বেতাগীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং বন্ধ 

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা

বেতাগীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৬ বছর ধরে স্কুল ফিডিং বন্ধ রয়েছে। এতে উপকূলীয় এ উপজেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাশে ধরে রাখতে পারছে না স্কুল কতৃপক্ষ। ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থীর অনুশীলনের মেধা একই সাথে ঘটছে ফলাফলের বিপর্যয়। ফলে দিন দিন শিক্ষার মান কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার জনসংখ্যা অধ্যূষিত এ উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ২০০৯ সালে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হয়। অজ্ঞাত কারনে ২০১১ এর এপ্রিল মাসে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আর কোন ধরনের স্কুল ফিডিং-এর বব্যস্থা করা হয়নি বলে জানা যায়।
বেতাগী উপজেলায় ১২৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার ৩২১ জন শিক্ষার্থী সকাল ৯ঃ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ঃ৩০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় শ্রেণীকক্ষে পাঠগ্রহন করে।অনেক শিক্ষার্থীর বাড়ি দূরে অবস্থিত হওয়ার কারনে বিরতির সময় খাবার খাওয়ার জন্য বাসায় যেতে পারে না। আর তাই অনেক সময় ক্ষুধায় ক্লান্ত হয়ে পরে অনেক শিক্ষার্থী এমনটাই জানা যায় স্কুল কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে।মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা: তমা আক্তার বলেন,‘ক্ষুধায় ক্লাশে আমাগো মন বসেনা’ আর আমাদের কাছে অত বেশি টাকাও থাকে না যে দূপুরে পেট পুরে খাবার খাবো। বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা: জেসমিন আক্তার বলেন, স্কুল ফিডিং না থাকায় শিক্ষকদের পক্ষে শ্রেনি কক্ষে কোমলমতি শিশুদের ধরে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে। তাই সংশ্লিস্টদের এগিয়ে আসা উচিত।
সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, স্কুল ফিডিং চালু হলে শিশুরা লেখা পড়ায় বেশ মনোযোগী হবে ও দিনের শেষ বেলায়ও তাদের ক্লাশে শতভাগ পাঠদান করা সম্ভব হবে । তাছাড়া আমাদের বেতাগী উপজেলার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি চালু করা বাঞ্ছনীয়।
২০১৫ সালে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ উপজেলা গভার্ণ্যান্স প্রজেক্ট (ইউজেডজিপি)‘র সহযোগিতায় শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বিষয়ক এক কর্মশালায় গুরুত্বারোপের প্রেক্ষিতে সংশ্লিস্ট বিভাগে লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়। ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব পাশ্ববর্তী বামনা উপজেলায় সফরকালে তার নিকট জোরালোভাবে দাবি জানানো হয়। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: হেলাল আহম্মেদ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুল ফিডিং কি ধরনের ভূমিকা রাখে এ বিষয় একটি জরিপের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনিও একই কথাব্যক্ত করে সরকারের নিকট জোড়ালো সুপারিশ করেন। তবুও অধ্যাবধি কার্যক্রম শুরু হয় নি ।
উক্ত ব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুল ফিডিং এর কোন বিকল্প নেই। আমদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাজীব হাসান জানান, এখানকার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে স্কুল ফিডিং চালু করা জরুরী হয়ে পরেছে কিন্তু এখন প্রর্যন্ত কোন ধরনের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয় নি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির বলেন, এবিষয় কর্মশালা করে সংশ্লিস্ট বিভাগে লিখিত সুপারিশ পঠিয়েছিলাম কিন্ত এখনো কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.