ব়্যাম্বোর ‘বিস্ফোরক তীর’ এবার মাওবাদীদের হাতে
ব়্যাম্বোর ‘বিস্ফোরক তীর’ এবার মাওবাদীদের হাতে

ব়্যাম্বোর ‘বিস্ফোরক তীর’ এবার মাওবাদীদের হাতে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

৯০-এর দশকের আফগানিস্তান। সোভিয়েত হানাদারদের সঙ্গে মরণপণ লড়ছে আফগান মুজাহিদরা। তাদের মদতে পাহাড়ি দেশে মজুত মার্কিন ওয়ান ম্যান আর্মি জন ব়্যাম্বো (সিলভেস্টার স্ট্যালন)। তার পছন্দের হাতিয়ার ‘এক্সপ্লোসিভ অ্যারো’ বা ‘বিস্ফোরক তীর’। এই অস্ত্রের মারণ ক্ষমতা ‘ফার্স্ট ব্লাড’ ছবিটির দৌলতে প্রায় সকলেই জানেন। তবে এবার রিল নয় রিয়েল লাইফে ভারতের মাওবাদীদের হাতে উঠেছে ‘এক্সপ্লোসিভ অ্যারো’।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘন জঙ্গলে নিরাপত্তারক্ষীদের নিশানা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘এক্সপ্লোসিভ অ্যারো’। স্ট্যালনের হাতে যে তীর দেখা গিয়েছিল তা স্টিলের তৈরি। অস্ত্রটির মাথায় বাঁধা থাকে শক্তিশালী বিস্ফোরক। তা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, এর আঘাতে হেলিকপ্টার পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। তবে মাওবাদীদের কাছে অতটা উন্নত প্রযুক্তি এখনো পৌঁছায়নি। তীরের ডগায় নিম্নমানের বিস্ফোরক বেঁধেই আপাতত হামলা করছে মাওবাদীরা। ওই অস্ত্র ব্যবহারের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে অস্ত্র লুট করা। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়-সহ মাও উপদ্রুত রাজ্যগুলিতে এই পন্থা নিয়েছে তারা। গত বছর এপ্রিল মাসে সুকমায় মাও হামলায় নিহত হন ২৫ জন সিআরপিএফ জওয়ান। ওই হামলায় ‘এক্সপ্লোসিভ অ্যারো’ ব্যবহার করে মাওবাদীরা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ বাজিতে ব্যবহৃত বারুদই ব্যবহার করছে মাওবাদীরা। এখন পর্যন্ত ‘হাইগ্রেড এক্সপ্লোসিভ’ ব্যবহার করেনি তারা। এর কারণ বিস্ফোরণের তীব্রতা বেশি হলে ভারতীয় জওয়ানদের রাইফেল, মেশিনগানের মতো অস্ত্রগুলি অকেজো হয়ে যায়। মাওবাদীদের আসল উদ্দেশ্য হাতিয়ার লুট করা। তাই কম ক্ষমতার বারুদই পছন্দ তাদের। নিরাপত্তারক্ষীদের টহলদারী বাহিনীকে ঘিরে ধরে একের পর এক বিস্ফোরক তীর ছুড়ে যায় তারা। ফলে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ায় সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তির। ওই সুযোগে হকচকিয়ে যাওয়া জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি করে তারা। কেড়ে নেয় অস্ত্রশস্ত্র। এর মধ্যেই একাধিকবার এভাবে অ্যামবুশ চালিয়েছে মাওবাদীরা।

একটি রিপোর্টের মতে শুধু ‘এক্সপ্লোসিভ অ্যারো’ নয়, মাওবাদীরা রকেট ও আইইডি বানাতেও সিদ্ধহস্ত। সিআরপিএফয়ের স্নিফার ডগ বা কুকুরদের ধাপ্পা দিতে গোবরে বোমা লুকিয়ে রাখছে মাওবাদীরা। গত বছর ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডে ঘটা বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় সিআরপিএফয়ের দুই স্নিফার ডগ। ‘ওসামা হান্টারস’ নামে বিখ্যাত ছিল ওই দুই সারমেয়। মাওবাদীদের এহেন কৌশলে ভয়াবহ রকমের উদ্বিগ্ন নিরাপত্তারক্ষীরা। তবে পালটা কৌশল অবলম্বন করেছে সরকারি বাহিনীও।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.