাওয়া যায় না।

প্রকৃতপক্ষে দেশ এখন এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। চতুর দিকে সমস্যার স্তূপ, অথচ যাদের ওপর এসব নিরসনের দায়িত্ব তারা নির্বিকার। অনৈতিকতার চর্চা এতটা ব্যাপকতর হয়েছে যে তা রাষ্ট্র সমাজকে গ্রাস করতে বসেছে। সততা এবং কর্তব্যপরায়ণতা ওপর থেকে নিচে আসে। এখন তা আসে না। নৈতিকতার অভাব সর্বত্র অর্থনৈতিক অনিয়ম দুর্নীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এসব অনাচার সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশি। এমন অব্যবস্থা নিরসনের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তারা কাজ করছে বটে, কিন্তু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তাদের পথচলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও অনিয়ম দুরাচার চলতে থাকলেও সেখানে তারা হাত বাড়াতে পারে না। এখন সৎ মানুষের চেয়ে অপরাধীরা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তাদের হাত এতটা সম্প্রসারিত হতে পারে যে তারা সর্বত্র হাত বাড়াতে পারে। দেশে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন হওয়া উচিত আর রাজনীতিবিদদের এর নেতৃত্ব দিতে হবে। খোদ রাজনীতিতেই একটি সততার অভিযান থাকা উচিত। দেশে যে ক্রান্তিকালের কথা বলা হয়েছে, তার প্রতিবিধানের জন্য সমাজবিজ্ঞানীদের এগিয়ে এসে দিকনির্দেশনা দেয়ার সময় এসেছে। আর এসব কারণে যদি দেশে অন্ধকার নেমে আসে, তা থেকে রক্ষা পেতে হলে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিরোধী শিবিরের ঐক্য অবশ্য রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যও জরুরি। এমন ঐক্য বহু বিষয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারে। যেমন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় একটি নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয় নিয়ে দেশে বিতর্ক চলছে। সবাই যদি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রশ্নে একমত হয়, তবে নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারের পরিবর্তে একটি নির্দলীয় সরকার কায়েম করা যেতে পারে। এ দিকে সরকারি দল ভিন্ন আর প্রায় অন্য সব দল নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারের পরিবর্তে নির্দলীয় সরকার চায়। অতীতে এমনটি থাকায় সে সময় ভালো নির্বাচন হয়েছে। তবে এ নিয়ে এখন মতপার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি জাতীয় সংলাপ হতে পারে। খোলা মন নিয়ে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে এমন সংলাপে সবার যোগ দেয়া উচিত। রাষ্ট্রপতি অথবা জাতীয় সংসদের স্পিকার এ ধরনের সংলাপের আয়োজন করতে পারেন। সংলাপে যদি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয় তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের একটি সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করতে পারেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.